200মস্কোর রেড স্কায়ারে ৯ মে পিতৃভূমি বিজয়র ৬৫ বছর উপলক্ষে যে সামরিক কুঁচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হয় আধুনিক রাশিয়ার ইতিহাসে তা ছিল অংশগ্রহনকারী ও দর্শকের সংখ্যার দিক দিয়ে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য.অনুষ্ঠানে এবারেই প্রথম হিটলারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন কোয়ালিশন দেশসমূহ রাশিয়ার সামরিক বাহিনীর সাথে কুঁচকাওয়াজে অংশ নেয়.বিস্তারিত জানাচ্ছেন বিয়াচয়েসলাব সলোভেব.
কুঁচকাওয়াজ অনুষ্ঠান শুরু হয় মস্কো সময় ঠিক ১০ টায়.অনুষ্ঠানস্থলে প্রতিরক্ষামন্ত্রী সৈনিক আনাতলী সেরদিউকবের আগমনের পর তিনি উপরের সারির প্রধান,রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভকে কুঁচকাওয়াজের বিবরন পাঠ করে শোনান.রাষ্ট্রের প্রধান এরপর সংক্ষিপ্ত স্বাগত বক্তব্য রাখেন.প্রেসিডেন্ট তার ঐ বক্তব্যে দৃড়তার সাথে বলেন,মহান পিতৃভূমি যুদ্ধ রাশিয়াকে করেছে সাহসী জাতি এবং আজকে মস্কোতে বহুজাতির অংশগ্রহনের এই কুঁচকাওয়াজ পৃথিবীকে রক্ষা করার সম্মিলিত প্রয়াস :
‘২য় বিশ্ব যুদ্ধের শিক্ষা যা আমাদেরকে সহানুভূতিশীল হওয়ার শিক্ষা দেয়.বিশ্ব ভঙ্গুর সদৃশ্য এবং আমাদের অবশ্যই স্মরণ রাখা উচিত যে,হিংসা যা পরবর্তিতে শক্তির রূপ নেয় .যদি সামনে তা এগিয়ে আসে,তবে তা এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করতে হবে.শুধুমাত্র একসাথেই আমরা বর্তমান বিভিন্ন প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে পারব,প্রতিবেশী রাষ্ট্রসমূহের সাথে শুধুমাত্র বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কই সর্বক্ষেত্রে নিরাপত্তার সংক্রান্ত সমস্যা সমাধানে কাজ করতে পারে.যার ফলে সুন্দর পুরো বিশ্বে ছড়িয়ে পরতে পারে এবং ভবিষ্যত প্রজন্মদের জীবন যেন হয় স্বাধীন ও সৌভাগ্যের.
প্রানপ্রিয় প্রবীন যোদ্ধারা!৬৫ বছর পূর্বে আপনারা পৃথিবীতে সংগ্রাম করেছেন আমাদের দেশের জন্য পুরো বিশ্বের জন্য এবং আমাদের দিয়েছেন নিজেদের মত বাঁচার সুযোগ.আপনাদের সবাইকে অভিনন্দন, মহান বিজয়ের দিনের শুভেচ্ছা’.
প্রেসিডেন্টের বক্তব্যের পরই রুশ ফেডারেশনের জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন করা হয়.জাকঁজমকপূর্ন ঐ কুঁচকাওয়াজ শুরুর উদ্ধোধনীতে ব্রিগেডিয়ার সৈনিকদের ঢোলের বাদ্য বেঁজে ওঠে.এরপর রেড স্কয়ারে বিভিন্ন সামরিক দল এগিয়ে যায়.উল্লেখযোগ্য ঘটনার এই কুঁচকাওয়াজ যা ছিল এই বিজয়ের অন্যতম স্মরণীয় দিক.এই উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের কাজ করে সামরিক শক্তির প্রধান জাদুঘর.এরপরই কুঁচকাওয়াজের ঐতিহাসিক অংশ শুরু হয়,১৯৪১-১৯৪৫ সাল পর্যন্ত পিতৃভূমি যুদ্ধে সৈনিকরা যে পোশাক পরিধান করে ঠিক অনুরূপ পোশাকে রাশিয়ার সামরিক বাহিনীর সদস্যরা কুঁচকাওয়াজে অংশ নেয়.তাদের পিছনে কুঁচকাওয়াজ প্রদর্শনের জন্য একে একে এগিয়ে যায় স্বাধীন কমনওয়েলথভুক্ত দেশসমূহের সেনাবাহিনীর দল.
