ইরানের বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞা গুলি মার্কিন প্রতিনিধিদল নিরাপত্তা পরিষদের বিবেচনার জন্য প্রস্তাব করেছে. এই নিষেধাজ্ঞা গুলি অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে এই দেশের বিরুদ্ধে, যাদের পারমানবিক পরিকল্পনা আন্তর্জাতিক সমাজের আশঙ্কার কারণ হয়েছে.

    ইরানের অর্থনীতির পক্ষে অচল করার মতো কোন নিষেধাজ্ঞা, যার কথা মাস দুয়েক আগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং তার সহযোগী দেশেরা তুলেছিল, তা অবশ্য যখন সিদ্ধান্তের বিষয়ে কাজ শুরু করা হয়েছিল, তখন তার বয়ানে দেখতে পাওয়া যায় নি. এই বিষয়টি সম্ভব হয়েছে, রাশিয়া ও চীনের নীতিগত অবস্থানের জন্যই, যারা প্রথম থেকেই উল্লেখ করেছেন যে, এই নিষেধাজ্ঞা যেন ইরানের সরকারের উপর চাপ সৃষ্টির জন্যই শুধু করা হয়, ইরানের জনতার জন্য যেন শাস্তি না হয়. এই দলিলে শুধু মাত্র সেই বিষয় গুলি সম্বন্ধেই বলা হয়েছে, যে গুলি সরাসরি ভাবে ইরানের পারমানবিক পরিকল্পনার লক্ষ্য পূরণে এবং নিরস্ত্রীকরণের শর্ত ভঙ্গের ক্ষেত্রে সহায়ক হতে পারে.

    অংশতঃ এখানে ঐসলামিক প্রজাতন্ত্র ইরানকে সরবরাহের অনুপযুক্ত অস্ত্র সম্ভারের তালিকাকে দীর্ঘায়িত করা হয়েছে, তেহরানের পারমানবিক পরিকল্পনার পক্ষে সহায়ক হতে পারে এই রকম সন্দেহের উত্পত্তি হলেই ইরানের ব্যাঙ্ক গুলিকে আন্তর্জাতিক ভাবে অর্থ বিনিময় করতে ও নতুন শাখা তৈরী করতে গেলে বাধা দেওয়া হবে. অন্যান্য কয়েকটি ব্যবস্থার কথাও বলা হয়েছে. একই সঙ্গে রাশিয়ার পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রধান সের্গেই লাভরভ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্র সচিব হিলারি ক্লিন্টনের সাথে টেলিফোনে কথা বলার সময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় সংঘের ইরানের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সার্বজনীন সিদ্ধান্ত ছাড়াও আলাদা ব্যবস্থা নেওয়া সম্বন্ধে আসা সংবাদ সম্পর্কে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন. এখানে বলা হয়েছে ইরানের বিরুদ্ধে একতরফা ব্যবস্থা নেওয়ার কথা, যা বিশ্ব সমাজের সিদ্ধান্তের আওতার বাইরে এবং আন্তর্জাতিক আইনের প্রভুত্ব সম্পর্কিত নীতির বিরোধী, যা রাষ্ট্রসংঘের সনদে বলা আছে.

    প্রসঙ্গতঃ এই প্রস্তাবিত দলিলে যে সব কথা বলা হয়েছে, তা বর্তমানের নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্যদের মধ্যে কোন বিশেষ আপত্তির কারণ হয় নি. এরপর নিজেদের অবস্থান রাষ্ট্রসংঘের অন্যান্য নেতৃত্ব দান কারী দেশ গুলি প্রকাশ করতে বাধ্য. এখনও পরিস্কার নয়, যে, এই দলিল কবে সব দেশের সমর্থন পাবে. জানা আছে যে, পরিষদের কিছু দেশ ইরানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা সম্বন্ধে সংশয় প্রকাশ করেছে. এই বিষয়ে বিশেষত ব্রাজিল ও তুরস্কের সম্পর্কে বলা যেতে পারে. সোমবারে এই দুটি দেশ ইরানের কাছ থেকে তুরস্কে অনতি সমৃদ্ধ (৩, ৫ শতাংশ) ইউরেনিয়াম নিয়ে বিনিময়ে শতকরা ২০ শতাংশ সমৃদ্ধ পারমানবিক জ্বালানী সরবরাহ করার চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে. অবশ্যই এই চুক্তি আলোচিত হবে. এই বিষয়ে রাশিয়ার রাষ্ট্রসংঘে স্থায়ী প্রতিনিধি ভিতালি চুরকিন ঘোষণা করে বলেছেন:

    আমরা ব্রাজিল ও তুরস্কের উদ্যোগকে খুবই উচ্চ মূল্যায়ণ করেছি, যারা ইরানের সঙ্গে তেহরানের অনুসন্ধানের রিয়্যাক্টরের জ্বালানী সরবরাহের জন্য নেওয়া পরিকল্পনা সম্বন্ধে নির্দিষ্ট চুক্তিতে আসতে পেরেছে. আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই খুব জরুরী প্রথম পদক্ষেপ হবে ইরানের পক্ষ থেকে আন্তর্জাতিক পারমানবিক শক্তি নিয়ন্ত্রণ সংস্থাকে এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় চিঠি পাঠানো, আমরা আমাদের সহযোগীদের সঙ্গে এই চিঠি খুবই মন দিয়ে খুঁটিয়ে পড়ব.

    ব্রাজিল ও তুরস্কের রাজনীতিবিদেরা এতেই থেমে থাকছেন না, ব্রাজিলের পররাষ্ট্র মন্ত্রী সেলসু আমোরিম মনে করেন যে, দেশের বাইরে ইরানের শান্তিপূর্ণ পারমানবিক পরিকল্পনার জন্য জ্বালানী সমৃদ্ধ করার তিন দেশের চুক্তি বিশ্লেষণের জন্য তেহরানের কিছু সময়ের প্রয়োজন. আঙ্কারা নিজেদের পক্ষ থেকে মনে করে যে, এই ত্রৈদেশীয় চুক্তি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইরানের বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞা গুলি সম্বন্ধে আনা প্রস্তাবকে নিরাপত্তা পরিষদের আলোচ্য বিষয় তালিকা থেকে বাতিল করার জন্য যথেষ্ট. এছাড়াও ব্রাজিল ও তুরস্ক ইরান সম্বন্ধে ছয় মধ্যবর্তী দেশের আলোচনা সভাতে অংশগ্রহণের ইচ্ছাও প্রকাশ করেছে. (sound)