রাশিয়ার সেনা ও বিশেষ আইন রক্ষা বাহিনী নতুন দুশো সিরিজের স্বয়ংক্রিয় কালাশনিকভ রাইফেল কেনার কাজ শুরু করেছে, যা আগের এ কে – ৭৪ এর উপর ভিত্তি করে তৈরী করা হয়েছে.এই নতুন অস্ত্রের গুণ গুলি প্রথম যারা মূল্যায়ণ করেছেন, তাঁদের মধ্যে ছিলেন রাশিয়ার সরকারের প্রধান ভ্লাদিমির পুতিন, তিনি যখন ইঝেভস্ক শহরে রাশিয়ার একটি প্রাচীন তম বন্দুক তৈরীর কারখানাতে মিটিং করছিলেন, তখন তাঁকে এই দ্বিশত সিরিজের নতুন এ কে – ৭৪ এম প্রদর্শন করা হয়েছে.    এ কে – ২০০ রাশিয়ার সেনা বাহিনীর হাতে নতুন আধুনিক অস্ত্র তুলে দেওয়ার জন্য ইঝেভস্ক কারখানা প্রস্তাব করেছে, এই অস্ত্রের নতুন চেহারা নিয়ে রেডিও রাশিয়াকে জানিয়েছেন ইঝমাশ কারখানার সরকারি প্রতিনিধি আলেকজান্ডার বাদিত্সা, তিনি বলেছেন:"আগের গুলির সঙ্গে এই অস্ত্রের গুণ গত পার্থক্যের প্রমাণ কয়েকটি মূল বিষয় নিয়ে বললেই হবে. অবশ্যই আমরা বহু দিনের ঝড়ে জলে যুদ্ধে সক্ষম প্রমাণিত কালাশনিকভের ভিত্তি পাল্টাই নি, কারণ তা এত দিনে নিরাপদ, ভরসা যোগ্য ও সহজ বলে সবাই জানে. একই সময়ে এ কে – ২০০ সিরিজে অনেক গুলি সংশোধন করা হয়েছে, যা বর্তমানের যুদ্ধে পরিস্থিতির কথা চিন্তা করেই করা হয়েছে".নতুন কালাশনিকভে অপটিক্যাল নিশানা লাগানোর জন্য ব্যবস্থা আছে, সেখানে টর্চ ও লেসার লক্ষ্য স্থির করার ব্যবস্থাও লাগানো যাবে. এই কারণেই আগের মডেল গুলির চেয়ে এটির ওজন বেশী, এবারের অস্ত্রটি আগের চেয়ে প্রায় ৫০০ গ্রাম ভারী. এ কে -২০০ তে এখন আগের মতো ৩০ বা ৫০ বুলেটের জায়গায় ৬০ টি বুলেট দেওয়া ম্যাগাজিন ব্যবহার করা হবে, আগে শুধু ৩০ টাই থাকত. এই কারণেই আমাদের অস্ত্র প্রতিযোগীদের অস্ত্রের সমকক্ষ হতে পেরেছে, রাশিয়ার কারখানা তে বিশ্বাস করে যে এই অস্ত্র ন্যাটোর অ্যাসাল্ট রাইফেলের চেয়ে কোন অংশে কম নয়.বর্তমানে জানা আছে যে, স্বরাষ্ট্র দপ্তর ও রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা পরিষেবা ইতিমধ্যেই এ কে – ২০০ সিরিজের রাইফেল কিনতে শুরু করেছে. রাশিয়ার উপ প্রধানমন্ত্রী ভিক্তর ইভানভ এই খবর দিয়েছেন, তিনি আরও যোগ করেছেন যে, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এখনও এই অস্ত্র কেনার জন্য সিদ্ধান্ত নেয় নি. এর আগে ইঝমাশ কারখানার জেনারেল ডিরেক্টর ভ্লাদিমির গরোদেতস্কি ঘোষণা করেছিলেন যে, এই সরবরাহের চুক্তি হতে পারে রাশিয়ার সামরিক বাহিনীতে এই অস্ত্রের পরীক্ষা শেষ হওয়ার পরেই, আর তা শুরু হওয়ার কথা ২০১১ সালে. কালাশনিকভ বিশ্বের সবচেয়ে বেশী পরিচিত ও প্রসারিত অস্ত্র যা আজ বহু শত সামরিক ও অস্ত্র ধারী বাহিনীর কাজে লাগছে, বিশ্বের ২০ টির বেশী দেশে তা তৈরী করা হয়, সব মিলিয়ে প্রায় ৭ কোটি এই রকম অস্ত্র তৈরী করা হয়েছে এবং চারটি দেশের জাতীয় প্রতীকে এর ছবি আঁকা আছে. এই অস্ত্রের স্রষ্টার নাম আজ বিশ্বে সবার পরিচিত ও বহু বিদেশী ভাষাতে তা অনুপ্রবেশ করেছে, এই রকমের খ্যাতির কথা খুব কম অস্ত্র নির্মাতারই আছে. আর তা বিনা কারণে নয়, ১৯৪৭ সালে মিখাইল কালাশনিকভ যে অস্ত্র সৃষ্টি করেছিলেন, তাকে বহু বিশেষজ্ঞই বিশ্বাস যোগ্যতা ও ব্যবহারে সহজ বোধ্য হওয়ার একক বলেই মনে করেন.