পিতৃভূমির মহাযুদ্ধে বিজয়ের ৬৫তম বার্ষিকী উপলক্ষে রাশিয়ার ১৯টি শহরে ৯ই মে একই সময়ে সামরিক প্যারেড ও সমারোহপূর্ণ মিছিল হবে. অবশ্যই, উত্সবের প্রধান অনুষ্ঠান হবে- মস্কোয় রেড স্কোয়ারে প্যারেড.

    এই মহান দৃশ্যটি বিভাজিত হবে দুই অংশে- ঐতিহাসিক ও আধুনিক. বিগত বছরগুলিতে এই প্রথম বিজয় প্যারেডে ব্যবহৃত হচ্ছে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কার সামরিক প্রযুক্তি. এ প্যারেডে রাশিয়ার সৈনিকদের সঙ্গে সঙ্গে অংশ নেবে হিটলার-বিরোধী কোয়ালিশনের দেশগুলির সৈনিকরা – মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, গ্রেট-বৃটেন, পোল্যান্ড এবং তাছাড়া স্বাধীন রাষ্ট্রবর্গের অর্থাত্ সোভিয়েত ইউনিয়নের প্রাক্তন প্রজাতন্ত্রগুলি.
    বিজয় উপলক্ষে রেড স্কোয়ারে প্রথম প্যারেড হয়েছিল ১৯৪৫ সালের জুন মাসে. প্রস্তুতির জন্য দেওয়া এক মাসে সেলাই করা হয়েছিল ৪০ হাজারের উপর প্যারেডের পোষাকের সেট, প্যারেডের অংশগ্রহণকারীদের বেছে নেওয়া হয়েছিল. তাদের সংখ্যা ছিল ১৬ হাজারের উপর, এঁরা ছিলেন- সাধারণ সৈনিক, সার্জেন্ট, অফিসার ও জেনারেল. এঁরা সকলেই পিতৃভূমির মহাযুদ্ধের ফ্রন্টে লড়াই করেছিলেন. তাছাড়া, প্যারেডে অংশগ্রহণকারীদের বেছে নেওয়া হয়েছিল কঠোর পদ্ধতি অনুযায়ীঃ বয়স- ৩০ বছরের বেশি নয়, উচ্চতা- ১৭৬ সেন্টিমিটারের কম নয়, অবশ্যই যেন থাকে ফ্রন্টে পাওয়া পদক ও পুরস্কার এবং কুচকাওয়াজের সুন্দর প্রস্তুতি. যুদ্ধের প্রত্যেক ফ্রন্ট প্যারেডে অংশগ্রহণের জন্য বেছে নিয়েছিল একটি করে সম্মিলিত রেজিমেন্ট. সেই প্রথম বিজয়ের প্যারেড গ্রহণ করেছিলেন বিশিষ্ট মার্শাল গেওর্গি ঝুকোভ, সাদা ঘোড়ায় চড়ে. বলা হয় যে, গোড়ায় প্যারেড গ্রহণ করার কথা ছিল স্তালিনের. কিন্তু সে সময় জেনারেলিসমুসের বয়স ছিল ৬৫ বছরের উপর এবং ভাল ঘোড়া-চালনার কৌশল নাকি তাঁর আয়ত্তে ছিল না… ১৯৪৫ সালের সেই প্যারেডের শেষে পরাজিত ফ্যাশিস্ট বাহিনীগুলির সব পতাকা রেড স্কোয়ারে সমাধিস্থলের কাছে নামিয়ে রাখা হয়. এ অনুষ্ঠানটি হয় গুরুগম্ভীর ড্রাম বাদনের পটভূমিতে, গ্লাভস পরা হাতে, যাতে পরাজিত শত্রুর প্রতি বিতৃষ্ণা জাগে. প্যারেডের পরে সমারোহের সাথে গ্লাভসগুলি পুড়িয়ে দেওয়া হয়. বিজয় প্যারেডের পরবর্তী ইতিহাস সম্বন্ধে বর্ণনা করে ঐতিহাসিক পরিপ্রেক্ষিত তহবিলের তথ্য ও বিশ্লেষণ কর্মসূচির ডিরেক্টর আলেক্সান্দর মুজাফারোভ বলেনঃ
    চল্লিশের দশকে এবং পঞ্চাশের দশকের প্রথমার্ধে ৯ই মে ছিল উত্সব, তবে ছুটির দিন নয়. বিজয় উত্সবের গুরুত্ব ফিরে আসে শুধু ১৯৬৫ সালে – বিজয়ের ২০তম বার্ষিকীর বছরে. লেওনিদ ব্রেজনেভ, তখন ছিলেন একমাত্র সোভিয়েত নেতা, যাঁকে বলা যেতে পারত ফ্রন্টের যোদ্ধা. ব্রেজনেভের আগের নেতা-নিকিতা খ্রুশ্যেভের যুদ্ধ করাকে খুবই শর্তসাপেক্ষ বলা যায়. তাঁর মুখ্য কর্মক্ষেত্র ছিল রাজনীতি. তাছাড়া যুদ্ধের সময় খ্রুশ্যেভর কার্যকলাপের সাথে সোভিয়েত বাহিনীর একসারি ব্যর্থ অভিযান জড়িত. এও জানা আছে যে, সশস্ত্র বাহিনীর সর্বোচ্চ অধিনায়কমন্ডলীর সাথে খ্রুশ্যেভের সম্পর্ক ছিল যথেষ্ট জটিল. আর বিজয় দিবস অবিচ্ছেদ্যভাবে সশস্ত্র বাহিনীর সাথে জড়িত.
    ১৯৯৫ সালে, পিতৃভূমির মহাযুদ্ধে সোভিয়েত জনগণের বিজয় চিরস্মরণীয় করা সংক্রান্ত ফেডারেল আইন অনুযায়ী রাশিয়ার রাজধানী মস্কোয়, বীর-নগরীগুলিতে এবং সামরিক অঞ্চল ও নৌবাহিনীর বড় দপ্তর থাকা শহরগুলিতে সামরিক প্যারেড পরিচালনার রীতি পুনরারম্ভ করা হয়. আর ২০০৮ সাল থেকে মস্কোর রেড স্কোয়ারে প্যরেডে আবার অংশগ্রহণ করতে তাকে সামরিক প্রযুক্তি.
    রাশিয়ার রাজধানীতে এবারের প্যারেডের সময়, অবশ্যই, নতুন নতুন সামরিক প্রযুক্তিও দেখানো হবে. বিমান বাহিনী রেড স্কোয়ারের উপরে আকাশ রঙিয়ে দেবে রাষ্ট্রীয় পতাকার সাদা-নীল-লাল রঙে. আশা করা হচ্ছে যে, মহান বিজয়ের ৬৫তম বার্ষিকীর সমারোহে উপস্থিত থাকবেন প্রায় ৩০টি রাষ্ট্র ও সরকারের নেতা, বহু অন্য বিদেশী অতিথি, পিতৃভূমির মহাযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী প্রবীন যোদ্ধারা. (sound)