মস্কো আন্তর্জাতিক সমাজকে মাদক বিরোধী সহযোগিতা সংগঠন তৈরী করতে আহ্বান করেছে, যা এই মরন বিষের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করবে. শুধু মাত্র এই ভাবেই আফগানিস্থানের হেরোইন, যা আজ দেশের গণ্ডী ছাড়িয়ে সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছে, তাকে থামানো সম্ভব. এই মত ব্যক্ত করেছেন মস্কো ওয়াশিংটনের মধ্যে ভিডিও কনফারেন্সের সময়ে মার্কিন ও রুশ বিশেষজ্ঞরা.     বিশ্বে আজ আফগানিস্থান হেরোইন উত্পাদনের ক্ষেত্রে বিতর্কের উর্দ্ধে উঠে যাওয়া নেতৃ স্থানীয় দেশ. গত বছরে মধ্য এশিয়ার এই দেশে দশ বছর আগে সারা বিশ্বে যত গুরুতর মাদক তৈরী হত, তার দুই গুণ বেশী মাদক উত্পাদিত হয়েছিল. আফগানিস্থানের হেরোইনের বন্যা আজ ইউরোপীয় সংঘেও এসেছে. ইউরোপীয় সংঘ বর্তমানে বিশ্বের এক নম্বরে রয়েছে আফিম জাত দ্রব্যের ব্যবহারে. আফিম রাশিয়ার জন্যও মাথা ব্যাথার কারণ হয়েছে, বিশেষত দেশের দক্ষিণ অঞ্চলে. হেরোইন পাচারের টাকা থেকে রাশিয়া এবং ইউরোপে পাওয়া যাচ্ছে ১৭ বিলিয়ন ডলারের হিসেব. জানা আছে যে, এই বিলিয়ন থেকে খুব সামান্য এক অংশ যা আফগানিস্থানের চাষী পাচ্ছে, তা ছাড়া পুরোটাই পাচ্ছে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়া অপরাধী ও সন্ত্রাসবাদী সংস্থা গুলি.    রাশিয়ার জন সংখ্যা, অভিবাসন এবং আঞ্চলিক উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের পর্যবেক্ষক সভার প্রধান ইউরি ক্রুপনভ আফগানিস্থানের মাদক উত্পাদনকে এক বিশ্ব জোড়া সমস্যা বলে আখ্যা দিয়ে বলেছেন:    "আমরা এক বিশ্ব জোড়া কাণ্ডের সম্মুখীন হয়েছি. আফগানিস্থানে বিশ্বের শতকরা ৯৫ ভাগ আফিম উত্পাদিত হচ্ছে, আর তার শতকরা ৬৫ ভাগ হচ্ছে শুধু গেলমেন্দ প্রদেশে. আমরা এর পুরো দায়িত্ব কিছুতেই আফগানিস্থানের সরকারের কাঁধে ফেলে দিতে পারি না. আফিমের চাষ ধ্বংস করতেই হবে, এমনকি তা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যে মতের যত অমিলই থাকুক না কেন. যদি আমরা এটা না করি, তবে আফগানিস্থানের আফিমের সমস্যার সমাধান চির দিনের জন্য দূরে সরিয়ে দেবো.    মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আফগানিস্থানের রাজদূতাবাসের রাজনৈতিক উপদেষ্টা আশরাফ হাইদারি তাঁর মত প্রকাশ করে বলেছেন যে, বেআইনি মাদক উত্পাদনের সমস্যার সঙ্গে লড়তে হলে তা করতে হবে আন্তর্জাতিক স্তরে. তিনি উল্লেখ করেছেন যে, বর্তমানে আফগানিস্থানে সংগঠিত অপরাধ ও দুর্নীতির চক্রের সঙ্গে লড়াই হয়েছে জোটের সৈন্যদের অন্যতম প্রধান কাজ".    আরও একটি আফগানিস্থানের হেরোইন প্রসারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা হল মাদক পাচার চক্রের চাঁই দের কে ধরা. জানাই আছে যে, এই সব লোকেরা আফগানিস্থানের আফিম চাষের জমির মালিক, অথচ অন্যান্য দেশে তারা থাকে. তাদের কে ধরা উচিত এবং দরকারে সারা বিশ্বে তাদের নামে হুলিয়া দেওয়া উচিত, তাই অন্ততঃ ইউরি ক্রুপনভ মনে করেন.    সারা বিশ্বে আফগানিস্থানের মাদকের থেকে বছরে প্রায় এক লক্ষ লোক মারা যাচ্ছে. এটা জাপানের হিরোসিমার পারমানবিক বোমাতে যত লোক মারা গেছেন, তার থেকেও বেশী. আফগানিস্থানে এত রকমের সমস্যা জট পাকিয়ে আছে, যা বিশ্বের সমস্ত মিলিত শক্তি একমাত্র সমাধান করতে পারে. এই প্রশ্নের সমাধানে ৯ ও ১০ জুন মস্কোতে আন্তর্জাতিক ভাবে "আফগানিস্থানের মাদক উত্পাদন – বিশ্ব সমাজকে হুমকি" নামে এক সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে. তাতে রাষ্ট্রসংঘ, ন্যাটো ও যৌথ নিরাপত্তা সংস্থার দেশ গুলি অংশ নেবে. যে কোন ভাবেই সবাই মিলে এই সমস্যা সমাধান করা সম্ভব হতে পারে, শুধু তার জন্য আফগানিস্থানে মাদক উত্পাদন সম্পূর্ণ ভাবে বন্ধ করা দরকার.