রেডিও শ্বাশ্বত! শত শত বছর পরেও পৃথিবীতে লোকে রেডিও রাশিয়ার অনুষ্ঠান শুনবে, এ স্থিরবিশ্বাস প্রকাশ করেছেন রেডিও কোম্পানির সভাপতি আন্দ্রেই বীস্ত্রিতস্কি. এখনই মাল্টি-মিডিয়া প্রকৌশল রেডিো সম্প্রচারকে নতুন পর্যায়ে উন্নীত করেছে, যার দরুণ সম্প্রচারের সীমানা প্রসারএবং মহাদেশগুলির নৈকট্য বৃদ্ধির সুযোগ পাওয়া গেছে. ইন্টারনেট ও ডিজিটাল প্রকৌশলের কল্যাণে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে লোকে অনুষ্ঠান শোনা আর ভিডিও-চিত্র দেখাই শুধু নয়, তারা বেতারকেন্দ্রের সাথে ঘনিষ্ঠ নিরবিচ্ছিন্ন যোগাযোগও স্থাপন করছে, উল্লেখ করেন আন্দ্রেই বীস্ত্রিতস্কি রেডিও দিবস উপলক্ষে প্রদত্ত ইন্টারভিউতে. এ উত্সব রাশিয়ায় পালিত হয় ৭ই মে.

   একবিংশ শতকে মানুষ ক্রমেই বেশি ব্যস্ত হয়ে উঠছে. তার হাতে অবসর সময় ক্রমেই কমছে, প্রতিটি মিনিট- মূল্যবান. এ কারণে রেডিওই তথ্য পাওয়ার প্রধান উত্স, কারণ তা শোনা যায় সর্বত্র এবং যে কোনো পরিস্থিতিতে, মনে করেন আন্দ্রেই বীস্ত্রিতস্কিঃ
   বহু ধরনের কাজ আছে যখন লোকে টেলিভিশনের পর্দার দিকে তাকাতে পারে না, কিন্তু শুনতে পারে. তবে, রেডিও আজকের রূপে বিদ্যমান থাকবে কি না, অথবা এটি হবে সম্মিলিত সার্ভিস, তা আজকের আলোচনার পরিধির বাইরে চেল যায়. তবে একটি বিষয়ে সন্দেহ নেইঃ যতদিন শ্রোতা থাকবে, রেডিওও বিদ্যমান থাকবে. আমি মনে করি যে, রেডিও তার মর্মের দিক থেকে থিয়েটারের কাছাকাছি, আর টেলিভিশন- সিনেমার.
   জানা আছে যে, রেডিও দেখা দিয়েছিল ১৯শ শতাব্দীর শেষ দিকে. তখন লোকে আধুনিক একটি বিশ্ব আশ্চর্যের উদ্ভবের সাক্ষী হয়েছিল. ১৮৯৫ সালের ৭ই মে বিশিষ্ট রুশ বিজ্ঞানী আলেক্সান্দর পপোভ পিতারবুর্গে রুশ পদার্থবিদ্যা ও গণিত সমিতির অধিবেশনে প্রদর্শন করেন নিজের তৈরী পৃথিবীর প্রথম বেতার-সঙ্কেত গ্রহণ যন্ত্র. তিনি আনন্দিত হন যখন তিনি দেখাতে সক্ষম হন কিভাবে তাঁর আবিষ্কার কাজ করছে … ৬০০ মিটার দূরত্বে.এই দিনটি ইতিহাসে স্থান পেয়েছে. বিংশ শতাব্দীর গোড়ার দিকে এ গ্রহণ যন্ত্র এক আশ্চর্য হিসেবে গৃহীত হয়. রাশিয়ায় নিয়মিত বেতার সম্প্রচার শুরু হয়১৯২৪ সালে. আর দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে মহান বিজয়ের বছরে প্রবর্তিত হয় নতুন উত্সব- রেডিও দিবস.
