রাশিয়া ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে মনে করা হয়েছে যে, রণনৈতিক আক্রমণাত্মক অস্ত্রসজ্জা সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষরের অর্থ হল ঠাণ্ডা যুদ্ধের সম্পূর্ণ অবসান. তাঁরা ঘোষণা করেছেন যে, দুই দেশেরই প্রাথমিক কাজ হবে এই দলিলের আইন সম্মত গ্রহণ. রাশিয়া ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দল, যাঁরা এই দলিল নিয়ে আলোচনা করেছেন, তাঁরা বৃহস্পতিবারে সম্মিলিত ভাবে এই ঘোষণা প্রচার করেছেন. আমাদের রাজনৈতিক সমীক্ষক ভিক্তর এনিকিয়েভ এই বিষয়ে বিশদ করে লিখেছেন.

    বোধহয় হিসেবের ভুল হয়ে যাবে, যদি গুনতে বসা যায় যে, ইতিমধ্যে কতবার মহাসমুদ্রের দুই পার থেকে ঠাণ্ডা যুদ্ধ শেষ হওয়ার কথা ঘোষণা করা হয়েছিল. বাস্তবে এই নিয়ে বলা শুরু হয়েছিল গণতান্ত্রিক রাশিয়ার প্রতিষ্ঠা ও রাষ্ট্রপতি বরিস ইয়েলতসিন ও সিনিয়র জর্জ বুশের সময়েই. এখন শুধু পরিস্কার হয়েছে যে, মস্কো ও ওয়াশিংটন এবং তার সঙ্গে সারা বিশ্বেই ঠাণ্ডা যুদ্ধের সম্পূর্ণ শেষ অবস্থায় পৌঁছনো সম্ভব হয়েছে.

    এ বিষয়ে কোন উচ্চ গ্রামে ঘোষণা দিয়ে কিছু বলা হয় নি, বরং রাশিয়া ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র রণনৈতিক আক্রমণাত্মক অস্ত্রসজ্জা নিয়ে নতুন চুক্তি স্বাক্ষর করেছে. প্রাগে এই বছর ৮ই এপ্রিল রাষ্ট্রপতি দিমিত্রি মেদভেদেভ ও বারাক ওবামা এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছেন. খুবই দেখার মত কাজ হয়েছে যে, দুই পক্ষ শুধু মাত্র পারমানবিক অস্ত্র একের তৃতীয়াংশ কম করতেই রাজী হয় নি অথবা তার পরিমান শুধু বাস্তবেই পঞ্চাশ বছর আগের মত করতে চেয়েছে, বরং এমন একটি স্মরণীয় দলিল তৈরী হয়েছে রেকর্ড কম সময়ে, এক বছরেরও কমে. এই ঘটনা সাক্ষ্য দেয় দুই দেশের মধ্যে বিশ্বাসের বৃদ্ধিকে, পারস্পরিক বোঝাপড়াকে এবং মস্কো ও ওয়াশিংটনের খোলাখুলি প্রয়োজনকেও. তারই সঙ্গে দুই দেশের সম্পর্ককে আরও অনেক উঁচু স্তরে উত্তরণ করানো সম্ভবপর হয়েছে. এর ফলে দুই দেশের নিরাপত্তা বাড়বে এবং তাদের সম্পর্ক আরও স্বচ্ছ হবে, স্থিতিশীল ও পূর্ব অনুমান যোগ্য হবে. একই সঙ্গে সারা বিশ্বেই স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা বৃদ্ধি পাবে. প্রসঙ্গতঃ রাশিয়া ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক দপ্তরের সম্মিলিত ঘোষণা থেকেই এই উক্তি উদ্ধৃত করা হল.

    একই সঙ্গে ঠাণ্ডা যুদ্ধ শেষ হয়েছে বলে এখনই আকাশে টুপি ছোঁড়া বোধহয় তাড়াতাড়ি করা হয়ে যাবে. এ ক্ষেত্রে বোধ হয় ঠিক হবে শেষ অবধি দেখে যাওয়া, আর তা করা সম্ভব হবে যখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সেনেট ও রাশিয়ার লোকসভার দুই কক্ষই রণনৈতিক আক্রমণাত্মক অস্ত্রসজ্জা সংক্রান্ত নতুন চুক্তি সম্পূর্ণ ভাবে গ্রহণ করবে. আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই দুই দেশের আইন প্রণেতারা এই চুক্তি নিয়ে আলোচনা শুরু করবেন. তাই খুবই যুক্তি সঙ্গত হবে যদি মনে করা হয় যে, দুই দেশের পক্ষ হয়ে আলোচনা করা প্রতিনিধি দলের ঘোষণাও এই সময়ের কথা মাথায় রেখেই করা, যাতে আবারও এই গুরুত্বপূর্ণ চুক্তির গুরুত্ব বোঝানো যায়, যা শুধু মাত্র রাশিয়া ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তাই বৃদ্ধি করবে না, একই সঙ্গে সারা বিশ্বেরও করবে. আর দুই দেশের পার্লামেন্টের সদস্যদের এই চুক্তির প্রতি সুনজর থাকলে এই বছরের শেষের আগেই এই গ্রহণের কাজ সম্পূর্ণ হতে পারে.

<sound>