বর্তমানের বেড়ে ওঠা প্রজন্ম দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সম্বন্ধে সমস্ত সত্য জানতে বাধ্য এবং যাঁরা ফ্যাসীবাদ ও সামরিক শাসনের বিরোধী যুদ্ধে জয় এনেছেন তাঁদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা অবনত মনোভাব রাখতে বাধ্য. এই বিষয়ে রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি দিমিত্রি মেদভেদেভ দৃঢ় বিশ্বাসী এবং তিনি বুধবার ক্রেমলিনের সাইটের শিশু বিভাগে যারা উপস্থিত হন, তাদের সকলকেই মহান পিতৃভূমি রক্ষার যুদ্ধের ভেটেরানদের প্রতি বিশেষ মনোযোগ দিতে আহ্বান করেছেন.

    ক্রেমলিনের সাইটের শিশু দের জন্য সংস্করণে ৫ই মে একটি নতুন বিভাগ খোলা হয়েছে, এই বিভাগ বিজয়ের ৬৫ বছর উপলক্ষে আয়োজিত. তিনি রাশিয়ার অল্প বয়সীদের ফ্যাসীবাদ বিরোধী যুদ্ধে বিপুল সংখ্যক নিহতদের স্মৃতি সংরক্ষণ করতে বলেছেন ও আহ্বান করেছেন তাঁদের বীরত্ব ও বিজয়কে মনে রাখতে.

    এটি যুব সম্প্রদায়ের শুধুমাত্র দেশপ্রেমের বিষয়ে শিক্ষার জন্য অবদান নয়. আজ বহু দেশে বিগত যুদ্ধের ইতিহাসকে বিকৃত করা হচ্ছে এবং মিথ্যা দিয়ে ভর্তি করা হচ্ছে. এই কাজের উদ্যোগীরা নির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে জার্মান ফ্যাসীবাদ ও জাপানের সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে লাল ফৌজের মহত্বপূর্ণ ভূমিকা সম্বন্ধে ইচ্ছা করেই নীরব থাকছেন. তা ছাড়া চেষ্টা চলছে যাঁরা ইউরোপকে ও সারা বিশ্বকে এই "খয়েরী মহামারী" থেকে রক্ষা করল তাঁদের নাত্সী এবং ওদের সাঙ্গোপাঙ্গ দের সাথে সমাসনে বসানোর. এই ধরনের চেষ্টা দেখা গিয়েছে ইউরোপের বেশ কিছু দেশে, বিশেষত বাল্টিক সমুদ্র তীরবর্তী দেশ গুলিতে. আর জাপানে সামরিক অপরাধীদের জয়গান গাওয়া হচ্ছে, যারা সারা এশিয়াকে দাস বানাতে চেয়েছিল, চীনে সঙ্গত কারণেই এর প্রতিবাদ করা হয়েছে, প্রতিধ্বনি উঠেছে এই মহাদেশের অন্যান্য দেশ গুলিতেও.

    মঙ্গলবারে ক্রেমলিনে বিজয় দিবসের ৬৫ বছরের উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি ইতিহাসের শিক্ষার বিকৃতির সক্রিয়ভাবে বিরুদ্ধতা করে বিশেষ ভাবে তাঁর মনোযোগ দিয়ে বলেছেন:

    "মহান পিতৃভূমির যুদ্ধের ইতিহাস আজ নানা ভাবে বোঝা হয়ে থাকে. দুঃখের কথা হল, নানা রকমের বোঝানোর চেষ্টা করা হচ্ছে, যা বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণের পরিধির বাইরে, আসলে এ গুলি রাজনৈতিক উদ্দেশ্য সাধনের মাধ্যম. সেই সমস্ত সিদ্ধান্ত, যা আজ আমাদের দেশের লোকেদের স্মৃতির সুরক্ষার জন্য নেওয়া হচ্ছে, যাঁরা ফ্যাসীবাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে তাঁদের প্রাণ দিয়েছেন, তা সবই করা হয়েছে, একমাত্র উদ্দেশ্য নিয়ে, যাতে এই স্মৃতি কৃতজ্ঞ মানব সমাজের জন্য চিরন্তন হয়. যাতে ওই সব নেতাদের সুবিধার জন্য এই সব অমর কীর্তির স্মৃতি ব্যবহার করা সম্ভব না হয়, যাতে বিজয় কোন রাজনৈতিক খেলার খুচরো পয়সায় পরিণত না হতে পারে. আমাদের লোকেরা অনেক বড় মূল্য দিয়েছেন, তাই এইখানে আমরা কোন নিষ্ক্রিয় মনোভাব দেখাতে পারি না, আর আমরা তা থাকবও না".

    সমাজ শুধু এই বিষয়ে একমতই নয়, নানা রকমের নির্দিষ্ট পদক্ষেপও নেওয়া হচ্ছে, যাতে এই বিকৃতি যারা করছে, তাদের ধান্ধা বন্ধ করা যায়. ইতিহাস আবার করে লেখা বন্ধ করার জন্য আন্তর্জাতিক সংস্থা তৈরী করা হয়েছে "নাত্সী বাদ বিহীণ বিশ্ব" নামে. বিশ্ব রুশ ভাষী ইহুদী কংগ্রেসের প্রধান বরিস শ্পিগেল এই খবর মঙ্গলবার দিয়েছেন. এই সংস্থার ধারণাকে ইউরোপীয় পরিষদ সমর্থন করেছে. এই সংস্থায় অংশ নেওয়ার জন্য ইতিমধ্যেই ২৮টি দেশ আবেদন পত্র জমা দিয়েছে. "নাত্সী বাদ বিহীণ বিশ্ব" সংস্থার কাজ হবে নাত্সী বাদের পুনরায় উদয় কোথায় হচ্ছে তা দেখা এবং নাত্সী অপরাধী দের বীর বানানোর প্রচেষ্টা খুঁটিয়ে দেখা. আর অবশ্যই যুব সমাজের কাছে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ঘটনা ও শিক্ষার সত্য তুলে ধরা.  (sound)