রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ ইজরায়েলের মুক্তির নৌবহর জবর দখলকে নিন্দা করেছে, নির্দেশ দিয়েছে এই জাহাজ গুলির মালপত্র ও মানুষ জনদের ছেড়ে দিতে ও ঘটনার আন্তর্জাতিক তদন্ত করতে বলেছে. লেবানন ও তুরস্কের দাবীর ভিত্তিতে প্রায় ১২ ঘন্টার বেশী সময় ধরে নিরাপত্তা পরিষদের জরুরী বৈঠক হয়েছে. বেশীর ভাগ বক্তাই এই ঘটনাকে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের উদাহরণ বলে অভিহিত করেছেন. এর আগে ইজরায়েলের বিশেষ সামরিক কম্যান্ডো বাহিনী ছয়টি জাহাজ দখল করে, যারা সামুদ্রিক নিষেধ ভঙ্গ করে গাজা অঞ্চলের প্যালেস্তিনীয় নাগরিকদের মানবিক সাহায্য পৌঁছে দিতে যাচ্ছিল. এই জাহাজ গুলিতে বিভিন্ন মানবাধিকার সংরক্ষণ সংস্থার প্রায় ৭০০ জন বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধি ছিলেন, জবর দখলের সময়ে লড়াইতে কম করে হলেও ১০ জন নিহত হয়েছেন এবং আরও বহু লোক বন্দুকের গুলিতে আহত হয়েছেন.    এখন অবধি এই ঘটনার সম্পূর্ণ চিত্র পাওয়া সম্ভব হয় নি. এই সব জাহাজ গুলিতে থাকা জাহাজের কর্মী, সাংবাদিক দল ও গাজা অঞ্চলের অবরোধ ভঙ্গ করার উদ্দেশ্য নিয়ে যাওয়া নিকট প্রাচ্যে শান্তি প্রয়াসী দলের লোকেরা বর্তমানে গ্রেপ্তার হয়েছেন ও তাঁদের বাইরের দুনিয়াতে কোন খবর পাঠাতে দেওয়া হচ্ছে না. এখনও এমনকি কারা নিহত বা আহত হয়েছেন তাঁদের তালিকা কেউ প্রকাশ করে নি, যা বিশ্ব সমাজের উদ্বেগের বিশেষ কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে. কিন্তু এমনকি খুব কম হলেও যতটুকু খবর পাওয়া গেছে তা থেকে বোঝা গিয়েছে যে, এই মুক্তির নৌবহর জবর দখলের ঘটনা আন্তর্জাতিক সার্বজনীন ভাবে গৃহীত আইনের পরিপন্থী, যে বিষয়ে সোমবারেই তুরস্ক, চীন, রাশিয়া ও অন্যান্য দেশগুলি অঙ্গুলি প্রদর্শন করেছে. মস্কোর জাতীয় আইন একাডেমীর আন্তর্জাতিক আইন বিভাগের লেকচারার ইয়ারোস্লাভ কোঝেউরভ বলেছেন:    "যে টুকু খবর পাওয়া গিয়েছে, তা থেকে বলা যেতে পারে যে, গাজা অঞ্চলের জন্য এই সমস্ত মানবিক সাহায্য নিয়ে যাওয়া জাহাজ গুলির উপরে ইজরায়েলের সামরিক শক্তি প্রয়োগ করা হয়েছে খোলা সমুদ্রে. যেখানে আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক আইন অনুযায়ী জাহাজ চলাচল করার অধিকার আছে. সুতরাং এই ঘটনাকে আন্তর্জাতিক আইন খুবই খারাপ ভাবে লঙ্ঘণ করা হয়েছে বলে যে মাত্রা দেওয়া হয়েছে, তা ঠিক ও আন্তর্জাতিক চুক্তির মধ্যেই তা স্বীকৃত".    ইজরায়েলের কাজের প্রতি ধিক্কার জানিয়ে গতকাল সারা বিশ্বের বহু দেশে প্রতিবাদ মিছিল হয়েছে. ইস্তাম্বুলে, প্যারিসে ও এথেন্স শহরে মিছিলের লোকেরা ইজরায়েলের দূতাবাস গুলি প্রায় ছারখার করে দিয়েছে. কিছুটা শান্ত ভাবে প্রতিবাদ করা হয়েছে ওয়াশিংটনে, লন্ডনে, রোমে, অসলো, স্টকহোম ও ব্রাসেলস শহরে. এই সব মিছিলে যাঁরা অংশ নিয়েছেন, তাঁরা ইজরায়েলের কাছ থেকে প্রকাশ্য ক্ষমা প্রার্থনা দাবী করেছে এবং গাজা অঞ্চল থেকে অবরোধ তুলে নিতে দাবী করেছে. একই ধরনের দাবী করা হয়েছে রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে. রাষ্ট্রসংঘের মহাসচিবের সহকারী অস্কার ফার্নান্ডেস- তারাঙ্কো বিশেষ করে উল্লেখ করেছেন যে, এই রক্তপাত এড়ানো সম্ভব ছিল, যদি ইজরায়েল আগে বহুবার তাদের উদ্দেশ্যে করা আহ্বানে কান দিয়ে গাজা অঞ্চলের বিফল ও গ্রহণের অযোগ্য অবরোধ তুলে নিত.    আন্তর্জাতিক সমাজের বিশেষ উদ্বেগের কারণ হয়েছে যে এই ঘটনা প্যালেস্তিনীয় ও ইজরায়েল শান্তি আলোচনার পথে অন্তরায় হবে. এই দিকটি তুলে ধরেছেন রাশিয়ার পক্ষ থেকে স্থায়ী প্রতিনিধির সহকারী আলেকজান্ডার পানকিন. বিগত কিছু সময়ে শান্তি আলোচনার উপযুক্ত কিছু পরিস্থিতি তৈরী হয়েছিল, কিন্তু এই ঘটনার পর প্যালেস্তিনীয় পক্ষ আর শান্তি আলোচনাতে বসতে চাইবে না.    এই উত্তেজনার আগুনে ঘৃতাহুতি করেছে ইজরায়েলের গোঁয়ারের মত অবস্থান. নিজেদের দোষ স্বীকার করতে না চেয়ে ইজরায়েলের নেতৃত্ব আবার ঘোষণা করেছে যে, তাদের দেশের সেনা বাহিনী ঠিকই করেছে, কারণ তারা তাদের উপর চড়াও হওয়া লাঠি, ছুরি ও ঘুঁষি মারতে উদ্যত মানবাধিকার সংস্থার লোকেদের উপর গুলি চালিয়েছে. তার ওপরে আবার তেল – আভিভ পরবর্তী কালেও একই ধরনের কাজ করতে চাইছে. বর্তমানে গাজা অঞ্চলের দিকে আরও একটি জাহাজ মানবিক সাহায্য নিয়ে আসছে, আর ইজরায়েল ঘোষণা করেছে যে তাদের নৌবহর তৈরী আছে এই জাহাজকেও একই রকম ভাবে বাধা দিতে.