রাশিয়ার সামাজিক মতামত ফান্ড আয়োজিত এক গণ সমীক্ষাতে দেখা গিয়েছে যে, আরও বেশী করে রাশিয়ার লোকেরা সেই সব খবরে বিশ্বাস করছে, যা জনতার খবরওয়ালারা ইন্টারনেটে তুলে ধরছে, বরং কম হয়েছে তথাকথিত সরকারি সংবাদ সংস্থাদের প্রতি বিশ্বাস.    এই তথ্যকে ব্যাখ্যা করা খুব একটা কঠিন নয়. জনতার খবরওয়ালারা – সাধারন লোক, সেই রকমই যারা তাদের খবর পড়ে তাদেরই মত. এরা কেউই পেশাদার সাংবাদিক নয়, বরং নানা ঘটনার আচমকা সাক্ষী. ঠিক সময়ে, ঠিক জায়গায় থেকে তারা নিজেদের পক্ষ থেকে খবর দিয়ে থাকে, বেশীর ভাগ সময়েই নিজেদের ব্লগে তা প্রকাশ করে. জনতার খবরওয়ালারা ভরসার পাত্র হয়েছে ১৮ থেকে ২৪ বছরের অল্পবয়সী রুশ লোকেদের শতকরা ২৪ ভাগের কাছে, ২৫ থেকে ৪৪ বছরের লোকেরা তাদের ইন্টারনেটে দেওয়া খবরের প্রতি সাবধান, মাত্র শতকরা ১৭ ভাগ তাদের উপর আস্থা রাখে, আর ৪৫ থেকে ৫৫ বছরের রুশ লোকেদের মধ্যে ইন্টারনেটে দেওয়া খবরে বিশ্বাস করে থাকেন মাত্র শতকরা ১০ ভাগ লোক. তা স্বত্ত্বেও ব্যাপারটায় যে জনতার প্রয়োজনীয়তা বাড়ছে, তা দেখাই যাচ্ছে. কারণ এই সব জনতার খবরওয়ালারা প্রায়ই সংবাদ মাধ্যম গুলির আগেই খবর দিতে পারছে. তাদের সুবিধা হল – কত তাড়াতাড়ি খবর পৌঁছে যায় তার ওপরে. সামাজিক মতামত ফান্ডের ইন্টারনেট বিশ্ব প্রকল্পের প্রধান পাভেল লেবেদেভ বলেছেন:    "একজন লোক কিছু একটা দেখল, তার সঙ্গে ফোটো তুলে ইন্টারনেটে পাঠিয়ে দিল, আর লোকে তার উপরে মন্তব্য করা শুরু করল – এই খবরে কোন সেন্সর নেই, ঠিক যেমন খবর তেমনি পৌঁছল সবার কাছে. এইটাই জনতার খবরওয়ালারা বিশেষ করে পারছে, তাই জনতার বিশ্বাসও তাদের উপর বাড়ছে, কারণ তারা সবাই সাধারন লোকই. আবার অন্য দিক থেকে এই খবর অনেক সময়ই হয় মিথ্যা বা অপরীক্ষিত. আবার এমন লোকও আছে, যারা এই সব খবরকে সন্দেহের চোখে দেখেন. এদের সবচেয়ে বড় সুবিধা হল – খবর পাঠানোর বিষয়ে গতি ও সেই সমস্ত ব্যাপারে কথা বলার সুযোগ করে দেওয়া, যা সরকারি সংবাদ সংস্থা গুলি কোন না কোন কারণে পছন্দ করেন বিনা উল্লেখে রাখতে".    জনতার খবরওয়ালাদের সৌজন্যে দেশের বহু ক্রিমিন্যাল বিষয়ে এগনো সম্ভব হয়েছে, যেমন, পুলিশের বেআইনি কাজকর্ম ইত্যাদি. অংশতঃ, ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের শতকরা ৬ ভাগ মনে করেন যে, লুক অয়েল কোম্পানীর এক বড় ম্যানেজারের লেলিনস্কি প্রসপেক্টে গাড়ী দুর্ঘটনার খবর নিয়ে বিশেষ অগ্রগতি সম্ভব হয়েছে ব্লগারদের জন্যই. শতকরা ৪ ভাগ বিশ্বাস করেন যে, দীমভস্কি নামে এক পুলিশের মেজরের দেশের নেতাদের প্রতি ভিডিও আবেদন জনতার নজরে পড়েছে, এই জনতার খবরওয়ালারা আছেন বলেই. তাছাড়া মস্কোর বাইরের রিং রোডে পুলিশ যে সাধারন লোকের গাড়ী দিয়ে রাস্তা অবরোধ করে অপরাধীদের ধরবার জন্য আয়োজন করেছিল, তাদের জীবন বিপন্ন করে তাও এই কারণেই ফাঁস হয়ে গিয়েছে.    কিন্তু এর মানে মোটেও এই নয় যে, রুশ লোকেরা সংবাদ মাধ্যম গুলিকে একেবারে বিশ্বাস করাই ছেড়ে দিয়েছে. পাভেল লেবেদেভ বিশেষ করে বলেছেন যে, জনতার খবরওয়ালারা স্রেফ দেশে একটা অন্য খবরের উত্স তৈরী করে দিয়েছে, যা দেশে কি হচ্ছে তার একটা পরিপূর্ণ চিত্র তৈরী করতে সাহায্যই করেছে. আরও বেশী হল যে, বর্তমানে সাংবাদিকেরাও প্রায়ই ব্লগারদের খবরের উদ্ধৃতি দিতে শুরু করেছেন, এমনকি এরকম সংবাদ সংস্থাও আছে, যেখানে তাদের খবরের উল্লেখ করা হচ্ছে. অংশতঃ F5 নামে এক ইন্টারনেট সংবাদপত্র প্রতি সপ্তাহেই নিজেদের পাঠকদের জানায় জনতার খবরওয়ালারা সবচেয়ে টাটকা কি খবর দিয়েছে.