ঐসলামিক হিংসা আরও বেশী করে স্থানীয় হচ্ছে এবং নজর বেশী করে দিচ্ছে স্থানীয় সমস্যায়, বিশ্বে নীতি তৈরী করার স্লোগানে আর মনোযোগ নেই. একই সঙ্গে আল কায়দা ঐসলামিক আন্দোলনের মধ্যে আরও একঘরে হয়ে যাওয়া সন্ত্রাসবাদী দলে পরিনত হয়েছে. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বেসরকারি সংস্থা আমেরিকান সিকিউরিটী প্রোজেক্ট প্রকাশিত এক শেষ রিপোর্টে এই কথা বলা হয়েছে. এই ধরনের সিদ্ধান্ত কতটা বাস্তব? রাশিয়ার লোকসভার আন্তর্জাতিক পরিষদের সদস্য সিমিওন বাগদাসারভের মতে পরিস্থিতির সত্যই উন্নতি হয়েছে, কিন্তু সম্ভবতঃ এটা সাময়িক ব্যাপার, তিনি এই প্রসঙ্গে বলেছেন:

    "আমি মনে করি এই রিপোর্টে প্রকাশিত সিদ্ধান্ত গুলি বর্তমানের চিত্রের সঙ্গে সম্পূর্ণ ভাবে মিলে যায়, বিশেষত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে, যেখানে আজ বড় কোন সন্ত্রাসবাদী হামলা হচ্ছে না. এর কারণ হল, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দপ্তর গুলি এবং পশ্চিম ইউরোপের দেশ গুলির বিশেষ দপ্তর গুলি আজ সন্ত্রাসবাদের মোকাবিলায় এগিয়ে গিয়েছে অনেক. আরও একটি বিশেষ বিষয় হল – বর্তমানে ঐসলামিক হিংসার ভর কেন্দ্র বেশী করে মুসলমান অধ্যুষিত দেশ গুলিতেই সরে গিয়েছে. এর কারণ হল শক্তির পুনরায় গঠন প্রক্রিয়া চলছে এবং ঐসলামিক সংগঠন গুলির কৌশলের পরিবর্তন হয়েছে. সন্ত্রাস বাদী দল গুলি তাদের কাজ কেন্দ্রীভূত করতে বাধ্য হয়েছে, নিজেদের শক্তির অযথা ক্ষয় করতে তারা চায় না এবং তাদের যুদ্ধ তথাকথিত নিজেদের জায়গাতেই কেন্দ্রীভূত করতে চায়. স্বীকার করা উচিত হবে যে, এর কারণ অনেকটাই নির্ভর করছে আমেরিকার সামরিক উপদেষ্টাদের রাজনীতির উপরে, যা তারা আজ আফগানিস্থানে ও ইরাকে করছেন. সেই সব জায়গায় সন্ত্রাসবাদী দলগুলি ক্রমাগত চাপের মধ্যে রয়েছে, যা তাদের নিজেদের এলাকার বাইরে বেরোতেই দিচ্ছে না. কিন্তু অন্য কথা হল, এই রকম ধারা কত দিন চলবে? আমার সন্দেহ যে খুব বেশী দিন নয়, যদি শুধুমাত্র দল বাঁধা আর কৌশল বদলানোর উদ্দেশ্যএর পিছনে থাকে".

    মস্কো রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাচ্য অনুসন্ধান বিভাগের প্রফেসর সের্গেই দ্রুঝিলভস্কি বিশ্বাস করেন যে, বর্তমানের ধারাই হয়েছে ঐসলামিক সন্ত্রাসবাদী দলগুলির নাশকতা মূলক কাজ স্থানীয় এলাকাতেই সীমাবদ্ধ রাখা. তিনি বলেছেন:

    "ঐসলামিক সন্ত্রাসবাদ, যা বিশ্বের স্তরে পৌঁছেছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ট্র্যাজেডির মধ্য দিয়ে, আর যারা মস্কোকে চেয়েছিল পৃথিবী কি করে পাল্টাবে তার সম্বন্ধে নিজেদের ধারণা চাপিয়ে দিতে, তারা বুঝতে পেরেছে এই সবের অর্থ হীনতা, কিন্তু তা স্বত্ত্বেও ঐসলামিক নাশকতা বাদীরা নিজেদের স্থানীয় লক্ষ্যের থেকে হঠে যায়নি, তারা চেষ্টা করেই চলেছে, কোন বিশেষ দেশে তাদের নিয়ন্ত্রণ বজায় করতে. স্থানীয় প্রশাসনকে নিজেদের বাধ্য করতে, অথবা ভয় দেখিয়ে তাদের কাছ থেকে সুবিধা আদায় করছে. এই রকম পরিস্থিতিতে বেশী রয়েছে ইরাক ও আফগানিস্থান. আর আল কায়দা সম্বন্ধে বলতে গেলে বলা উচিত্ যে, তাদের খানিকটা থিতিয়ে যাওয়ার কারণ হল আজকের দুনিয়ার সমস্ত গোয়েন্দা বাহিনী তাদের মোকাবিলায় সক্রিয় হয়েছে. আর প্রাথমিক ভাবে সেই সব জায়গায়, যেখানে তাদের থেকে সন্ত্রাসবাদী হামলার ভয় রয়েছে সব চেয়ে বেশী. আল কায়দা বর্তমানে তাদের কাজকর্মে খুবই গুটিয়ে গিয়েছে, তাই মানতেই হবে যে, ঐসলামিক সন্ত্রাসবাদ আজ তাদের কাজের পরিধি কম করেছে আর এই রকম ধারাই অদূর ভবিষ্যতে থাকবে".

    কিন্তু যে কোন ক্ষেত্রেই সন্ত্রাসবাদ আজও যে কোন দেশে হানা দিতে পারে, তাই তার মোকাবিলাতে কোন রকম বিশ্রামের উপায় নেই, সমস্ত বিশেষজ্ঞরাই এই বিষয়ে একমত.