এই বছরে রাশিয়া জাতীয় বিমান নির্মাণের ১০০ বছর পূর্তি পালন করছে, কেন ১৯১০ সালকেই রাশিয়ার বিমান বাহিনীর নির্মাণের প্রথম বর্ষ বলে মনে করা হয়. তার কয়েকটি কারণ আছে.    প্রথমতঃ ২১ শে মার্চ ১৯১০ সালে রাশিয়ার প্রথম পাইলট মিখাইল এফিমভের প্রথম আকাশে ওড়া জনসমক্ষে দেখানো হয়েছিল. তিনি রাশিয়ার প্রথম নাগরিক, যাঁকে বিমান চালনার জন্য ডিপ্লোমা দেওয়া হয়েছিল. এফিমভ ওড়ার শিক্ষা পেয়ে ছিলেন বিখ্যাত ফরাসী খেলোয়াড়, পাইলট ও বিমান নির্মাতা আঁরি ফারমানের কাছে. তাই লোকের সামনে তিনি যে বিমানে উড়েছিলেন, সেটাও বানিয়েছিলেন ফারমান.    দ্বিতীয়তঃ ১৯১০ সালে সেন্ট পিটার্সবার্গে তৈরী করা হয়েছিল ও প্রথম বার ওড়ানো হয়েছিল রাশিয়াতে তৈরী প্রথম বিমান রাশিয়া আ, যা তৈরী করেছিলেন দেশের বিমান ইঞ্জিনিয়ার দের দল.    তৃতীয়তঃ ১০০ বছর আগে রাশিয়াতে প্রথম আন্তর্জাতিক বিমান প্রদর্শনী সপ্তাহ এবং প্রথম আকাশে বিচরন উত্সব পালিত হয়েছিল.    লেখক ও ঐতিহাসিক নিকোলাই বরদিখিন মনে করেন যে, ৬ই জুলাই ১৯১০ সালকেই রাশিয়ার বিমান নির্মাণ কাজের প্রথম দিন বলে জয়ন্তী দিবস বলে মানা উচিত. এই দিনে সেন্ট পিটার্সবার্গের শহরতলি গাতচিনা শহরের বিমানবন্দর থেকে ইয়াকভ গাক্কেল যে বিমান তৈরী করেছিলেন, সেটি প্রথম সবার সামনে আকাশে ওড়ে. নিকোলাই বরদিখিন বলেছেন:    "এটি ছিল প্রথম সরকারি ভাবে নথিভুক্ত উড়ান, যা রুশ দেশে রুশ কারিগরী বিদ্যা ব্যবহার করে, রুশ পাইলটকে দিয়ে ওড়ানো হয়েছিল. ১৯০৯ – ১৯১০ সাল আরও উল্লেখযোগ্য ছিল এই জন্য যে, রাশিয়াতে প্রথম বিমান সংক্রান্ত বিষয় প্রচলিত হয়েছিল. কিন্তু জাতীয় বিমান নির্মাণের ভিত্তি আগে থেকেই তৈরী ছিল, ১৯০৪ সালেই লক্ষ পতি রিয়াবুশিনস্কি যে অর্থ দিয়েছিলেন, তা দিয়ে মস্কোর উপকন্ঠে এরোডিনামিক বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধান কেন্দ্র খোলা হয়েছিল. প্রথমে তার প্রধান ছিলেন রাশিয়ার বৈজ্ঞানিক ও এরোডিনামিক বিশেষজ্ঞ ও বিশ্ব বিখ্যাত বিমান সংক্রান্ত তত্ত্ব বিশেষজ্ঞ নিকোলাই জুকোভস্কি. বাস্তবে এটা শুধু রাশিয়াতেই নয়, এমন কি বিশ্বেরও প্রথম বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধান কেন্দ্র ছিল, যেখানে আকাশে বাতাসের গতি প্রকৃতি নিয়ে অনুসন্ধানের কাজ হয়েছে, আর সেই সমস্ত বিষয়ে মডেল বানানো হয়েছে মাটিতেই, যাতে দ্রুত, আরও উঁচুতে ও ভরসা যোগ্য ভাবে ওড়া যায়. আমেরিকার রাইট ভাইদের বিশ্ব বিখ্যাত উড়ানের কয়েক মাসের মধ্যেই এই ইনস্টিটিউট তৈরী করা হয়েছিল, যার পর থেকেই আকাশে বাতাসের থেকে ভারী যন্ত্র ওড়ানো শুরু হয়েছে".    ১৯১০ সালের জুন মাসেই রাশিয়াতে দেশের নির্মাতাদের তৈরী বিমান উড়তে শুরু করেছিল, ৫ই জুলাই আলেকজান্ডার কুদাশেভ নিজেই নিজের তৈরী যন্ত্র পরীক্ষা করা দেখেন, যেখানে ধাক্কা দেওয়ার প্রপেলারের জায়গায় আরও উন্নত টানা প্রপেলারের ব্যবহার করা হয়েছিল. আ তাই এটা ছিল বাস্তবেই নতুন ধরনের এরোপ্লেন. নিজেদের নতুন যন্ত্র গুলি অন্যান্য ইঞ্জিনিয়ার – নির্মাতারা পরীক্ষা করে দেখেছিলেন, এই প্রসঙ্গে নিকোলাই বরদিখিন যোগ করে বলেছেন:    "১৯১০ সালের ১১ই জুন আকাশে বিস – ৩ নামের একটি এরোপ্লেন ওড়ানো হয়, এই বিমানের নাম দেওয়া হয়েছিল তিন নির্মাতা ফিওদর বীলিনকিন, ভাসিলি ইয়রদান ও ইগর সিকোরস্কি এদের পদবির আদ্যক্ষর যোগ করে – যাঁরা তখনও ছিলেন ছাত্র. এই বিমানটি বর্তমানের এরোপ্লেনের প্রায় সব কটি মূল জিনিসে ভর্তি ছিল – টানার জন্য প্রপেলার, চালক মোটরের পেছনে, বাই প্লেনের বাক্স এবং হাল ও স্টিয়ারিং".    ১৯১০ সালের আগষ্ট মাসের দ্বিতীয় ভাগের পর থেকে শুধু পিটার্সবার্গেই উড়তে দেখা যেত প্রায় দশ জন বিমান চালক. আর সেপ্টেম্বর মাসের শেষে নতুন তৈরী করা কম্যাণ্ডার বিমান বন্দরে প্রথম আকাশে ওড়া নিয়ে উত্সব আয়োজন করা হয়েছিল. তখনকার এক কাগজে ছাপা হয়েছিল যে, উড়ান দেখে মানুষের এত উত্তেজনা হয়েছিল যে, বিমান বন্দরের পাঁচিল ভেঙে লোকে পাথরের টুকরো করে ফেলেছিল, পুলিশ ভীড় সামলাতে হিমসিম খেয়ে গিয়েছিল. তারপর আকাশে একসাথে উড়েছিল চারটি বিমান. মাটিতে দাঁড়িয়ে প্রায় দুই লক্ষ লোক তা দেখেছিল. যদি সেই সময়ের বিদেশী পাইলটেরা উড়তেন সাবধানে, এমনকি পাক খেতেন একেবারেই কাত না হয়ে, তবে রাশিয়ার পাইলটদের তার মধ্যেই নিজেদের মত করে কৌশল দেখানোর অভ্যাস হয়ে গিয়েছিল, তারা ছিলেন – সাহসী আর ঝুঁকি নিতে তৈরী. তারা নিজেদের সেই সব তখনকার একেবারেই আদিম বিমান গুলিকে উঁচুতে তুলে সোজা মাটির দিকে মাথা করে ঝাঁপ দিয়ে একেবারে পাক খেয়ে নেমে আসতেন. আরও বেশী দূর এগিয়ে ছিলেন সামরিক পাইলট পিওতর নেস্তেরভ, যে মনে করত বিমান আকাশের যে কোন জায়গায় ঠিক একটা ভর দেওয়ার মত জায়গা খুঁজে পাবে. ১৯১৩ সালের আগষ্ট মাসে সেই প্রথম আকাশে একেবারে মাটির সঙ্গে লম্ব অবস্থায় "বদ্ধ গিঁট" বা "মৃত্যু গিঁট" নামের পাক খেয়েছিল, যা থেকেই সবচেয়ে উঁচু দরের বিমান চালনার কৌশলের শুরু. আজ সারা বিশ্বে পরিচিত রুশ "ভিতিয়াজ" বা "স্ত্রিঝি" নামের পাইলট দের দল সর্ব্বাধুনিক এস ইউ বা মিগ ফাইটার প্লেনে উঁচু মানের কৌশল দেখিয়ে থাকে.    গত একশ বছরে রাশিয়ার বিমান নির্মাণ খুব সহজ না হলেও সম্মানের পথ পার হয়ে এসেছে, মস্কো শহরে আয়োজিত বিজয় দিবস উপলক্ষে ৯ই মে যে প্যারেড দেখানো হয়েছে, সেখানে রাশিয়ার সেরা চালক ও বিমান অংশ নিয়েছিল, আকাশে একসাথে ১২৭ টি যুদ্ধের হেলিকপ্টার ও বিমান উড়তে দেখা গিয়েছিল, তাই রাশিয়া বিমান নির্মাণের বিষয়ে এখনও আগের মতই মহান দেশ হিসাবেই আছে.