মাদক দ্রব্য কি,তা রুশ সমাজ শুধুমাত্র শুনেই জানে না.পরিসখ্যান জানায় যে,প্রতিবছর হিরোইনের কারণেই রাশিয়াতে ২০ হাজার মানুষ মারা যায়.বেশী দিন হয় নি রাশিয়ার উরাল রাজধানী ইকিতিরিনবুর্গে তরুন সমাজে মাদকাসক্ত ভয়ানক অবস্থার রুপ নিয়েছে.ইকিতিরিনবুর্গের দুমার প্রতিনিধি ইবগেনী রইজমানোবকে প্রধান করে ইতিমধ্যে একটি ফন্ড গঠন করা হয়েছে.ফন্ডের নাম দেওয়া হয়েছে মাদকবিহীন শহর.ফন্ডের প্রধান  ইবগেনী রইজমানোবকে রেডিও রাশিয়াকে তাদের মাদকবিরোধী সংগ্রামে কথা জানাচ্ছেন--ফন্ড মাদকবিহীন শহর যার সভাপতি হিসাবে আপনি আছেন,ফন্ডটি গঠন করার ক্ষেত্র কোন বিষয়টি কাজ করেছে-মাদক বিষয়ে আপনার নিজের অভিজ্ঞতা নাকি পরিচিতজনদের মাদকাসক্ত দেখে?অথবা শুধুমাত্র সন্তানদের ভবিষ্যত বিষয়ে ভয় পেয়ে ? ইবগেনী রইজমানোবক বলেন,মাদকবিহীন শহর ফন্ড গঠন করার কারণ হচ্ছে ইকিতিরিনবুর্গের বাসিন্দাদের মাদকব্যবসা পরিহার করা.১৯৯০ সনের দিকে এখানে রাস্তাঘাটে ,এমনকি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মাদকদ্রব্য কেনাবেচা হত.পুরো শহরই যেন একটি মাদক কেনাবেচার একটি ছোট গ্রামে পরিনত হয়েছিল এবং প্রতিটি শহরেই তা বিক্রি হত যা সবাই জানত.অবশেষে শহরবাসীরা মাদকবানিজ্যের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে.বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে ঐ সব মাদকের আকড়া,মাদক কেনাবেচার সাথে জড়িত এমন ১০ হাজার লোকজনকে ঐ স্থান থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়.রাশিয়াতে মাদকের বিরুদ্ধে এটাই সবথেকে বড় কোন আন্দোলন.আমাদের বিশেষ সংরক্ষিত নাম্বারে লোকজন যখনই কোন মাদক কোনা-বেচার খবর পায় তা আমাদেকরে জানায়.আমরা অনেক বিশাল পরিসংখ্যান সংগ্রহ করেছি এবং এ নিয়ে স্থানীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে নিয়ে কাজ করে যাচ্ছি.বর্তমানে এই ফন্ডের রয়েছে প্রায় ৩০০০ এরও বেশী মাদক বিরোধী কর্যক্রম.আমরা সবাইকে দেখাচ্ছি,ব্যাখ্যা করছি এবং আমরা জয়ী হতে পারব.২য় বিষয়টি হচ্ছে আমরা তরুনদের ধ্যান-ধারনার পরিবর্তন আনতে পেরেছি.

-মাদকবিরোধী আন্দোলনের সময় কি কোন ধরনের হতাহতের ঘটনা কি ঘটেছিল?.

উত্তরে ইবগেনী রইজমান বলেন, মাদক ব্যাবসা একটি নিরব ব্যাবসা.তবে যখন মাদক ব্যাবসার বিরুদ্ধে অবস্থান করা হয় তথন জনগনেরও সহায়তা পাওয়া যায়,তারা সবাই সঠিকভাবে বোঝে এবং বিপক্ষে অবস্থান করে না.

মাদকাসক্তদের চিকিত্সা বিষয়ে আমাদের কি কিছু বলতে পারবেন ?.

