সবচেয়ে আধুনিক প্রযুক্তি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা ব্যবহার করে রাশিয়ার বিশেষজ্ঞরা লেনিনগ্রাদ দ্বিতীয় পারমানবিক শক্তি স্টেশনের দুটি রিয়্যাক্টর তৈরী করছেন. সেখানে বিপত্তি হওয়ার সম্ভাবনা বিশেষজ্ঞদের ভাষায় একটি বিপর্যয় প্রতি কোটি বছরে. রিয়্যাক্টর দুটির উপরে দেড় মিটার চওড়া কংক্রীটের খোলা পারমানবিক সক্রিয় পদার্থের বাইরে বেরিয়ে পড়া বন্ধ করতে সক্ষম.    তবুও লেনিনগ্রাদ অঞ্চলের লোকেদের, যদিও সবার নয়, তবুও কিছু উদ্বেগ থেকেই যাচ্ছে, তারা মনে করেছেন যে, এই পারমানবিক শক্তি উত্পাদন কেন্দ্র চালু হলে তাদের বাড়তি পারমানবিক বিকীরণ শরীরে ঢুকতে পারে. বিশেষজ্ঞরা বলেছেন শতকরা ৮৮ ভাগ বিকীরণ এই অঞ্চলের লোকেরা বছরে সূর্য ও অন্যান্য প্রাকৃতিক বিকীরণ উত্স থেকে পেয়ে থাকেন. ১০ ভাগ চিকিত্সা ও তার জন্য রোগ নির্ণয় করতে গিয়ে পেয়ে থাকেন. আর বাকী টুকু বিভিন্ন প্রযুক্তি জাত উত্স থেকে, তার মধ্যে শতকরা ০, ৩ ভাগ মাত্র পারমানবিক শক্তি উত্পাদন কেন্দ্র থেকে. এমনকি এই ধরনের যুক্তিতেও লোকেরা সবাই মানতে চায় নি, দেখাই যাচ্ছে যে, জনতার মধ্যে বাঁধা গতে ভাবা চলছেই, পারমানবিক শক্তি মানেই বিকীরণ ও বিপদ. মজার ব্যাপার হল রাশিয়া ও ইউরোপে পারমানবিক শক্তির প্রসঙ্গে লোকে একই রকম ভাবে, জাতীয় কর্পোরেশন রসঅ্যাটম সংস্থার জনসংযোগ বিভাগের প্রধান ইগর কোনীশেভ এই কথা উল্লেখ করে বলেছেন:    "ইউরোপে রাশিয়ার মতই প্রায় ৪৫ ভাগ লোক বিভিন্ন পর্যায়ে পারমানবিক শক্তির স্বপক্ষে কথা বলেন. তাঁদের মধ্যে কেউ বলেন, এখন যতটা আছে, সেই রকম পরিমানেই তা থাকা উচিত. অন্যরা রাজী আছেন যে, এটা শুধু রাখাই দরকার নয়, তা আরও বাড়াতে হবে. প্রায় ২৫ ভাগ লোক বলেন আমাদের দেশে এবং ইউরোপে পারমানবিক শক্তি উত্পাদনের বিষয়ে চরম ভাবে বিপক্ষে, তা যত নিরাপদই হোক না কেন. বাকীরা এখনও ঠিক করতে পারেন নি. আমরা ধরে নিয়েছি যে, এই শতকরা ৩০ ভাগ লোক যারা কিছু বলেন নি, তারা বিরুদ্ধে নন, কারণ বিরোধীতা করলে তো বলতেন".    রাশিয়াতে দশটি পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্র আছে, দশটি শহর আছে, যেখানে এই কেন্দ্রগুলিকে ঘিরে শহর তৈরী হয়েছে. সব মিলিয়ে প্রায় কুড়ি লক্ষ লোক এই দশটি শহরে থাকেন, ইগর কোনীশেভ বলেছেন:    "পারমানবিক শক্তি কেন্দ্র যত পুরনো, তার কাছে যত বেশী লোক আছেন, তাদের বিশ্বাস ও ভরসা ততই বেশী. আমাদের জনমত সমীক্ষা এই রিপোর্ট দিয়েছে. কেন? তার কারণ পারমানবিক শক্তি কেন্দ্র, যা কোন রকমের বিপর্যয় ও থামা ছাড়া চলছে. তা লোকের মনে ভরসা দিয়েছে. যে শক্তি কেন্দ্র গুলি নতুন তাদের প্রতিই বেশী অনাস্থা, অর্থাত্ বিশ্বাস বাড়ে সময়ের পরীক্ষায়".    পারমানবিক বিদ্যুত উত্পাদন বর্তমানে বেড়েই চলেছে, এই প্রক্রিয়া বন্ধ করা সম্ভব নয়. সুতরাং মানুষকেই নতুন করে ভাবতে শিখতে হবে যে শান্তি পূর্ণ ভাবে পারমানবিক শক্তি ব্যবহার নিরাপদ এবং এই রকম কেন্দ্রের কাছে থাকাও নিরাপদ. কিন্তু এর জন্য লোকের জ্ঞানের বৃদ্ধি করতে হবে, জনতা পারমানবিক শক্তি সম্বন্ধে বেশী করে জানতে যেন পায়, আর তার জন্য সমস্ত অসাধারন সব কাজ করতে হবে, যেমন, পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্রে স্কুলের ছেলেমেয়েদের জন্য বেড়াতে যাওয়ার বন্দোবস্ত করা, যা কয়েকটি দেশে করা হয়েছে. ফ্রান্সের অভিজ্ঞতা আগ্রহের, সেখানে দেশের মোট উত্পাদিত শক্তির শতকরা ৮০ ভাগই আসে পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্র থেকে, সেখানে জনতাকে বোঝানোর কাজ চলছে গত কুড়ি বছর ধরে. রাশিয়া ফ্রান্সের কাছ থেকে তথ্য কমিশন তৈরী করার অভিজ্ঞতা নিয়েছে, রাশিয়াতে এই ধরনের সংস্থাকে সামাজিক সভা বলা হয়ে থাকে. সেই সমস্ত অঞ্চলে, যেখানে পারমানবিক শক্তি কেন্দ্র আছে, সেখানে বছরে কয়েকবার কেন্দ্রের নিরাপত্তা নিয়ে সভার আয়োজন করা হয়ে থাকে.