আজ ৯ই মে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ফ্যাসিস্ট জার্মানীর বিরুদ্ধে বিজয়ের ৬৫ বছরের জয়ন্তী পালন করা হচ্ছে. খয়েরী মহামারীর উপর সকলের বিজয়ে অমূল্য যোগদান করেছিলেন রাশিয়া ও প্রাক্তন সোভিয়েত দেশের অন্যান্য প্রজাতন্ত্র গুলি, যাঁরা এই যুদ্ধে কয়েক কোটি সন্তান সন্ততির জীবন হারিয়ে ছিলেন. প্রায় চার বছর ধরে এক ভীষণ চাপের মধ্যে থেকে হিটলারের দলের সঙ্গে যুদ্ধে তাঁরা শুধু নিজেদের স্বাধীনতাকেই রক্ষা করেন নি, এমন কি ইউরোপের বহু দেশকে মুক্ত করেছিলেন. কিন্তু আমরা ভুলে যাই নি যে, হিটলার বিরোধী মিত্র পক্ষের অন্যান্য দেশের লোকেরাও এই সংগ্রামে তাঁদের তরফ থেকে বহু যোগদান করেছিলেন. তাঁদের প্রতিনিধিরা আজ আমাদের সঙ্গে মস্কোতে এক সাথে পালন করছেন বিজয় দিবস এবং নিহতদের উদ্দেশ্যে শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন. আমাদের সকলের এই উপমা বিহীণ শক্তি প্রয়োগের ফল হয়েছিল আজ থেকে ৬৫ বছর আগে বার্লিনে নিঃশর্ত ভাবে ফ্যাসিস্ট জার্মানীর আত্মসমর্পণের চুক্তি. আর আজ আবার সেই ৬৫ বছর আগেকার সেই ৯ই মের দিনে আমরা যুদ্ধের প্রথম সারির ও পিছনের রসদ যোগানো ভেটেরানদের সম্মান প্রদর্শন করছি, যাঁরা আমাদের জন্য মহান বিজয় এনেছেন, সেই সৈন্যদের স্মৃতি তর্পণ করছি, যাঁরা যুদ্ধ ক্ষেত্রে প্রাণ দিয়েছেন, আর সেই শান্তিপ্রিয় লোকেদের স্মরণ করছি, যাঁরা যুদ্ধ ও ফ্যাসীবাদের শিকার হয়েছেন.

৯ই মে সন্ধ্যায় রাশিয়ার সমস্ত কেন্দ্রীয় টেলিভিশন চ্যানেলে বিশেষ এক অনুষ্ঠান হচ্ছে, নাম – মৌণতার মিনিট. টিভির পর্দায় দেশের প্রধান স্মৃতি সৌধের বিজয়ের সম্মানে প্রজ্জ্বলিত চিরন্তন অগ্নি শিখার ছবি  - ক্রেমলিনের দেওয়ালের গায়ে অনামী সৈনিকদের গণ কবরের উপরে যা সদা জাগ্রত.

চিরন্তন অগ্নি শিখা, তা কখনও হাওয়ায় নিভে না, বৃষ্টিতে মুছে যায় না, এমনকি সময়ের সাথেও ম্লান হয় না. তার আলোতে, যা আমাদের শোকের ও ভালবাসার আলোয় উজ্জ্বল, আলোময় হয়ে আছে নিহতদের নাম. চিরন্তন অগ্নি শিখার জীবন্ত বহ্নিতে – চির দিনের স্মৃতি, আমৃত্যু ঋণ এবং প্রশংসা. জীবিতদের কাছ থেকে নিহতদের কাছে.

রাশিয়াতে একটি সংসারও নেই যাঁদের কেউ এই যুদ্ধে প্রাণ বলিদান দেন নি. এমন একটি ঘরও নেই, যেখানে শোকের ছায়া নামে নি. এই দিনে তাঁদের সবাইকে মনে করা হয়, যাঁরা শত্রুর সাথে যুদ্ধের মাঠে লড়াই করেছেন, গেরিলা বাহিনীর হয়ে লড়েছেন, পিছনে রসদের যোগাড় দিয়েছেন – সবাইকেই, যারা নিজেদের রক্ত, ঘাম ও অশ্রু ঝরিয়ে জয়কে প্রতিদিনের সঙ্গে এগিয়ে এনে ছিলেন.

তাঁদের স্মৃতির উদ্দেশ্যে, যাঁরা সবার জন্মভূমিকে – এই বিশ্বকে রক্ষা করতে প্রাণ দিয়েছেন, যাতে ভ্রাতৃত্ব, আত্মিক সৌহার্দ্র বৃদ্ধি হয়, চেষ্টা করি চলুন তাঁদের স্বপ্নকে সফল করি, সাধারন মানবিক সুখ যেন ভবিষ্যতের প্রজন্মের কাছে সহজ লভ্য হয়. আমাদের আপনাদের সবার জন্য, হে মানুষ!

আজ প্রতিটি সংসারে, প্রতিটি মানুষের হৃদয়ে – চির দিনের কৃতজ্ঞতা রইল যাঁরা আর যুদ্ধ ক্ষেত্র থেকে ফেরে নি তাঁদের জন্য. রাশিয়ার প্রতিটি গির্জায়, মন্দিরে, মসজিদে, ধর্ম সভাতে সমস্ত দেশবাসীর সব রকমের ভাষাতেই তর্পণের মন্ত্র পাঠ করা হচ্ছে. প্রতিটি ধর্ম মতের তা আলাদা রকমের হতে পারে, কিন্তু তার অর্থ একই – হে ভগবান, যুদ্ধের মাঠে রক্ত ও প্রাণ বলিদান তোমার যে সব চির শায়িত দাসেরা করেছে, তাঁদের আত্মাকে চির শান্তি দিও! তাঁদের স্মৃতিকে চির দিনের জন্য অমর করে দাও! আর তাদের জন্ম জন্মান্তরে যেন এই স্মৃতি অটুট থাকে! তাঁদের স্মৃতি হোক চিরন্তন!

মৌণতা নামে এক মিনিটের. বিশাল দেশ নিশ্চুপ হয়ে যায়, মানুষের পার হয়ে আসা সবচেয়ে ভয়ঙ্কর যুদ্ধে মহান বিজয়ের বেদীতে যাঁরা প্রাণ দিয়েছেন তাঁদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে.

<sound>