সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা(এসসিও) এর ১০ম শীর্ষ সম্মেলনে কিরগিজস্তান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করা হয়.সর্বসম্মতিক্রমে অনুমোদিত ঘোষণাটিতে কিরগিজস্তানের জনগনের প্রতি সহানুভূতি ও দেশটিতে বিরোধী দলের সরকার পরিচালনায় আসার পর সামগ্রিক অবস্থান বিষয়ে আলোকপাত করা হয়.এই ঘোষণাপত্র গুরুত্বপূর্ণ স্থান পায় যখন বিগত কয়েকদিন করিগিজস্তানের দক্ষিনে অশ শহরে খন্ড খন্ড বিশৃঙ্খল ঘটনায় হতাহতের খবর আসে.সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার সদস্য রাষ্ট্রসমূহ হল –রাশিয়া,চীন,কাজাকিস্তান,তাজিকিস্তান,উজবেকিস্তান এবং স্বংয় কিরগাজিস্তান.দেশগুলোর রাষ্ট্রপ্রধানরা সবাই একমত হয়েছে যে, কিরগিজস্তানে শান্তিময় পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনবোধে সংস্থার পক্ষথেকে সবধরনের ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে.এই বিষয়ে এসসিওএর কি করা উচিত সে বিষয়ে বলেছেন রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি দিমিত্রি মেদভেদেভ.তিনি বলেন-অবশ্যই সঠিক দিকনির্দেশনার মাধ্যেমে রাষ্ট্র উন্নয়নের ধারা নিয়ে কিরগিজস্তানের উন্নয়ন আনতে হবে.দিমিত্রি মেদভেদেভ এসসিওএর পক্ষথেকে কিরগিজস্তানে একটি পর্যবেক্ষক দল পাঠানোর প্রস্থাব করেন যা কিরগিজস্তানের নতুন পরিবর্তন আনা সংবিধান (যা ২৭ জুলাই থেকে কার্যকর হবে) বিষয়ে গবেষনা করে প্রতিবেদন তৈরী করবে.এই দেশটি আমাদের সাংহাই সহযোগিতা সংস্থাভুক্ত একটি দেশ,আমাদের ইউনিয়িনভুক্ত এবং বন্ধুত্বপূর্ন রাষ্ট্র.রুশ রাষ্ট্রপতি উল্লেখ করেন যে,তাই আমরা স্বাভাবিকভাবে এই বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করছি এবং চাচ্ছি যত দ্রুত সম্ভব এই সমস্যার সমাধান করে আধুনিক রাষ্ট্র গঠেনের চিন্তা নিয়ে সামাজিক ও অর্থনৈতিক দিকে দিয়ে উন্নয়ন নিয়ে আসবে.তাশখন্দের এই সম্মেলনে একই সাথে গুরুত্ব দেওয়া হয় আফগানিস্তানের মাদক পাচারের বিষয়ে.আফগানিস্তান সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার একটি পর্যবেক্ষক রাষ্ট্রে.রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি দিমিত্রি মেদভেদেব এসসিও কে আগামী ২০১১-২০১৬ পর্যন্ত মাদকবিরোধী একটি কর্যপ্রনালী তৈরী করে তা বাস্তবায়নের প্রস্তাব রাখেন.তিনি বলেন-সংলাপ শুধুমাত্র সে বিষয়েই নয় যে , মাদক আমাদের দেশের জনগনের স্বাস্থ্যহানী করছে বরং তা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে আগামী ভবিষ্যত জনগনকেও আসক্ত করবে.এই সম্পর্ণ কার্যক্রম যা রুশ ফেডারেশনের কাছে অনেক বেশী গুরুত্বের.এটি পরিষ্কার যে, অনেক আগেই মাদরপাচার যা আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদে অন্যতম ইন্ধনের কাজ করে চলছে এবং তা সবখানে,সবদেশে.তাই আফিম ও হেরোইন শুধুমাত্র আঞ্চলিকভাবে সমস্যা সৃষ্টি করছে না বরং তা বিশ্বেও অনেক বড় সমস্যা হয়ে দাড়িয়েছে.তাই কার্যক্রমও নিতে হবে বিশ্বব্যপী.দেশের জন্য ভাল বা কি খারাপ তা বড় কথা নয় বরং কাজ করতে হবে সবাইকে মিলে একসাথে.সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার শীর্য বৈঠকে নেতারা আলোচনা এই দুটি সমস্যা অর্থাত কিরগিজস্তান পরিস্থিতি এবং আফগানিস্তানের মাদক পাচার বিষয়ে আলোচনা করতে ভূলে যায় নি.নতুন সদস্য রাষ্ট্রের অন্তর্ভুক্তকরন বিষয়টিও এবারের সম্মলনের প্রধান কর্যক্রমের মধ্যে ছিল.এই ক্ষেত্রে সদস্য রাষ্ট্রে উন্নীত হওয়ার ক্ষেত্রে এগিয়ে থকবে ইউরোএশিয়া ভূখন্ডের দেশসমূহ.আরও একটি শর্ত হচ্ছে ঐ দেশ যেন জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের কোন নিষেধাক্ষা প্রস্তাবের অন্তর্ভুক্ত নয়.ঠিক যেমন ইরান.সেই দিক থেকে ইরান এখনও তার পর্যবেক্ষকের তালিকা থেকে পূর্ণমাত্রার সদস্য রাষ্ট্র হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে না.ওদিকে পাকিস্তান ও আফগানিস্তান সব শর্তই পূরন করছে.যেকোন দিক থেকেও  সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা চাইবে যে,তাদের সদস্যভূক্ত দেশের সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পাক এবং ধীরে ধীরে তা আঞ্চলিক সংস্থা থেকে বিশ্বে সংস্থায় পরিনত হবে.