নিউক্লিয়ার নন-প্রলিফারেশন ট্রিটি বা পারমানবিক অস্ত্রের প্রসার রোধের উদ্দেশ্যে একটি চুক্তিপত্রে স্বাক্ষরকারী দেশসমূহ পরীক্ষামূলক সভায় সর্বসম্মতিক্রমে চুড়ান্ত কিছু সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়েছে.ঐ সভায় এনএনপিটি স্বাক্ষরিত ১৮৯টি দেশ উপস্থিত ছিল.এই ধাপটি জাতিসংঘের সদর দপ্তর নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত হয়. প্রায় ১ মাস পূর্ব থেকে এই সভার প্রস্তুতিমূলক কাজ শুরু হয়.চুড়ান্ত ফোরাম প্রতি ৫ বছর অন্তর অনুষ্ঠিত হয় এবং সর্বসম্মতিক্রমে চুড়ান্ত কিছু সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়.২০০৫ সনে অনুষ্ঠিত সভা যা কোন সিদ্ধান্ত ছাড়াই শেষ হয় তবে এ বছর তবে সৌভাগ্যক্রমে এ বছর তা হয় নি.২৮ পৃষ্ঠার ঐ সিদ্ধান্তসমূহে পারমানবিক অস্ত্র রয়েছে এমন ৫টি দেশ রাশিয়া,যুক্তরাষ্ট্র,যুক্তরাজ্য,ফ্রান্স ও চীন নিজেদের নিউক্লিয়ার শক্তি কমিয়ে আনার বিষয়ে জোরারোপ করেছেন.এছাড়া ২০১২ সনে অনুষ্ঠিতব্য আন্তর্জাতিক সম্মেলনে মধ্যপ্রাচ্যকে একটি পারমানবিক ও অন্যান্য ধংসাত্বক অস্ত্রবিহীন ভূখন্ড গড়ার বিষয়ে এ সম্মলনে তা সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়.এই বিষয়টি বিবেচনা করা হয়েছে মূলত আরব রাষ্ট্রসমূহের দেওয়া প্রস্তাবের কারনে যা  এবারের সম্মেলনে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবং এর উদ্দেশ্য হচ্ছ ইজরাইলকে নিজেদের সবধরনের পারমানবিক অস্ত্র ব্যবহার(অঘোষিত) করা থেকে বিরত থাকা.এদিকে যুক্তরাষ্ট্র- ইজরাইলের মত বন্ধুত্বপূর্ন রাষ্ট্রসমূহ নিউয়র্কের এই সিদ্ধান্তসমূহে একমত প্রকাশ করেছে এবং কোন এক সময় এই দুই রাষ্ট্র আলোচনা করে যে,তাদের দৃষ্টিতে মধ্যপ্রাচ্যে  পারমানবিক ও অন্যান্য ধংসাত্বক অস্ত্রবিহীন ভূখন্ড গড়ার বিষয়টি এ ভূখন্ডে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরী করবে.এ মূহূর্তে ইরানের অস্বীকৃতি যা  এনএনপিটি প্রস্তাবনা পালন করারই অন্তর্ভূক্ত.বারাক ওবামা প্রশাসনের জাতীয় নিরাপত্তা বিভাগের জেনারেল জেমস জনস জানান যে,সবাইকেই ধারনা রাখতে হবে যে,সভায় প্রতিটি দেশেরই নিজস্ব মতামতকে বিবেচনা করা হবে.যুক্তরাষ্ট্র অন্যান্য দেশ যেমন যুক্তরাজ্য,রাশিয়া এবং  জাতিসংঘের সাথে আলোচনার মাধ্যমে শুধুমাত্র আয়োজকের দায়িত্ব নিয়েছে.এই প্রশ্নকে মস্কো কি ভাবছে তা রেডিও রাশিয়াকে জানান রাশিয়ার সহকারি পররাষ্ট্রমন্ত্রী সেরগেই রিয়াকব.আমরা মনে করি যে,  মধ্যপ্রাচ্যকে একটি পারমানবিক ও অন্যান্য ধংসাত্বক অস্ত্রবিহীন ভূখন্ড গড়ার বিষয়ে সবার আগে এই ভূখন্ডের দেশসমূহকেই এগিয়ে আসতে হবে.আর তা যেমন ইজরাইলের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে ঠিক তেমনভাবে হবে ইরানের ক্ষেত্রেও.নিউইয়র্কে আমরা এই বিষয়েই এখন বিস্তারিতভাবে কাজ করছি আরব দেশসমূহের প্রতিনিধিদের সাথে,ইরানের প্রতিনিধিদের সাথে যারা এই বিষয়ে সবচেয়ে বেশী গূরূত্ব দিয়েছেন.আমরা আশাবাদী যে,এনএনপিটি র পরীক্ষামূলক এই সভায় গৃহিত সিদ্ধান্তসমূহ মধ্যপ্রাচ্যে  একটি পারমানবিক ও অন্যান্য ধংসাত্বক অস্ত্রবিহীন ভূখন্ড গড়ার বিষয়ে কার্যকরী ভূমিকা রাখবে.এই বিষয়টি অবশ্য পরিষ্কার যে,এই সম্মেলন মধ্যপ্রাচ্যে  পারমানবিক ও অন্যান্য ধংসাত্বক অস্ত্র আরও কম ব্যবহার করে শান্তি প্রতিষ্ঠায় একটি কার্যকর একটি ধাপ.বিশ্বে এমন দেশের সংখ্যা আরও কম হোক যারা প্রকাশ্য অথবা গোপনে এই অস্ত্র ব্যবহার করতে চায়.