এবারই প্রথামবারের মত রেড স্কয়ারের এই সামরিক কুঁচকাওয়াজে পার্শবর্তী হিটলার বিরোধী কোয়ালিশন দেশসমূহের সামরিক দল অংশ নেয়.এরা হল পোল্যান্ডের বিশেষ সামরিক দল,যুক্তরাজ্যের উলস বিগ্রেডিয়ার,ফ্রান্সের বিমান বাহিনীর পাইলট দের দল ‘নরমানদিয়ে নেমান’ এবং যুক্তরাষ্ট্রের ২য় ব্যটেলিয়ানের ১৮ পদাতিক দল.
এরপর শুরু হয় কুঁচকাওয়াজের আধুনিক অংশ-সামরিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দল ধীরে ধীরে এগিয়ে যায়,একই সাথে সামরিক বাহিনার বিভিন্ন বিভাগ ও শ্রেনীর সৈন্যরা এই অংশে কুঁচকাওয়াজ প্রদর্শন করে.এদের পিছনেই এগিয়ে যায় সামরিক বাহিনীর সাঁজোয়াযান -যেখানে ছিল সামরিক বাহিনীর ট্রাঙ্ক,অস্ত্র ও গোলা-বারুদ পরিবহন যানসহ যুদ্ধক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সবধরনের সামরিক যানবাহন.কুঁচকাওয়াজে যারা দর্শকের আসনে ছিলেন তাদের সবারই বেশী নজরকারে ২য় বিশ্ব যুদ্ধের বিখ্যাত ট্রাঙ্ক টি-৩৪ যা পরবর্তিতে নাম দেওয়া হয় “বিজয়ের অস্ত্র”. এবারই এই প্রথমবারের মত পিতৃভূমি যুদ্ধ বিজয়ের কুচকাওয়াজে প্রদর্শন করা হয় নতুন রকেট কমপ্লেক্স তোপল –এম.কুঁজকাওয়াজে দর্শকদের বিশেষ দৃষ্টি আকর্ষন করে ১৩০টি যুদ্ধ বিমানের সমন্বয় মুক্ত আকাশে কুঁচকাওয়াজ পর্ব যা রাশিয়ার প্রানকেন্দ্রের বুক চিরে ৩০০ মিটার উঁচু দিয়ে উড়ে যায়.তারা সবাই প্রদর্শন করে আধুনিক “মুক্ত আকাশ” কুঁচকাওয়াজ.উল্লেখ্য,দেশের অন্যতম যুদ্ধ উড়োযাহাজ উড্ডয়নকারী একটি দল হল “রুস্কি বিটাজি” যা উড়ে যায় মস্কোর উপর দিয়ে সংখ্যা ৬৫ এর অনূরুপে.অন্য আরেকটি দলের বিমান থেকে নির্গত ধোঁয়া যা রাশিয়ার পতাকা সদৃশ্য রং সৃষ্টি করে.
পুরো দেশের অন্যতম সামরিক কুঁচকাওয়াজ যা মস্কোতে অনুষ্ঠিত হয় একই সাথে তা অনুষ্ঠিত হয় রাশিয়ার বিভিন্ন শহরে যেখানে রয়েছে সামরিক ঘাঁটি ও নৌবাহিনীর দপ্তর.শহরের প্রানকেন্দ্রে যেখানে সম্মিলিত রাশিয়ার কুঁচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হয় সেখানে প্রবীন যোদ্ধাদের জন্য বিশেষ মঞ্চ তৈরী করা হয়.এছাড়া সব অতিথি প্রেসিডেন্টের বানী শোনতে ও দেখতে পেয়েছে যা বিশেষ বড় পর্দায় প্রদর্শন করা হয়.পিতৃভূমি যুদ্ধের প্রবীন যোদ্ধাদের জন্য রাশিয়ার প্রতিটি প্রদেশেই আয়োজন করা হয়েছে বিশেষ উত্সবমুখর অনুষ্ঠান.
<sound>