মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরে রাষ্ট্রসংঘের প্রধান কার্যালয়ে, অষ্টম সমীক্ষা কনফারেন্সে পারমানবিক অস্ত্র প্রসার নিরোধ চুক্তিতে স্বাক্ষর কারী দেশ গুলির প্রতিনিধিদের আলোচনার সময়ে ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্য কঠিন বাগ বিতণ্ডা হয়েছে.এই তর্ক বিতর্কে নেতৃত্ব দিয়েছেন ইরানের রাষ্ট্রপতি মাহমুদ আহমাদিনিজাদ এবং আমেরিকার পররাষ্ট্র সচিব হিলারি ক্লিন্টন.

    ইরানের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের তরফ থেকে সম্ভাব্য নতুন নিষেধ সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে এই রকম পরিস্থিতিতে বিতর্ক চলেছিল, তাই এর সুর আগে থেকেই অনেকটা জানা ছিল যে কেমন হতে পারে. দুই বক্তাই ঘোষণা করেছেন যে, তাঁদের দেশ নিরস্ত্রীকরণ, প্রসার রোধ এবং পারমানবিক অস্ত্র বিহীণ বিশ্বের স্বপক্ষে. প্রসঙ্গতঃ এই বক্তব্যের মধ্যেই তাঁরা একে অপরের উদ্দেশ্যে কম বিষাক্ত ও খোঁচা মারা কথা বলেন নি.

    ইরানের নেতা বেশ কয়েকটি উদ্যোগের কথা বলেছেন তাঁর ধারণা মত পারমানবিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার অন্যায় কাঠামো পরিবর্তনের জন্য. তার মধ্যে: আন্তর্জাতিক পারমানবিক শক্তি সংস্থার নেতৃত্ব প্রদান কারী কার্যকরী সমিতির কাঠামো সংশোধন এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দেশের সীমানার পরিধির বাইরের পারমানবিক অস্ত্রের প্রত্যাহার করা. তা ছাড়া আহমাদিনিজাদ বিশ্বে পারমানবিক অস্ত্র সম্পূর্ণ ভাবে নির্মূল করতে আহ্বান করেছেন. একই সঙ্গে তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পারমানবিক ক্ষেত্রে "ভিন্ন মানদণ্ড" ব্যবহার করার নিন্দা ও সমালোচনা করেছেন. ইরানের রাষ্ট্রপতি মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র শুধু ১৯৪৫ সালে জাপানে পারমানবিক অস্ত্র ব্যবহারই করেনি, এমন কি বর্তমানেও অন্য দেশগুলিকে তার ভয় দেখাচ্ছে, যাদের মধ্যে ইরানও রয়েছে.

    কিছু পরে হিলারি ক্লিন্টন ইরানের নেতার ঘোষণাকে "জঙ্গুলে দোষারোপ" নাম দিয়ে বলেছেন যে, ইরান নিজেই এমন এক দেশ, যারা পারমানবিক অস্ত্র প্রসার রোধের চুক্তি মানছে না. তাঁর কথা মতো ইরানের নেতা এই সম্মেলনে এসেছেন শুধু ইরানের সরকার যে আন্তর্জাতিক চুক্তি অনুযায়ী বাধ্য বাধকতা পালন করতে পারছে না, তার থেকে বিশ্ব সমাজের লক্ষ্য ফেরানোর উদ্দেশ্য নিয়ে. তা স্বত্ত্বেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র সচিব বুঝিয়ে দিয়েছেন যে, এখনও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমানবিক সমস্যাকে শুধুমাত্র নিষেধাজ্ঞা সিদ্ধান্ত নেওয়ার উপরেই রেখে বাকি আলোচনার দরজা বন্ধ করে দেয় নি.

    পারমানবিক অস্ত্র প্রসার নিরোধ চুক্তিতে স্বাক্ষর কারী দেশ গুলির সম্মেলনে প্রধান বিরোধী পক্ষ, অর্থাত্ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ঐসলামিক প্রজাতন্ত্র ইরানের মধ্যে একে অপরের প্রতি উত্পন্ন হওয়া কঠিন মনোভাব এই রকম ফোরামে শুধু জটিলতার বৃদ্ধি করেছে. এই বিষয়ে তাঁর মনোভাব জানিয়েছেন রাশিয়ার বিজ্ঞান একাডেমীর বিশ্ব অর্থনীতি ও সম্পর্ক ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ ভ্লাদিমির এভসেয়েভ, তাঁর সাক্ষাত্কারে তিনি "রেডিও রাশিয়া" কে বলেছেন:

    "এর আগের ইতিহাসের পরিপ্রেক্ষিতে দেখলে, ধরে নেওয়া যেতে পারে যে এই সম্মেলনের নির্দিষ্ট সাফল্য হতেই পারে. কিন্তু তার থেকে কোন বিরাট পরিবর্তন আশা না করাই ভাল. বিশেষত এর আগের কনফারেন্স গুলি ও ঐসলামিক প্রজাতন্ত্র ইরানের পক্ষ থেকে নানা রকমের উত্তেজনা বাড়ানোর মত কাজ কর্মের কথা মনে রাখলে, তাই মনে হয়. আমি মনে করি, যদি এই সম্মেলন একটা অসফল সমাবেশে পরিণত না হয়, তাহলেই পারমানবিক নিরস্ত্রীকরণ বিষয়ে এটি একটি নিশ্চিত সফল ভবিষ্যত পদক্ষেপ হবে".

    ইরান ছাড়াও আরও অনেক সমস্যা রয়েছে, তাদের মধ্যে একটি হল ইজরায়েলের পারমানবিক ক্ষমতা. এই রকম একটা বিশ্বাসের ভিত্তি শক্ত হচ্ছে যে, নিকট প্রাচ্য যত বেশী পারমানবিক অস্ত্র বিহীণ অঞ্চল হবে, তত বেশী সম্ভাবনা আছে ইরানের সঙ্গে তাদের পারমানবিক পরিকল্পনার বিষয়ে আলোচনায় সাফল্যের.