জলদস্যুতার বিরুদ্ধে সংগ্রামে আন্তর্জাতিক জনসমাজের মূলনীতিগত স্থিতির ভিত্তিতে থাকা উচিত এই মূলনীতিঃ কোনো ক্ষেত্রেই জলদস্যুদের অর্থদান না করার ব্যবস্থা সুনিশ্চিত করা. সামুদ্রিক জলদস্যুদের ভবিষ্যত্ ক্রিয়াকলাপে তাদের মুক্তিপণ দেওয়ার মতো আর কিছু তাদের বেশি অনুপ্ররণা দেয় না, এ সম্পর্কে রেডিও রাশিয়াকে প্রদত্ত ইন্টারভিউতে বলেছেন সামুদ্রিক আইন সংক্রান্ত বিশিষ্ট বিশেষজ্ঞ, রাশিয়ার বিজ্ঞান অ্যাকাডেমির রাষ্ট্র ও আইন ইনস্টিটিউটের বিশিষ্ট বৈজ্ঞানিক কর্মী ভাসিলি গুসুলিয়াক.

   সেই সঙ্গে বিশেষজ্ঞ উল্লেখ করেন যে, জাহাজের মালিকেরা জাহাজ দাড়িঁয়ে থাকা ও সামুদ্রিক পরিবহণের চুক্তিবদ্ধ বাধ্যবাধকতা লঙ্ঘন সংক্রান্ত গুরুতর ক্ষতি এড়ানোর জন্য মুক্তিপণ দিতে বাধ্য হয়. বিশেষ করে কঠিন পরিস্থিতি দেখা দেয়, যদি জাহাজ বীমা করা না থাকে. উপরন্তু জাহাজ যদি বিপজ্জনক এলাকার দিকে রওনা হয় তাহলে বীমাকারীরা সঙ্গে সঙ্গেই নিজেদের সার্ভিসের মূল্য যথেষ্ট বাড়িয়ে দেয়. এ সবের ফলে এক বদ্ধচক্র গড়ে ওঠে, যখন জাহাজের মালিকই শুধু মুক্তিপণ দেওয়ার সম্ভাবনা সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়.
   জাহাজ দখলের পরের ক্রিয়াকলাপের কথা বলার সময় সতর্কতামূলক ব্যবস্থার প্রতি মনোযোগ না দিয়ে পারা যায় না, যা এডেন উপসাগর ও আফ্রিকান হর্নের এলাকায় সমুদ্রযাত্রার নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করবে. ভাসিলি গুসুলিয়াকের স্থিরবিশ্বাস যে, সম্প্রতি রাশিয়ার জাহাজে অনুষ্ঠিত সম্মেলন, যাতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোসঙ্ঘের প্রতিনিধিদের আমন্ত্রণ করা হয়েছিল, এ অঞ্চলে কার্যকলাপ চালানো নৌবাহিনীগুলির সমন্বয় উন্নত করতে সাহায্য করবে. আজ জাহাজ দখলের এলাকায় অবিলম্বে যাত্রা করে যুদ্ধজাহাজগুলি. ফলে অন্যান্য জায়গা ফাঁকা হয়ে যায়, আর এ অবস্থা ব্যবহার করে জলদস্যুরা, যারা যুদ্ধজাহাজের যাতায়াত সন্বন্ধে ভালভাবেই অবগত.
   আর জলদস্যুদের বিচার করার প্রয়োজনীয়তা সম্বন্ধে বলব যে, এ জন্য আন্তর্জাতিক ট্রাইবুনাল গঠন করা দরকার, যা আপাতত যথেষ্ট সমস্যাপূর্ণ, জোর দিয়ে বলেন বিশেষজ্ঞঃ
   জলদস্যুতা সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক ট্রাইবুনাল গঠনের প্রস্তাব বহুকাল ধরেই শোনা য়াচ্ছে এবং যথেষ্ট উচ্চ পর্যায়ে. এমন ধারণা প্রথম প্রকাশ করেন ফরাসী রাষ্ট্রের নেতা. রাশিয়ার নেতা এ উদ্যোগ সমর্থন করেন, অন্যান্য রাষ্ট্রীয় কর্মীও নিজেদের প্রস্তাব উথ্থাপন করেন. কিন্তু বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক সঙ্কটের পরিবেশে কোনো আন্তর্জাতিক সংগঠনের প্রতিষ্ঠা   রাষ্ট্রসঙ্ঘের সদস্য দেশগুলির করদাতাদের ঘাড়ে কঠিন বোঝা হিসেবে পড়বে. এ পদকের অন্য একটা দিকও আছেঃ পৃথক আন্তর্জাতিক সংস্থা গঠন করা, যা শুধু জলদস্যুদের বিষয় নিয়েই কাজ করবে- তার অর্থ, এক সাময়িক সংস্থা গঠন করা, কারণ জলদস্যুতার সমস্যা আগে হোক পরে হোক দূর হয়ে যাবেই.
   আজ প্রত্যক্ষ হয়ে উঠছে যে, জলদস্যুতাকে জয় করা সম্ভব নয়, যতদিন সোমালির উপকূলের কাছে যথেষ্ট এলাকা ফলপ্রসূ রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ থেকে বঞ্চিত থাকবে এবং জলদস্যুরা তা নিজেদের ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করবে. তাই, এ প্রসঙ্গে, মোটেই আপতিক ব্যাপার নয় যে, রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদের একটি সিদ্ধান্তে সোমালির স্থল এলাকাতেও সশস্ত্র বাহিনী প্রয়োগে অন্যান্য দেশের অধিকার যথেষ্ট মাত্রায় বাড়ানো হয়েছে. অন্য ব্যাপার হল স্থলভাগে সৈন্যবাহিনী ব্যবহারের ফর্মেট সম্বন্ধে সমঝোতায় আসা.
   তবে, মনে হয়, আজ প্রধান ব্যাপার হল- ইউরোসঙ্ঘ, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মাঝে প্রচেষ্টা সমাবেশের সর্বসম্মতি অর্জন, আর তা শুধু জলদস্যুদের আটক করাতেই নয়, পরবর্তীতে তাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারী মামলা চালানোর ক্ষেত্রেও.