মস্কো ও ব্রেজিল ব্রিক সংগঠনের বিন্যাসে চীন ও ভারতের সাথে সহযোগিতা সুদৃঢ় করায় নতুন নতুন দৃষ্টিভঙ্গী গঠনে এবং রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক সংলাপে অতিরিক্ত প্রেরণা দিতে চায়. এ ব্যাপারে সাহায্য করবে মস্কোয় ১৩-১৪ই মে ব্রেজিলের রাষ্ট্রপতি লুইস ইনাসিউ লুলা দ্য সিলভার সরকারী সফর.

   বর্তমানে ল্যাটিন আমেরিকার এই বিশাল দেশ- এ মহাদেশে রাশিয়ার বৃহত্তম শরিক. সাধারণভাবে, রুশ-ব্রেজিলীয় সম্পর্কের ইতিহাস প্রায় দু শতকের. চিত্তাকর্ষক ব্যাপার হল এই যে, ১৯শ শতকের শেষ দিকে ব্রেজিলই ছিল ল্যাটিন আমেরিকার একমাত্র দেশ, যার সাথে রাশিয়া নিয়মিত বাণিজ্যিক সম্পর্ক বজায় রেখেছিল. বর্তমানে রুশ-ব্রেজিলীয় পণ্য-আবর্তন প্রায় ৭০০ কোটি ডলারের মতো. পক্ষদ্বয় শান্তিপূর্ণ পরমাণু, মহাকাশ, বিমান নির্মাণ, জ্বালানী ও বিদ্যুত্শক্তি এবং ন্যানো-টেকনোলজির ক্ষেত্রে যৌথ প্রকল্প গঠনের প্রতি ক্রমবর্ধমান আগ্রহ প্রকাশ করছে, যাতে পণ্য-আবর্তনে ১০০০ কোটি ডলারের মান অতিক্রম করা যায়.
   মস্কোয় রাশিয়া ও ব্রেজিলের রাষ্ট্রপতিরা সামরিক-প্রযুক্তিগত সহযোগিতার পরিপ্রেক্ষিত আলোচনা করবেন, যে ক্ষেত্রে রাশিয়ার সুযোগ-সম্ভাবনা আছে ব্রেজিলের অস্ত্র-বাজারে মাকিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের একসারি দেশের সাথে গুরুতরভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার, উল্লেখ করেন রাশিয়ার বিজ্ঞান অ্যাকাডেমির ল্যাটিন আমেরিকা ইনস্টিটিউটের ডিরেক্টর ভ্লাদিমির দাভিদোভঃ
   ইতিবাচক সঙ্কেত হল ব্রেজিলের দ্বারা রাশিয়ার হেলিকপ্টার কেনা. এই উত্পন্ন-দ্রব্যের দ্বারা রাশিয়া সেখানে যথেষ্ট গুরুতর বাজার খুলেছে. জ্বালানী ও বিদ্যুত্শক্তির ক্ষেত্রেও পারস্পরিক ক্রিয়াকলাপের জন্য প্রশস্ত জায়গা আছে. ব্রেজিল হয়ে উঠছে তেলের বড় উত্পাদক ও রপ্তানীকারী, শেল্ফ অঞ্চল আয়ত্ত করছে. রাশিয়ার এ ক্ষেত্রে যথাযথ অভিজ্ঞতা আছে, বড় বড় কোম্পানিও আছে, যারা শুধু ইঞ্জিনিয়ারিং সার্ভিসই নয়, অবশ্যই তা খুবই প্রয়োজনীয়, তাছাড়া পুঁজি বিনিয়োঘ করতেও সক্ষম. আমাদের প্রয়োজন আরও উচ্চ মানের অর্থনৈতিক সহযোগিতায় উত্তরণের, বিশেষ করে বিমান ও মহাকাশের ক্ষেত্রে. ব্রেজিল- বিমান-প্রযুক্তির অন্যতম বড় উত্পাদক এবং এ ক্ষেত্রে সমবায় খুবই উপকারী হবে.
   অন্যান্য ল্যাটিন আমেরিকান দেশের মতো ব্রেজিলেও পারমাণবিক বিদ্যুত্শক্তি ক্ষেত্রের উথ্থান হচ্ছে. আর এদিকে রাশিয়া আজ একমাত্র দেশ, যে একই সঙ্গে পাঁচটি দেশে পারমাণবিক বিদ্যুত্শক্তি কেন্দ্র নির্মাণ করছে এবং ব্রেজিলেও পারমাণবিক বিদ্যুত্শক্তির বিকাশে অংশ নিতে সক্ষম, মনে করেন ভ্লাদিমির দাভিদোভঃ
   ভারতের সাথে সাম্প্রতিক চুক্তির কথা স্মরণ করাই যথেষ্ট হবে, যা অনুযায়ী, ঐ দেশে রাশিয়ার ব্যাপক অংশগ্রহণে বড় বড় পারমাণবিক বিদ্যুত্শক্তি কেন্দ্রের নির্মাণ অনুমিত. এ ক্ষেত্রে আমরা কাজ করছি চীনে, ইরানে, এবং অন্যান্য দেশে. এ ক্ষেত্রে ব্রেজিল রাশিয়ার এক শরিক হতে পারে. এখানে গুরুত্বপূর্ণ হল সুনির্দিষ্ট কাজ এবং আগ্রহ, যা আছে এবং আশা করা যেতে পারে যে, দুই রাষ্ট্রপতির সাক্ষাতে তা বিধানিকভাবে সূত্রবদ্ধ হবে.
   রাশিয়া ও ব্রোজিল আজকের আন্তর্জাতিক বিন্যাসে অন্যতম প্রভাবশালী সংগঠনের অংশগ্রহণকারী, যার নাম ব্রিক. আমাদের দু দেশ ছাড়া ভারত এবং চীনও এ সংগঠনের অন্তর্ভুক্ত. বহু বিশেষজ্ঞের মতে, ব্রিক দেশগুলিই হল সেই ট্রেন-ইঞ্জিন, যা বিশ্ব অর্থনীতিকে আজ সঙ্কট থেকে বার করে আনছে. এই চার দেশ আন্তর্জাতিক রাজনীতির জরুরী সব প্রশ্নেও ঘনিষ্ঠ পারস্পরিক ক্রিয়াকলাপ চালাচ্ছে, যার দরুণ এ সব সমস্যার মীমাংসায় আরও সক্রিয়ভাবে প্রভাব বিস্তার করতে পারছে. এরই মধ্যে পড়ে- ইরানের পারমাণবিক সমস্যা, আফগানিস্তানে পরিস্থিতি স্থিতিশীল করা এবং তাছাড়া নিকট প্রাচ্য মীমাংসার প্রক্রিয়া. আশা করা হচ্ছে যে, ক্রেমলিনে রাশিয়া ও ব্রেজিলের রাষ্ট্রপতিদের সাক্ষাতে পক্ষদ্বয় এ সব বিষয়ে এবং অন্যান্য উত্তপ্ত এলাকা সম্পর্কে নিজেদের স্থিতির সমন্বয় সুদৃঢ় করতে পারবে.
<sound>