ইরানের পারমানবিক প্রকল্পের বিরুদ্ধে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের কাছে যুক্তরাষ্ট্র বিষয়টি খতিয়ে দেখার আহবান জানায়.ইরানের পারমানবিক প্রকল্প যা বিশ্বে হুঁমকি স্বরুপ উল্লেখ করে দেশটির সম্পর্কে তা পর্যালোচনা করা হবে.তবে ইরানের সমস্যা এখন নতুন দিকে মোড় নিয়েছে.
শুরুতে প্রথমত প্রকল্প ঘোষনার বিষয়টির দিকে আলোকপাত করা যেতে পারে. প্রকল্পটি যা ৬টি রাষ্ট্র কর্তৃক অনুমোধন পায় আর এই ৬টি রাষ্ট্রই হল ইরানোর পারমানবিক সমস্যা বিষয়ে আলোচনার শীর্ষদেশ(এরা সবাই জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী ৫টি দেশ ও জার্মানী).ঐ দলিলে যে বিষয়গুলি উল্লেখ করা হয়েছে তা হল কম্পানীর মজুদ তালিকা যা সম্পর্কিত ইরানের ইসলামী বিপ্লবের সাথে এবং ইরানের পারমানবিক প্রকল্পের কাজে ব্যাবহ্যত ব্লক,সবধরনের ব্লাস্টিক ক্ষেপনাস্ত্র তৈরির কাজ বন্ধ করা ইত্যাদি.অন্যদেশের কাছে ইউরিনিয়াম বিনিয়োগ করা বন্ধ ও ইরানের কাছে ভারী অস্ত্র বিক্রি বন্ধ বিষয়েও ঐ দলিলে বলা হয়েছে.জাতিসংঘে নিযুক্ত রাশিয়ার দূত বিতালি চূরকিন মনে করেন যে,প্রকল্পটি আদর্শ বলেই মনে হচ্ছে বিশেষকরে এটি ইরানের পারমানবিক শক্তি প্রসার করছে না,সামাজিক ক্ষতিসাধনও করছে না এবং ইরানীদের স্থিতিশীল অর্থনীতিতেও কোন সমস্যা সৃষ্টি করছে না .
তবে প্রশ্ন হচ্ছে কী আছে ভাগ্যে এই সংহতিমূলক দলিলের এবং পরবর্তিতে ইরানের সমস্যা কীভাবে নিয়ন্ত্রন করা হবে.তা এখন সবথেকে প্রধান বিষয় হয়ে দাড়িয়েছে যখন অনেকটা অপ্রত্যাশিতভাবেই ব্রাজিল,তুরষ্ক ও ইরান ইউরেনিয়ান মজুদ রাখার বিষয়ে তুরষ্ককে নির্বাচন করে.এমনকি ঐ চুক্তি স্বাক্ষরের পর কেই ই জানায় নি যে ,অবশেষে পারমানবিক প্রকল্প বিষয়ে তেহরানের অবস্থান জানা গেছে.তবে ঐ চুক্তির অভ্যন্ত্যরীন বিষয়ে পরিষ্করাভাবে জানার একমাত্র আন্তর্জাতিক পারমানবিক শক্তি সংস্থাই অধিকার রাখে.এটা অবশ্য পরিষ্কার যে,এর ফলে ইরান ঐ দলিল মতে তাদের ইউরিনিয়াম অন্য দেশে মজুদ রাখার বিষয়ে নিজেদের চুক্তি ঠিক রাখছে, যা নিয়ে ৬ জাতি বিরুদ্ধে অবস্থান করেছিল.
এই সপ্তাহে সবার সাথে টেলিফোনে আলাপের সময় যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারী ক্লিনটনকে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সেরগেই ল্যাভরোভের বলেন যে,ইরান,ব্রাজিল ও তুরষ্কের এই চুক্তিপত্রের ক্ষেত্রে বিশেষ গুরূত্ব দিতে হবে.তার মতে হয়ত এই দলিল তেহরানের পারমানবিক সমস্যা সমাধান করে একটি শান্তিপূর্ন পরিবেশ সৃষ্টি করবে.সেরগেই ল্যাভরব রোমে এক সরকারি সফরে থাকা অবস্থান জানান যে-
আমরা ইতালির সাথে একসঙ্গে এই বিষয়ে জানাতে চাই যে, ইরান পরিষ্কারভাবে নিজেদের দেওয়া অঙ্গিকার রক্ষা করবে এবং অতিশ্রীঘ্রই তারা যেন তাদের ইউরিনিয়াম অন্য দেশে মজুদের বিষয়টি লিখিত আকারে আন্তর্জাতিক পারমানবিক শক্তি সংস্থার কাছে জমা দেয়.মনে করি যে তা জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী কমিটির আলোচনার ক্ষেত্রে কোন অসুবিধা সৃষ্টি করবে না.তাছাড়া এই প্রক্লপ নিয়ে যুক্তরাষ্ট জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের কাছে বিষয়টি খতিয়ে দেখার যে আহবান জানায় তা জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী কমিটির সদস্য রাষ্ট্র ছাড়াও খতিয়ে দেথছে.এবং আমরা সবথেকে উপযুক্ত আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে চিন্তাভাবনা করব যা জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী কমিটির অন্যান্য সদস্য রাষ্ট্র ভাবছে.
হয়তবা এই প্রশ্ন আবার কয়েকটি কোয়ালিশনের আবার রুপ দিতে পারে.তবে আসল বিষয়টি হল ,ব্রাজিল ইতিমধ্যে ঘোষণা দিয়েছে যে,ইরানের ব্যাপারে ব্রাজিলের মধ্যস্থতা করার কিছু নেই.তার উদাহরনস্বরুপ বলা যেতে পারে তুরষ্ক ও লিবিয়ার কথা যারা জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী কমিটির সদস্য নয়.কোনভাবেই চীনের বিষয়টিও একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না.কেউই এখন বলতে পারছে না যে, পরিস্থিতি কোন দিয়ে এগিয়ে যাবে.তবে বর্তমান পরিস্থিতি ইরান বেশ শক্ত অবস্থানে বিজয়ী বেশেই আছে,বেশ কয়েকজন বিশেষজ্ঞদের মতে ইরান চেষ্টা করছে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী কমিটির ও স্থায়ী কমিটি ছাড়াও অন্যান্য রাষ্ট্রসমূহের মধ্যে সম্পর্কের রূপ অনুধাবন করা.
<sound>