আমাদের এখানে ৩টি মাদক নিরাময় কেন্দ্র আছে.তাদের কার্যক্রম হল-আসক্তকে সম্পর্ন বিশ্রামে রাখা হয় যেন ও  স্বাভাবিকতায় ফিরে আসে এবং তার ভিতর আসক্ত সৃষ্টিকারী প্রক্রিয়ার যেন মৃত ঘটে.সবথেকে গুরুত্বপূরর্ণ হচ্ছে দীর্ঘ সময় বিরতি নিয়ে মাদক ব্যবহার করতে হবে.যেন একেবারে মাদক সেবন থেকে বিরতা না থাকে.

-এমন কি হয়েছে যে কখনও যে, লোকজন মাদক ব্যবহার ছেড়ে দিয়েছে কিন্তু আবারও তাদের আসক্তের প্রবনতা দেখা দিচ্ছে এবং ফন্ডের কাছে সাহায্যের জন্য আসছে,আপনাদের কর্তব্য তখন কি হয়.

সবাই বলে, হিরোইনের জন্য একমাত্র মৃত্যুই অপেক্ষা কর.আমরা এমন পরিস্থাতিতে তাদেকরে ফিরিয়ে দেই না এবম তাদের যথাসম্ভব সাহায্য করার চেষ্টা করি.তবে  আমি কিছু লোকদের চিনি যারা প্রথম বারেই এবং চিরদিনের জন্যই মাদকসেবন ত্যগ করেছে এবং তা থেকে বিরত থাকতে পেরেছে.সৃষ্টিকর্তার কৃপায় ,তাদের সংখ্যাও অনেক.

-কিছুদিন পুর্বে রাশিয়া আফগানিস্তানের মাদকের বিরুদ্ধে সংগ্রামকে শক্তিশালী করতে বিশ্ব সম্প্রদায়কে একত্রিত করেছে.এছাড়া সম্প্রতি রাশিয়ার জাতীয় মাদকবিরোধী নীতিমালা কর্যকর করা হয়েছে.রাশিয়াতে মাদকবিরোধী সংগ্রামো বিজয়ের জন্য আপনি কি প্রস্তাব করেছিলেন ?মাদকবিহীন শহর ফন্ডের প্রধান ইবগেনী রইজমান বলেন, আফগানিস্তান বিষয়ে আমার পরিষ্কার ধারনা আছে.সেখানে বিশ্ব সমাজ কিভাবে তাদের মতামত জানাচ্ছে,তাও আমার জানা আছে.আমাদের দেশ রাশিয়ার জন্য কি হওয়া উচিত তাও কমবেশী পরিষ্কার.প্রথমত-মাদক চোরাচালানিদেরকে যাবতজীবন কারাগারে বন্ধী রাখার মত আবশ্যকীয় সিদ্ধান্ত.এই খানে রাষ্ট্রের দৃষ্টিভঙ্গি কঠোর হতে হবে.আমি মনে করি যারা মাদক বেচা-কেনা করে তারা রাশিয়ার শত্রু.আমাদের দেশে আসরা কাউকে মাদক কেনা-বেচা করতে দিব না.দ্বিতীয়ত-যে সব অঞ্চল থেক মাদক দ্রব্য রশিয়াতে প্রবেশ করছে সেই সব দেশে রাশিয়ার ভিসা প্রদান কঠোর করতে হবে.উদাহরনস্বরুপ-সবাই পরিষ্কারভাবেই জানে যে,আফগানিস্তানের হিরোইন রাশিয়াতে প্রবেশ করে তাজিকিস্তান হয়ে এবং আমাদের দেশে তা বহন করে নিয়ে আসে তাজিকিস্তানের নাগরিকরাই.৩য়- মাদকবিরোধী কর্যক্রম আরও শক্তিশালী করা.-এই ফন্ডের কার্যক্রম কি রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে বিবেচনা করা হয়?ইকিতিরিনবুর্গের দুমার প্রতিনিধি ও মাদকবিহীন শহর ফন্ডের প্রধান  ইবগেনী রইজমান বলেন,পুরোপুরিই.যারাই আমাদের এই বিষয়ে কাজ করছে তারা আমাদের পরিসংখ্যান লিপি,সাহায্য ও সহযোগিতা পাচ্ছে.যেহেতু বিষয়টি আমাদের দেশের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন.তাই আমাদের সাথে সবাই সম্মানবোধের সাথেই কথা বলে. আমি কোথাও কোন বিপরীত ভাব দেখিনি.