আফগানিস্থানের পরিস্থিতি স্থিতিশীল করার জন্য বিদ্রোহীদের সাথে শান্তি প্রস্তাব সব চেয়ে বেশী গুরুত্বপূর্ণ. কাবুলে এই দৃষ্টিকোণ থেকে কথা বলেছেন উত্তর অতলান্তিক জোটের এই দেশে অসামরিক প্রতিনিধি, ব্রিটেনের কূটনীতিবিদ মার্ক সেডউইল.

    এই ক্ষেত্রে কথা হচ্ছে, আফগানিস্থানের সেই সমস্ত দলের কথা, যারা কাবুলে অবস্থিত দেশের কেন্দ্রীয় সরকার ও ন্যাটোর সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে, তাদের শান্তি আলোচনাতে ফিরিয়ে আনা. দেশের রাষ্ট্রপতি হামিদ কারজাই এই বিষয়ে উদ্যোগ নিয়ে এক সময়ে বক্তব্য রেখেছিলেন. তিনি এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছিলেন, কারণ তিনি মনে করেন যে, আফগানিস্থানে শুধু সামরিক শক্তি প্রয়োগ করে জয় লাভ করা সম্ভব নয়. তার অবসানের জন্য প্রয়োজন অন্য ধরনের প্রক্রিয়া ও মাধ্যম, যার মধ্যে তালিবান আন্দোলনের সাথেও কথা বলা দরকার, যারা সরকারের বিরুদ্ধে. কাবুলে এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি নিজের এই অবস্থানের সমর্থনে আবার বক্তব্য প্রকাশ করেছেন.

    ন্যাটো কারজাই এর আহ্বানে সাড়া দিতে শুরু করেছে. সেই মার্ক সেডউইল ও উল্লেখ করেছেন যে, আফগানিস্থানের রাষ্ট্রপতি সমস্ত মধ্যপন্থী তালিবদের, যারা হিংসা ও শক্তি প্রয়োগ থেকে বিরত হতে তৈরী তাদের প্রতি হাত বাড়িয়ে দিতে চেয়েছেন, আন্তর্জাতিক সমাজ তাকে সমর্থন করে. এই প্রসঙ্গে তিনি যারা কোন ভাবেই শান্তি প্রয়াসে আগ্রহী নয়, সেই তালিবদের সাথে কোন রকম সমঝোতার সম্ভাবনাকে নাকচ করেছেন. তাই বলা যেতে পারে জোটের নীতির সম্পূর্ণ পরিবর্তন না হলেও, যথেষ্ট বদল হয়েছে.

    এর ব্যাখ্যা সম্ভব. আফগানিস্থানে সামরিক উপস্থিতি বাড়িয়েও শুধু সামরিক বাহিনীর উপর ভরসা করে আর চলছে না, তা আশার উপযুক্ত ফলও দেয় নি. যুদ্ধ অবিরত, তার উপরে দেশের বহু এলাকাতেই তালিবেরা তাদের নিয়ন্ত্রণ বাড়িয়েছে. কিন্তু এখানে তালিব ধারণা, কিছুটা অতিরঞ্জিত, বলা যেতে পারে সমষ্টি গত, যা সব সময়ে বাস্তবের সঙ্গে মেলে না, এই মনোভাব নিয়েই প্রাচ্য বিশেষজ্ঞ সের্গেই দ্রুঝিলভস্কি মন্তব্য করে বলেছেন:

    "২০০৬ সাল থেকেই আফগানিস্থানে দেশের অনেক লোক যুদ্ধে নিরত হয়েছে, উপজাতি দের নেতারা, যুদ্ধ ক্ষেত্রের সর্দারেরা, যারা তালিবদের সঙ্গে যুক্ত না থাকলেও যুদ্ধ করছে তাদের মতে বিদেশী শক্তির অনুপ্রবেশ কারীর বিরুদ্ধে. তাই কারজাই মনে করেছেন উপজাতি দের নেতাদের ও সর্দার দের শান্ত করা দরকার. এই পথেই একমাত্র কোন একটা সহমতে পৌঁছনো সম্ভব হতে পারে".

    আর এই ভাবেই দেশে শান্তির প্রয়াসের সৃষ্টি ও একই সঙ্গে বর্তমানের সরকারের ভিত্তিকেও দৃঢ় করা সম্ভব হতে পারে. তালিবান দলের চরমপন্থীদের বিষয়ে কারজাই এর মত, তাদের কোন একটি মুসলিম দেশে পালিয়ে যাওয়ার জায়গা দেওয়া যেতে পারে.

    এখন প্রশ্ন হল, এই ধরনের ঘটনা প্রবাহ কতদূর অগ্রসর হতে পারে? সেই তালিব দেরই নেতারা বহুবার কারজাই এর প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে ও বলেছে যে, তারা দেশে যতদিন বিদেশী সৈন্যবাহিনী থাকবে, ততদিন কোন ভাবেই আলোচনা করতে বসবে না. আর তার ওপরে তারা কখনোই সরকারে ফিরে আসা নিয়ে তাদের দাবী প্রত্যাহার করে নেওয়ার কথা বলে নি. তা ছাড়া আফগানিস্থানে যে কোন পরিবর্তনই গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও সামাজিক অভ্যুত্থান বিনা সম্ভবই নয়.

<sound>