ওয়াশিংটনের চাপের মুখে পড়ে ল্যাটিন আমেরিকার দেশগুলির সরকার স্থানীয় মাদক মাফিয়া দের সাথে তাঁদের সংগ্রাম খুব সক্রিয় করেছেন. একই সঙ্গে বিশ্বের মাদক উত্পাদনের কেন্দ্রে – অর্থাত্ আফগানিস্থানে – সেখানে উপস্থিত আমেরিকার শক্তি প্রদর্শনের কাঠামো গুলি স্থানীয় বড় মাদক ব্যবসায়ীদের প্রতি অভাবনীয় রকমের নরম মনোভাব দেখিয়ে যাচ্ছেন. কোথা থেকে এই রকমের সম্পর্কের বিষয়ে পার্থক্য?    কয়েকদিন আগে সকলের মনোযোগ আকর্ষণ করেছিল জামাইকার রাজধানী কিংসটনের ঘটনা. যখন স্থানীয় প্রশাসন কোন এক বড় মাদক ব্যবসায়ী কে ধরতে গিয়ে ছিলেন, তখন তার সশস্ত্র দলবল পুলিশ ও তাদের সাহায্য করতে যাওয়া সৈন্যদের উপর চড়াও হয়েছিল. সেনা বাহিনীকে তখন হেলিকপ্টার ও কামান সমেত সাঁজোয়া গাড়ী ব্যবহার করতে হয়েছিল. এই সমস্ত সময়ে উল্লেখ করার দরকার আছে যে, জামাইকা কিন্তু মোটেও বিশ্বের মাদক ব্যবসার কোন কেন্দ্রীয় জায়গা নয়. সেই রকম কেন্দ্র রয়েছে আফগানিস্থানে. আফগান বড় মাদক ব্যবসায়ীরা বর্তমানে অনেক পারস্য উপসাগর তীরবর্তী দেশ ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ডেরা বেঁধে রয়েছে. কিন্তু শুনতে তো পাওয়া যাচ্ছে না যে কেউ এই সব ব্যবসায়ীদের বাসস্থানে হানা দিয়েছে বা তাদের গ্রেপ্তার করেছে. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কথা বলার সময় আফগানিস্থানের মাদক ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সংগ্রাম করার কথা বলে থাকে, কিন্তু একই সঙ্গে সেখানের আফিম চাষ ধ্বংস করার বিষয়ে নেতিবাচক কাজ করে চলেছে. এটা কি করে ব্যাখ্যা করা যেতে পারে? এই সম্বন্ধে আমাদের বিশেষজ্ঞ আন্দ্রেই গ্রোজিন বলেছেন:    "আফগানিস্থানের মাদক মাফিয়া আজ এক বড় শক্তিতে পরিনত হয়েছে. আমেরিকার নেতৃত্ব বোধহয় ভয় পেয়েছে যে, যদি তারা আফিমের চাষ ধ্বংস করতে যায়, বা সেই সব ল্যাবরেটরী জ্বালিয়ে দেয়, যেখানে আফিম থেকে হেরোইন তৈরী হয়, তাহলে মাদক ব্যবসায়ীদের মাথারা আমেরিকার বিরুদ্ধে যাবে. অন্য দিক থেকে আফগান মাদক দ্রব্য আমেরিকা অবধি পাচার হয় না, তা বর্তমানে খুবই বিপজ্জনক সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে চীন, রাশিয়া, ইরান, ভারত ও অন্যান্য ইউরোপের দেশ গুলির জন্যে. অর্থাত্ সেই সব দেশের জন্যেই যাদের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে মনে করা হয়েছে বর্তমানের বা ভবিষ্যতের ভৌগলিক রাজনীতির প্রতিযোগী".    বর্তমানে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী আফগানিস্থানের মাদক ব্যবসায় তিরিশ লক্ষ লোক যুক্ত রয়েছে, বোঝাই যাচ্ছে যে, এদের বেশীর ভাগই চাষী. যারা আফিমের চাষ করতে বাধ্য হয়, যাতে দুই বেলা খেতে পায়. এই আফিমের চাষ ধ্বংস করে দিলে, চাষীর স্বার্থে কি আঘাত হানা হয়ে যাবে না, কারণ যারা আফিমের বড় ব্যবসায়ী তারা তো আফগানিস্থানের বাইরেই থাকে? তাদের রোজগার বিভিন্ন হিসাব মত বছরে ৮০ থেকে ১০০ বিলিয়ন ডলার. সুতরাং তাদের জীবিকা নির্বাহের অভাব তো আর হবে না, তাহলে এই পরিস্থিতি থেকে কি করে বেরোনো যায়? আন্দ্রেই গ্রোজিন বলেছেন:    "মাদক ব্যবসার সঙ্গে লড়াই করার জন্য সহজেই সিদ্ধ হয় এমন পরিকল্পনা রাশিয়া অনেক দিন আগে থেকেই প্রস্তাব করে রেখেছে. এখানে অবশ্যই আফগানিস্থানের চাষীদের সঙ্গে কেউই বলছে না লড়াই করতে. তাদের জন্য অন্য কিছু চাষ করে লাভ করার ব্যবস্থা করে দিলে হয়, আর উচিত্ হচ্ছে মাদকের বড় ব্যবসায়ীদের কেন্দ্র গুলিতে আঘাত হানার. রাশিয়ার প্রতিনিধিরা মনে করেন যে, যেমন, উপগ্রহ ব্যবহার করে আফগানিস্থানের সমস্ত জমির হিসাব করা দরকার, তারপর দেখা দরকার কাদের জমিতে আফিমের চাষ হচ্ছে, তাদের কাছ থেকে জমি কেড়ে নেওয়া দরকার আর মাদক ব্যবসায়ীদের মাথা দের রাষ্ট্রসংঘের কালো তালিকায় উল্লেখ করা. দরকার হলে বিশেষ আন্তর্জাতিক সংস্থা তৈরী করা এই সব লোকেদের গ্রেপ্তার ও বিচার করার জন্য. বর্তমানে রাষ্ট্রসংঘের পরিসরে চিন্তা করা হচ্ছে জলদস্যূদের জন্য আন্তর্জাতিক বিচার সভা তৈরী করার, কিন্তু মাদক মাফিয়া কি বিশ্বের জন্য জলদস্যূদের চেয়ে কোন অংশে কম সমস্যার বিষয়"?