রাশিয়া আফগানিস্থানের মাদক পাচারের বিরুদ্ধে আরও কঠোর সংগ্রামের পক্ষে আহ্বান করেছে এবং চায় যে রাষ্ট্রসংঘ এই বিষয়ে আরও সক্রিয় হোক. আজ মস্কোতে অনুষ্ঠিত রাষ্ট্রসংঘ থেকে বিশেষ আফগানিস্থান সংক্রান্ত প্রতিনিধি স্টেফানা ডে মিস্টুরা ও রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রী সের্গেই লাভরভের আলোচনার অন্যতম বিষয় হয়েছে এই প্রসঙ্গ. আমাদের রাজনৈতিক সমীক্ষক ভিক্তর এনিকিয়েভ বিষয়টি বিশদ করে বলেছেন.     এই আলোচনার কারণ জুলাই মাসে আগামী আফগানিস্থান সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক সম্মেলনের আয়োজন. মস্কো এই এশিয়ার দেশটির থেকে উদ্ভূত মাদক দ্রব্যের বিপদের প্রসঙ্গে সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছে, গত সপ্তাহেই পররাষ্ট্র মন্ত্রী সের্গেই লাভরভ ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রী আনাতোলি সেরদ্যুকভ এই বিষয়টিকে নিয়ে রোমে তাঁদের ইতালির সহকর্মীদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন বিশদ ভাবে. প্রসঙ্গতঃ এই ধরনের সাক্ষাত্কারের ধারণা রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি দিমিত্রি মেদভেদেভ ও ইতালির রাষ্ট্রপতি সিলভিও বেরলুসকোনি দিয়েছিলেন.    রাশিয়ার নেতৃত্ব মনে করে যে, আফগানিস্থানে আফিমের চাষের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করা দরকার, আর এই সংগ্রামে রাষ্ট্রসংঘ, ন্যাটো জোট ও ইউরোপীয় সংঘের আরও বেশী সক্রিয় ভাবে যোগ দেওয়া দরকার. মস্কোতে মনে করা হয় খুবই গুরুত্বপূর্ণ হল উপরোক্ত আন্তর্জাতিক সংস্থা গুলির সঙ্গে যৌথ নিরাপত্তা চুক্তি সংস্থা ও সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার আরও ঘনিষ্ঠ ভাবে সহযোগিতা করা. প্রথম সংস্থাতে রাশিয়া, আর্মেনিয়া, বেলোরাশিয়া, কাজাখস্থান, কিরগিজিয়া ও তাজিকিস্থান রয়েছে. দ্বিতীয় সংস্থা টিতে এই দেশগুলির মধ্যে আর্মেনিয়া বাদ পড়লেও, চীন ও উজবেকিস্থান যোগ হয়েছে. এই সমস্ত দেশেই আফগানিস্থানের মাদক পাচার বন্ধের বিষয়ে কম অভিজ্ঞতা জমা হয় নি.    উল্লেখ করা ঠিক হবে যে রাশিয়া এই বিষয়ে দ্বিপাক্ষিক ক্ষেত্রেও সহযোগিতা করছে. অংশতঃ রাশিয়া ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ রাষ্ট্রপতিদের নির্দিষ্ট পরিষদে আলোচনা হয়েছে. গত রবিবারে আমেরিকার পরিষদ সদস্যদের কাছে রাশিয়া আফগানিস্থানের বাসিন্দা নয় জন কুখ্যাত বিরাট মাদক পাচার কারী দের নাম জানিয়েছে এবং এর আগে ওয়াশিংটনের কাছে আফগানিস্থানে খুঁজে পাওয়া ১৭৫টি মাদক তৈরীর ল্যাবরেটরীর সম্বন্ধে খবর দেওয়া হয়েছে.

    আফগানিস্থানের মাদক পাচারের আরও একটি সিরিয়ায় সমস্যা হল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য জোটের দেশ, যারা আজ আফগানিস্থানে সেনা বাহিনী পাঠিয়েছে, তারা কেউই মাদক চাষের বিরুদ্ধে সক্রিয় হতে চাইছে না. তাদের ভয়, এই চাষের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলে, আফগানিস্থানের অর্থনীতিতে ক্ষতি হবে ও স্থানীয় জনতা নিঃস্ব হয়ে আরও বেশী করে তালিবান আন্দোলনে যোগ দিয়ে যুদ্ধকে প্রলম্বিত করবে. কিন্তু এই ধরনের রাজনীতির ফল দিয়েছে নেতিবাচক, তাতে শুধু মাদক পাচারের পরিমান ও সন্ত্রাসের বৃদ্ধিই খালি হতে পেরেছে. লক্ষ্যনীয় হল যে, মার্কিন অনুপ্রবেশের পর রাষ্ট্রসংঘের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী এই দেশে মাদক চাষের পরিমান বৃদ্ধি পেয়েছে চল্লিশ গুণ. সুতরাং দেখাই যাচ্ছে যে, সের্গেই লাভরভের রাষ্ট্রসংঘের বিশেষ আফগানিস্থানের প্রতিনিধির সঙ্গে বলার মতো আলোচনার বিষয় বস্তু কিছু কম পড়ে নি. (sound)