মহান পিতৃভূমির যুদ্ধ রুশ দেশের লোকেদের জন্য কখনোই ইতিহাসের বিমূর্ত ঘটনা বা এমন কোন তারিখ, যা অভিনন্দন জানানোর পোস্টকার্ডে লেখা অথবা যা শুধু সিনেমাতে যুদ্ধের দৃশ্য হিসাবে দেখানো হয়ে থাকে তা হবে না. আজ ইন্টারনেটে নিজের ভিডিওব্লগে রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি এই ঘোষণা করেছেন.

    রাশিয়ার নেতা তাঁর নিয়মিত ভিডিও আহ্বান রেকর্ড করেছেন ভলোকালামস্ক শহরে, অমর যোদ্ধা কীর্তির শহরে, যেখানো ১৯৪১ সালের হেমন্তে প্রায় এক মাস ধরে কঠিন যুদ্ধ হয়েছিল. এখানে জেনেরাল পানফিলভের রাইফেল ডিভিশন বহু প্রাণের বিনিময়ে মস্কোর দিকে হিটলার বাহিনীর আক্রমণকে থামিয়ে দিতে পেরেছিল. দিমিত্রি মেদভেদেভ বিশ্বাস করেন যে, এই বিজয়, আমাদের সেই যুদ্ধের বীরদের প্রতি বিশেষ ঋণের কথা স্মরণ করিয়ে দেয় ও শুধু প্রতিটি নিহত যোদ্ধার নাম মনে রাখাই যথেষ্ট নয়, উচিত হবে যথাযোগ্য সামরিক সম্মানের সঙ্গে তাঁদের প্রত্যেককে কবর দেওয়া, যেমন সারা পৃথিবীতেই করা হয়ে থাকে.

    রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করেছেন: “আমাদের পূর্বপুরুষেরা শত্রুর সঙ্গে খুব নিষ্ঠুর লড়াইতে শেষ অবধি অটল থাকতে পেরেছিলেন বলেই, আজ আমরা যুদ্ধ পরবর্তী কালের প্রজন্মেরা আমাদের চারদিকে যা দেখছি, যা প্রশংসা করছি, যা ভালবাসি. যা আমাদের জন্য মূল্যবাণ, তা টিকিয়ে রাখতে পারা সম্ভব হয়েছে. রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করেছেন – মহান পিতৃভূমির যুদ্ধের ফল হলাম আমরা সবাই ও আমাদের ভবিষ্যত ও ভবিষ্যত আমাদের ছেলেমেয়েদের.

    এই কারণেই দিমিত্রি মেদভেদেভ বিশ্বাস করেন যে, আজ খুবই জরুরী হল সেই যুদ্ধে নিহতদেপর স্মৃতিকে পবিত্র ভাবে সংরক্ষণ করার ও বর্তমানে যে সমস্ত ভেটেরান রয়েছেন, তাঁদের শ্রদ্ধা করা. এই সম্বন্ধে প্রসঙ্গতঃ রাশিয়ার নেতা তাঁর সাইটের ছোট অতিথিদের আগেই মনে করিয়ে দিয়েছিলেন. কারণ বেড়ে ওঠা প্রজন্মের মানুষেরা শুধু দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সম্বন্ধে সমস্ত সত্য জানতেই বাধ্য নয়, তাদের উচিত সেই সব লোকেদের স্মৃতিকে সযত্নে রক্ষা করা. যাঁরা ফ্যাসীবাদ ও সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে জয় করেছেন.

    রাশিয়ার রাষ্ট্রপতির কথামতো, আমাদের জন্মভূমির মুক্তি যাঁরা করেছেন, তাঁদের বিজয়ের স্মৃতির প্রতি সম্মান হবে এবারের বিজয় প্যারেড, যা এই বছরে বিরাট আকারে করা হচ্ছে.

    রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করেছেন – প্রতি বছরেই আমরা বিজয় দিবসের উত্সবে রেড স্কোয়ারে প্যারেড করি, এটা আমাদের ঐতিহ্য. এই বছরে প্যারেড হবে এক বিশেষ পটভূমিকায়, একই সঙ্গে আমাদের এই বিশাল দেশের সমস্ত রাজ্যে. রেড স্কোয়ার দিয়ে এই প্রথমবার বিজয়ীরা তাঁদের উত্তরাধিকারীদের সঙ্গে নিয়ে স্বাধীন রাষ্ট্র সমূহের সৈন্য ও অফিসারদের সঙ্গে প্যারেড করবেন, মূলতঃ আমাদের নিকট আত্মীয়রা, আর সেই সব রাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা, যাঁরা আমাদের সাথে একসাথে শত্রুকে ধ্বংস করেছিল – আমাদের মিত্ররা. আমি মনে করি, এই প্যারেড একাধারে আমাদের বিজয়ের প্রতীক ও মুক্তি যাঁরা এনে দিয়েছিলেন, তাঁদের প্রতি শ্রদ্ধার প্রকাশ, তাঁদের আমরা কখনোই ভুলবো না.

    প্রসঙ্গতঃ আরও একটি বিরল প্যারেড – ১৯৪৫ সালের বিজয়ের প্যারেড, যা যুদ্ধে জয় করে আনা রঙীণ ফিল্মে তোলা হয়েছিল, তা ইন্টারনেটে এই দিন গুলিতে দেখা যাবে. ৬ই মে থেকে ১৯৪১ – ১৯৪৫ সালের বিজয়ের ইতিবৃত্ত নামে এক সাইট চালু হয়েছে, যেখানে ডিজিট্যাল ভাবে বিরল মহাফেজ খানার দলিল ও তখনকার নিয়মিত পত্রিকা প্রকাশ করা হয়েছে. এই সাইট দিমিত্রি মেদভেদেভের মতে পরবর্তী প্রজন্মের সকলের জন্য যুদ্ধের সত্য বর্ণনার গ্যারান্টি.