মস্কোতে ৩রা জুন মঙ্গল – ৫০০ নামের পরীক্ষার তৃতীয় অধ্যায় শুরু হতে চলেছে. এটি লাল গ্রহে পাইলট সমেত যাত্রার এক সবচেয়ে বেশী কাছাকাছি অবস্থার কৃত্রিম যাত্রা. এই যাত্রার অভিযাত্রীরা আগামী ৫২০ দিন একটানা বিশ্বের সঙ্গে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় থাকবেন, যা সত্য যাত্রার সময়ে করতে হবে.    এই প্রকল্পটি রাশিয়ার বিজ্ঞান একাডেমীর চিকিত্সা – জৈব বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট করছে. প্রথম দুটি অধ্যায়ে একটানা ১৪ দিন এবং ১০৫ দিনের বিচ্ছিন্ন অবস্থায় থাকার পরীক্ষা আগেই হয়েছিল.    তৃতীয় ও শেষ অধ্যায়ে মানুষ ও পরিবেশ প্রোগ্রাম অনুযায়ী অনুসন্ধান করে দেখা হবে স্বাস্থ্য ও কর্ম ক্ষমতা মহাকাশচারীদের এত দীর্ঘ সময় ধরে বিচ্ছিন্ন থাকার পর কত টুকু ভাল থাকে. প্রকল্পের উপ প্রধান ইভগেনি দিওমিন বলেছেন:    "দীর্ঘ সময় বদ্ধ জায়গায়, সম্পূর্ণ ভাবে নিজেদের উপর নির্ভর করে ও বিশ্বের সঙ্গে যোগাযোগ যথেষ্ট দেরীতে পাওয়া যাবে এমন পরিস্থিতিতে স্বল্প উপাদানের উপর ভরসা করে কেমন থাকতে পারেন মহাকাশচারীরা সেই টাই পরীক্ষার বিষয়. এখানে খুব বড় মানসিক অবস্থার পরীক্ষা করা হবে, প্রায় দশ রকমের বেশী পরীক্ষা থাকছে. এই বৈজ্ঞানিক পরীক্ষাতে ১০৫ টি পরীক্ষা করা হবে, এই পরীক্ষা শুধু রাশিয়া থেকেই করা হবে না, তার মধ্যে ইউরোপীয়, ইতালীয়, স্পেনের, জার্মানীর ও মালয়েশিয়ার পরীক্ষাও থাকছে".    এই দলে ছয় জন আছেন, তার মধ্যে কম্যাণ্ডার সহ তিন জন রাশিয়ার, একজন, ফ্রান্সের, একজন ইতালির ও অন্য জন চীনের লোক. এঁরা সকলেই খুবই ভাল করে তৈরী হওয়া পেশাদার লোক. যারা একে অপরকে জানেন অনেক দিন ধরে , এক সঙ্গে জানুয়ারী মাস থেকে তাঁদের প্রশিক্ষণ, অনুসন্ধান সবই চলছে. ইভগেনি দিওমিন যোগ করে বলেছেন:    "দলপতি রাশিয়ার আলেক্সেই সিতভ, দলের ডাক্তার সুখরোব কামোলভ, ইঞ্জিনিয়ার ফ্রান্সের রমান শার্ল আর তাদের সঙ্গে তিন বিজ্ঞানী – ইতালির দিয়েগো উরবিনা, রাশিয়ার আলেকজান্ডার স্মোলিয়েভস্কি এবং চীনের ভাঙ্গ ইউ. বয়স প্রত্যেকেরই চল্লিশের কম. সবচেয়ে কম বয়সের দিয়েগো ও ভাঙ্গ, তাদের বয়স ২৭ বছর, সবচেয়ে বেশী বয়স আলেক্সেই সিতভের, ৩৭ বছর".    মঙ্গল অভিযানের এই কৃত্রিম যাত্রা তিনটি ভাগে হবে, প্রথমে ২৫০ দিন ধরে মহাকাশচারীরা মঙ্গল গ্রহে যাবেন, তারপর ৩০ দিন সেখানে থাকবেন ও ফিরবেন আবার ২৪০ দিন ধরে, শেষ হতে লেগে যাবে ২০১১ সালের নভেম্বর মাস. মঙ্গল – ৫০০ অভিযানের উপ প্রধান বলেছেন, প্রতিটি অংশেই প্রচুর বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা থাকছে, কিন্তু তিনি মনে করেছেন যে, অভিযাত্রীদের জন্য সবচেয়ে কঠিন হবে ফিরে আসার সময়.     "বাস্তবে ফিরে আসা বোধহয় সব চেয়ে কঠিন, যদি সত্যিকারের যাত্রা হত, তাহলে দ্বিতীয় ভাগটি কঠিন হত, কারণ লক্ষ্য পূরণ হয়েছে, তারপর আবার প্রতিদিনের মতই কাজ করতে হচ্ছে. মানসিক ভাবেও এটা করা খুব একটা সহজ নয়".    কিন্তু ইনস্টিটিউটে বলা হয়েছে যে, অভিযাত্রীদের প্রতিটি মিনিট আগে থেকেই পরিকল্পিত, সুতরাং তাদের খুব একটা মন খারাপ করার সময় জুটবে না, তা ছাড়া যে কোন অভিযাত্রী তার ইচ্ছা মতই কারণ না দেখিয়ে এই পরীক্ষা থেকে বেরিয়ে যেতে পারবে.