   বহু বার বলা হয়েছিল যে, রেডিও বিস্মৃতির অতলে তলিয়ে যাবে. প্রথমে- যখন দেখা দেয় টেলিভিশন, পরে- ইন্টারনেট. কিন্তু রেডিও যুগের সাথে খাপ খাইয়ে নেয় এবং এখনও তা সবচেয়ে গণতান্ত্রিক ও তত্পর একটি প্রচার মাধ্যম হিসেবে বজায় রয়েছে. সত্যিই, আধুনিক জীবন বেতার সম্প্রচার ছাড়া কল্পনা করা কঠিন, যা আমাদের জন্য পরিবেশন করে খবর, গান-বাজনা, অতি ভিন্ন ভিন্ন ধরনের তথ্য, তা মন-মেজাজ উত্ফুল্ল করে. বর্তমানে রাশিয়ায় রেডিও সম্প্রচারের দু হাজারেরও বেশি লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে. শুধু মস্কোতেই চালু আছে পাঁচশো-র বেশি বেতারকেন্দ্র. কঠোর প্রতিদ্বন্দ্বিতার পরিবেশেও রেডিও রাশিয়া নিজের স্থিতি ত্যাগ করে নি এবং নতুন নতুন শ্রোতাকে আকর্ষণ করছে, উল্লেখ করেন বেতারকেন্দ্রের সভাপতি আন্দ্রেই বীস্ত্রিতস্কিঃ
   আমরা সারা পৃথিবীতে শ্রোতাদের বর্ণনা করি রাশিয়ায় কি ঘটছে, ভিন্ন ভিন্ন বিশ্ব সমস্যা সম্পর্কে রাশিয়ার সরকারী দৃষ্টিভঙ্গী প্রকাশ করি. সেই সঙ্গে, পৃথিবীতে বিভিন্ন বিষয়ে যে বিতর্ক হয় তা শ্রোতারা সাগ্রহে শোনেন. এ দিক থেকে আমাদের কোনো বাধানিষেধ নেই শ্রোতাদের জন্য ভিন্ন ভিন্ন ধরনের তথ্য প্রচারে.
   গত বছরে ৮০তম বার্ষিকী পালন করা রেডিও রাশিয়ায় বিপুল পরিবর্তন ঘটছে. প্রধান প্রধান ভাষায় এবং ইন্টারনেটে সম্প্রচার বাড়ছে. ১৬০টি দেশের জন্য ৫০০র বেশি অনুষ্ঠান প্রচারিত হচ্ছে শর্ট ওয়েভে এবং মিডিয়াম ওয়েভে দিনে ১৬২ ঘন্টা করে. বর্তমানে রেডিও রাশিয়া ৪০টি ভাষায় অনুষ্ঠান প্রচার করছে. তাছাড়া http:/rus.ruvr.ru/ সাইটে অডিও ও ভিডিও তথ্য থাকে, মাল্টি-মিডিয়া, ইনফোগ্রাফিক্স থাকে, বলেন আন্দ্রেই বীস্ত্রিতস্কিঃ
   আমাদের সাইটে আসা লোকেদের সংখ্যা দিনের পর দিন বাড়ছে. এদিক থেকে আমাদের ফলাফল মোটেই মন্দ নয়. আর রেডিও শ্রোতাদের সম্পর্কে বলব যে, তাদের সংখ্যা যথেষ্ট বেড়েছে, বিশেষ করে স্বাধীন রাষ্ট্রবর্গের দেশগুলিতে, যেখানে রেডিও রাশিয়া এফ.এম-ডায়পাজোনে অনুষ্ঠান প্রচার করছে.
   আমাদের রেডিও রাশিয়ার অনুষ্ঠানে অপরিবর্তনীয় ও নির্ধারক ভূমিকা পালন করছে যথার্থতা, তত্পরতা এবং যোগ্যতা, জোর দিয়ে বলেন বেতার কোম্পানির সভাপতি. কর্মীদলের মাথায় বহু চিত্তাকর্ষক ধারণা রয়েছে. আর আজ সমস্ত শ্রোতার জন্য কামনা করছি তাঁরা যেন ভালভাবে অনুষ্ঠান শুনতে পারেন এবং আমরা সসমস্ত শ্রোতাকে রেডিও দিবস উপলক্ষে অভিনন্দন জানাই!