ব্রাজিল ও তুরস্ক ইরানের সঙ্গে চুক্তি করেছে যে, ইরানের পারমানবিক জ্বালানী দেশের বাইরেই সমৃদ্ধ করে দেবে. সোমবারে তেহরানে এই চুক্তি নিয়ে ব্রাজিলের রাষ্ট্রপতি ইনাসিও লুইসা ডা সিলভা ও ইরানের রাষ্ট্রপতি মাহমুদ আহমাদিনিজাদ ও তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী তাইপ এরদোগান এর দীর্ঘ আলোচনার শেষে এই সিদ্ধান্তে পৌঁছনো সম্ভব হয়েছে.

    তিন দেশের পররাষ্ট্র দপ্তরের মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তি অনুযায়ী তেহরানের বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধানের রিয়্যাক্টরের জন্য ইরান তাদের নীচু মানের ইউরেনিয়ামের বদলে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম নিতে রাজী হয়েছে. এই বদল করা হবে তুরস্কের জমিতে, বদলের জন্য তৈরী ইরানের সাড়ে তিন শতাংশ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের পরিমান ১২০০ কিলোগ্রাম. তার বদলে তেহরান পাবে ১২০ কিলোগ্রাম ২০ শতাংশ অবধি সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম. তিন দেশের এই চুক্তির অর্থ সম্বন্ধে  রাশিয়ার বিজ্ঞান একাডেমীর প্রাচ্য দেশ ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ বরিস দোলগভ রেডিও রাশিয়াকে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে বলেছেন:

    "এটা ইরানের মামলায় শান্তিপূর্ণ ভাবে রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর ক্ষেত্রে অবশ্যই সাফল্য বলা যেতে পারে. যেহেতু আমাদের জানা আছে যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র জোর দিয়ে চেয়েছিল ইরানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারী করতে ও ইউরোপীয় সংঘ তা সমর্থন করেছিল, বিশেষত ইজরায়েল, যারা ভয় পেয়েছিল যে, তেহরান পারমানবিক অস্ত্র তৈরী করতে পারে যা ইজরায়েলের বিরুদ্ধে ব্যবহার করতে পারে. তাই ইরানের সঙ্গে চুক্তি করতে পারা অবশ্যই একটা ইতিবাচক পদক্ষেপ".

    যা ঘটছে, তার মূল্যায়ণ করতে হলে, মনে করিয়ে দিতে হবে যে, আন্তর্জাতিক সমাজের সঙ্গে ইরানের সমস্যার একটি মূল বিষয় হল ইউরেনিয়ামের সমৃদ্ধি করণ. গত বছরের অক্টোবর মাসে আন্তর্জাতিক পারমানবিক শক্তি নিয়ন্ত্রণ সংস্থা ইরানকে একটি পথের প্রস্তাব করেছিল, দেশের বাইরে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করতে বলে. প্রাথমিক ভাবে ইরানের প্রতিনিধিরা এই প্রস্তাবে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছিল. কিন্তু পরে তারা শর্ত আরোপ করতে শুরু করেছিল, যা বাস্তবে তাদের এই প্রশ্নের সমাধান তারা করতে চাইছিল না বলেই মনে হয়েছে, তার ওপরে এই বছরের ফেব্রুয়ারী মাসে ইরান নিজেরাই কুড়ি শতাংশ সমৃদ্ধি করণের কাজ শুরু করেছিল, যার ফলে তাদের পারমানবিক পরিকল্পনার লক্ষ্য নিয়েই সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছিল. ফলে স্বাভাবিক ভাবেই ইরানের প্রতি সম্পর্কের ক্ষেত্রে তার প্রভাব অনিবার্য ছিল, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের ইউরোপের সহকর্মী দেশেরা ইরানের বিরুদ্ধে আরো কঠোর নিষেধাজ্ঞা নেওয়ার জন্য পীড়াপীড়ি করতে শুরু করছিল

    যদি তেহরানের চুক্তির বাস্তবায়ন হয়, তা হলে ইরানের পারমানবিক পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা এর পর কানা গলি ছেড়ে বেরোতে পারবে. উল্লেখ করতে পারি যে, ইরানের রাজধানীতে স্বাক্ষরিত দলিল যদিও তিন দেশের, তাও এর পেছনে বহু দেশের সক্রিয় কাজ রয়েছে, আর তা প্রাথমিক ভাবে রাশিয়ার. মনে করিয়ে দেওয়া যেতে পারে যে, গত সপ্তাহে ব্রাজিলের রাষ্ট্রপতি ও তুরস্কের প্রধানমন্ত্রীর সাথে রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি দিমিত্রি মেদভেদেভ দেখা করেছেন, এই সমস্ত আলোচনার সময়ে ইরানের পারমানবিক সমস্যা একটি মূল আলোচ্য বিষয় ছিল. সম্মিলিত সাংবাদিক সাক্ষাত্কারে মস্কো শহরে দিমিত্রি মেদভেদেভ এই বিষয়টি তাঁর ব্রাজিলের সহকর্মীকে তেহরানে যাওয়ার পরিস্কার করে বলে একটি পাথেয় মূলক সংজ্ঞা দিয়েছিলেন. তখন রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি বলেছিলেন যে, যদি ইরানকে এই ধরনের সহযোগিতায় রাজী করানো সম্ভব হয়, তাহলে তা খুব ভাল হবে.

<sound>