কি প্রজাতির লোকেরা রাশিয়াতে বাস করেন? জাতির প্রশ্নে বিশারদেরা আশা করেছেন যে, আগামী অক্টোবর মাসে সারা রাশিয়া জুড়ে আদমসুমারির সময়ে প্রজাতি ও জনগোষ্ঠীর সংখ্যা হয়ত বেড়ে যেতেও পারে. অবশ্য তাঁরা আশা করেছেন যে, সেখানে গতবারের মত এবারে সমস্ত কাল্পনিক প্রজাতি যেমন, হবিট, এলফ বা গত দের মতো জাতির সংখ্যা যোগ হবে না.২০০২ সালের সারা রাশিয়া জুড়ে আদমসুমারি হওয়ার পর দেখা গিয়েছিল যে, রাশিয়াতে ১৮২ টি প্রজাতির লোক বাস করেন. ১৯৮৯ সালে সোভিয়েত দেশে এঁদের সংখ্যা ছিল ১২৮. প্রত্নতাত্ত্বিকেরা মনে করেন যে, সোভিয়েত দেশে বিভিন্ন প্রজাতির মিলে মিশে বড় হয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়া চলেছিল, অংশতঃ তা সরকারের রাজনীতির ফলে জোর করে করা হলেও অনেকেই ছিলেন, যাঁরা নিজেদের বেশীর ভাগ লোকেদের সঙ্গে একই প্রজাতির বলে নথিবদ্ধ করেছিলেন. বর্তমানে ব্যাপারটা উল্টো, এমন এক প্রক্রিয়া চলছে যাকে বলা যেতে পারে প্রজাতি গত আত্ম পরিচয়ের প্রচেষ্টা. বড় প্রজাতির মধ্যেও আলাদা করে স্বাধীন প্রত্ন সংস্কৃতি দলের সৃষ্টি হয়েছে.সুতরাং ২০০২ সালের পরিসংখ্যানের হিসাবে বুলগার প্রজাতির লোকেরা আলাদা হয়েছিলেন. বহু দিন আগে তাঁরা ভোলগা নদীর তীরে এক শক্তিশালী বুলগার রাজ্যে থাকতেন. কিছু গবেষণাতে বলা হয়েছে যে, তারা তাতার ও মোঙ্গলদের কাছে হার মেনে তাদের চাপে মিলে মিশে হারিয়ে যায়, তাদের উত্তরসূরীরা হলেন বর্তমানের তাতার লোকেরা. কিন্তু এমন লোকেরাও আছেন, যারা মনে করেন যে, বুলগার লোকেরা নিজেদের আত্ম পরিচয় ধরে রাখতে পেরেছে.এবারে আলাদা করে উদমুর্তি অঞ্চলে বেসেরমিয়ান প্রজাতির লোকেদের হিসাব করা হবে, আগে তাদের উদমুর্তি লোক বলেই চালিয়ে দেওয়া হত. দাগেস্তান অঞ্চলের আভার লোকেদের বর্তমানে দশের বেশী উপজাতিতে ভাগ করা সম্ভব হয়েছে, দারগিন লোকেদের মধ্যে কাইতাগ ও কুবাচিন উপজাতির লোক পাওয়া গিয়েছে. এই সব উপজাতি বিজ্ঞানীরা বহু দিন থেকেই জানেন, কিন্তু শুধু এবারেই তাদের পরিসংখ্যানে আলাদা করে দেখা যাবে. রাশিয়ার বিজ্ঞান একাডেমীর প্রত্ন তত্ত্ব ও জাতি অনুসন্ধান ইনস্টিটিউটের ভাইস ডিরেক্টর ভ্লাদিমির জোরিন বলেছেন:বুঝতে হবে যে, নতুন প্রজাতি আর তৈরী হচ্ছে না এবং উদয় হতে পারে না. লোকেদের এই প্রশ্নে শুধু নিজেদের অনুভূতি ও সম্পর্কের বদল হয়েছে. আজ আমাদের আত্ম পরিচয়ের খোঁজ পড়েছে, কোন সরকারি দলিলে আর প্রজাতি প্রশ্ন রাখা হচ্ছে না. আমরা অনুমান করতে পারি, যে ২০০২ সালের চিত্র খুব একটা বদল হবে না, থেকেই যাবে. কিন্তু প্রজাতির প্রশ্নে কিছু একক যোগ হতেই পারে.