এক্স – ৫১ – পেন্টাগনের সদ্য পরীক্ষিত পাইলট বিহীণ বিমানের নাম, এই বিমান শব্দের চেয়ে ছয় গুন বেশী দ্রুত গতি সম্পন্ন এবং পেন্টাগন মনে করেছে যে, এই অস্ত্র দিয়ে বিশ্বের যে কোন জায়গায় সন্ত্রাসবাদীদের উপরে আঘাত হানা সম্ভব হবে. আমেরিকার সেনারা এর মধ্যেই আফগানিস্থান ও পাকিস্থানে পাইলট বিহীণ বিমানে করে বোমা ব্যবহার করেছে, অবশ্য সেই বিমান গুলি এক্স – ৫১ র তুলনায় স্বল্প সীমানার মধ্যেই কার্যক্ষম. আমরা এই বিষয়ে আমাদের বিশেষজ্ঞ ভ্লাদিমির সোতনিকোভ কে টেলিফোনে প্রশ্ন করেছিলাম পাইলট বিহীণ বিমানের কার্যকারিতা কতদূর, তিনি তার উত্তরে বলেছেন:    "আমেরিকার সেনাবাহিনীর নেতৃত্ব মনে করেছে যে, পাইলট বিহীণ বোমারু বিমান সন্ত্রাসবাদীদের সঙ্গে যুদ্ধে খুবই উপযুক্ত, কারণ এই বিমান গুলি দিয়ে খুবই লক্ষ্য ভেদ করে যোদ্ধা দের নেতাদের মারা সম্ভব হয়. যেমন, গত বছরে আগষ্ট মাসে পাইলট বিহীণ বিমান ব্যবহার করে নিজের বাড়ীর ছাদেই মারা সম্ভব হয়েছিল পাকিস্থানের তালিব নেতা বেইতুল্লা মেহসুদকে. কিন্তু পাকিস্থান ও আফগানিস্থানের লোকেরা রোজই অভিযোগ করেছে যে, এই বিমান গুলি মোটেও সঠিক লক্ষ্য ভেদ করতে পারে না, প্রায়ই এর শিকার হয়ে শান্তিপ্রিয় লোকজন মারা পড়ছেন. আর পেন্টাগনের ধান্ধা অনুযায়ী এই ধরনের অস্ত্রের ব্যবহার বাড়লে বা নতুন এক্স – ৫১ ব্যবহার করলে আরও একটা প্রশ্ন উঠতে পারে. বিশ্বের যে কোন জায়গায় বজ্র সম আঘাত হানার ভিতরের অর্থ টা আসলে কি? মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নিকট ও মধ্য প্রাচ্যের বহু দেশকেই সন্ত্রাসবাদীদের আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ করেছে, এক্স – ৫১ ব্যবহার কি অন্যান্য দেশের সঙ্গে আলোচনা করে তবে করা হবে? অথবা তাদের স্বাধীন বলেই মনে করা হবে না? প্রথম ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে বজ্র সম এবং আকস্মিক আঘাতের অর্থই থাকছে না, আর দ্বিতীয় ক্ষেত্রে খুবই জটিল রাজনৈতিক ফল হতে পারে. যদি ওয়াশিংটন মনে করে যে, তারা এর জন্য তৈরী আছে, তার মানে হবে যে, আমরা একেবারেই নতুন এক রাজনৈতিক পরিস্থিতির সামনে এসে দাঁড়িয়েছি".    আমেরিকাতে সন্ত্রাসবাদীদের মোকাবিলা ব্যাপারটা একেবারেই প্রযুক্তির প্রশ্ন বলে মনে করা হয়েছে, যাদের সন্ত্রাসবাদী বলে ঘোষণা করা হয়েছে - ওদের নেতাদের ধ্বংস করো এবং সম্ভাব্য উপায়ে তাদের অর্থের স্রোত আটকে দাও. তাহলেই কাজ বাস্তবে শেষ. ভ্লাদিমির সোতনিকোভ এই ধারণার সঙ্গে একেবারেই একমত নন, তিনি মনে করেন যে, আলাদা দু একজন নেতাকে ধ্বংস করলেই সন্ত্রাসবাদ থামানো যাবে না, তাতে কিছুই সমাধান হবে না. তাদের জায়গা নেবে সঙ্গে সঙ্গেই অন্যরা, উদাহরণ হিসাবে দেখানো যেতে পারে যে, বেইতুল্লা মেহসুদের জায়গা নিয়েছে তার ভাই হাকিমুল্লা মেহসুদ, সে আরও চরম পন্থায় বিশ্বাসী, বিশেষত তার ভাই এর নিধনের পরে. এখানে বোঝা দরকার যে, পাইলট বিহীণ বোমারু বিমান দিয়ে সন্ত্রাসবাদীদের নেতাদের ধ্বংস করলে অথবা অন্য কোন পথ নিলেও, তাতে সন্ত্রাসবাদের মূল কারণ লোপ পাচ্ছে না. আরও একটি অংশ হল, এক্স – ৫১ র মত পাইলট বিহীণ বোমারু বিমান পেন্টাগন যে পরিকল্পনা অনুসারে তৈরী করেছে তার নাম হল দ্রুত বিশ্বজোড়া আঘাত. এই পরিকল্পনা সম্বন্ধে তার নাম টুকু ছাড়া আর কিছুই প্রকাশ করা হয় নি. কিন্তু নাম দেখেই যথেষ্ট কৌতূহল হতে পারে, প্রশ্ন আসে এর মানে টা কি হল – সন্ত্রাসবাদীদের নেতাদের উপর আচমকা আঘাত, নাকি অন্য কিছু?