জাতি বিশারদেরা উল্লেখ করেছেন যে, ছোট উপজাতির লোকেরা তাদের জাত পাতের প্রশ্নে খুব সংবেদন শীল. আর এই রুশ জাতির লোকেরা, বিশেষত অল্প বয়সীরা এই প্রশ্নের উত্তর দেয় কৌতুক করে, যেমন, এলফ, গ্নোম কিংবা শুক্র গ্রহের বাসিন্দা বলে... এটার কারণ হল তারা নিজেদের প্রজাতির প্রশ্নে কোন গুরুত্ব দেয় না.অন্য কথা হল, যারা বিভিন্ন প্রজাতির মিশ্রণে তৈরী, যেখানে বেশ কয়েকটি প্রজাতির রক্ত ধারা মিশে গিয়েছে, সেই সব ক্ষেত্রে, এই সব লোকেদের প্রজাতি হতে পারে একসাথে দুই বা তার থেকে বেশী, কিন্তু বেছে নিতে পারা যায় মাত্র একটাই. এই সব ক্ষেত্রে ভ্লাদিমির জোরিন বলেছেন, লোকে সেই প্রজাতিতে নিজের নাম দেয়, যেটির সঙ্গে নিজের মিল খুঁজে পায়.দুঃখের কথা হল, আমাদের একসাথে অনেক প্রজাতি হিসাবে লোককে পরিসংখ্যানে নেওয়ার উপায় নেই. আমি মনে করি এটা ভবিষ্যতে হয়ত হবে. প্রত্যেক লোকই যে দুটি বা তিনটি সংস্কৃতির পরিবেশে বেড়ে উঠেছে, সে সব কটি সংস্কৃতি কেই শিক্ষার উত্স হিসাবে জানে, তারা তার আপনার. এই ধরনের আত্ম পরিচয় খোঁজার একটি নামও আছে. এমন সমস্ত ঘটনাও দেখা যায়, যেমন, মা নেন প্রজাতির, বাবা মরদোভিয়ার আর ছেলে নিজেকে ভাবে রুশ বলে. এমনও হয়, কিন্তু এটা প্রত্যেকেই নিজের মত করে বেছে নেয়.ভ্লাদিমির জোরিন রাশিয়াতে বর্তমানে সচল আরও একটি মজার বিষয় উল্লেখ করেছেন, বেশীর ভাগ লোকই আজকাল নিজেকে রাশিয়ার নাগরিক বলতে ভালবাসে.সারা রাশিয়াতে লোকেরা নিজেদের দেশের লোক বলে চিনতে চাইছে, কিন্তু তার বদলে নিজেদের প্রজাতি গত পরিচয় বিসর্জন দেয় নি. রাশিয়ার লোকেরা – কারা? এরা সবাই রাশিয়াতে থাকে, দেশের নাগরিক, তাদের প্রজাতি গত পরিচয় যাই হোক না কেন. এমন কথাও বলা হয়ে থাকে যে রাশিয়ার লোকেরা এরা হল সকল প্রজাতির উর্দ্ধে. আমাদের যেমন তাতার আছে, আর্মেনিয়ার লোক আছে, মরদোভা, নেনেত্স, আরও নানা প্রজাতির লোকেরা আছে, কিন্তু তারা সকলেই মস্কো, ভোলগা, ইনিসেই, আমাদের ফুটবল টিম, অলিম্পিকের দল এই সবই ভালবাসে. আর এইটাই বলা যেতে পারে সমস্ত জনগনের, সমস্ত রাশিয়ার লোকেদের আত্ম পরিচয়.২০১০ সালের সারা রাশিয়ার আদমসুমারি প্রজাতির সংখ্যা ঠিক করে জানাবে আর বলবে তারা কি ভাষায় কথা বলে. কিন্তু আরও একবার মনে করিয়ে দেওয়া যেতে পারে যে এই প্রশ্নের উত্তর শুধু ইচ্ছা হলেই তবে দিতে হবে. যদি কোন লোক না পারে অথবা না দিতে চায়, তবে সে না দিলেও পারে. ২০০২ সালে এই প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে গিয়েছিলেন পনেরো লক্ষ রুশ দেশের লোক.