১৮৯টি দেশ, যাদের মধ্যে পাঁচটি পারমানবিক অস্ত্র সহ দেশ রয়েছে, তারা সকলেই পারমানবিক অস্ত্র প্রসার চুক্তি স্বাক্ষর করেছে. এই সব দেশের বেশীর ভাগেরই প্রতিনিধি আজ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরে আলোচনা করছেন এই সব চেয়ে বড় চুক্তির আধারে কি করে বর্তমানে বহু পক্ষ থেকেই নিরস্ত্রীকরণ করা সম্ভব হয়.

    পারমানবিক অস্ত্র প্রসার নিরোধ চুক্তি অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য প্রলম্বিত করা হয়েছিল আজ থেকে দশ বছর আগে, বিগত সময়ে এই চুক্তির সার্বিক গ্রাহ্যতা এবং বহু ইতিবাচক দিক প্রমাণিত হতে পেরেছিল, কিন্তু একই সঙ্গে তার সঙ্গে উদয় হয়েছিল নতুন সমস্যা গুলির রূপ রেখা. যেমন, ভারত, পাকিস্থান ও ইজরায়েল, যাদের কাছে পারমানবিক অস্ত্র আছে, তারা আজও এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করে নি. ২০০৩ সালে উত্তর কোরিয়া এই চুক্তি থেকে নাম প্রত্যাহার করেছে ও এখনও আবার ফিরতে রাজী নয়. বিশ্ব সমাজের জন্য আরও একটি সমস্যার বিষয় হল ইরানের পারমানবিক পরিকল্পনা, বিশেষত তেহরানের আন্তর্জাতিক পারমানবিক শক্তি নিয়ন্ত্রণ পরিষদের সাথে সহযোগিতার ক্ষেত্রে অনিচ্ছা. এই পরিস্থিতিতে ইরানের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের নিষেধাজ্ঞা জারী করার বিষয় টি আরও বাস্তব হয়ে দাঁড়িয়েছে. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তরফ থেকে আরও বড় মাপের কঠিন ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে, এমনকি শক্তি প্রয়োগ পর্যন্ত, কিন্তু বেশীর ভাগ দেশের পক্ষ থেকেই এই ধরনের উগ্র ব্যবস্থাকে সমর্থন করা হয় নি.

    নিউইয়র্কের কনফারেন্সে ইরানের রাষ্ট্রপতি মাহমুদ আহমাদিনিজাদের অংশগ্রহণের কথা এই বিষয়ে আরও ইন্ধন যুগিয়েছে উত্তেজনা বৃদ্ধিতে. কয়েকটি উন্নতিশীল দেশ এই কনফারেন্সে নিজেদের দৃষ্টি ভঙ্গীও প্রকাশ করতে পারে, তাদের মতে বর্তমানের বিশ্ব সমাজের উচিত্ নির্দিষ্ট করে দেওয়া যে, কোন দেশ গুলি আধুনিক পারমানবিক প্রযুক্তি বিষয়ে অধিকার রাখে.

    রাশিয়া নিউইয়র্কের কনফারেন্সের জন্য খুবই ভাল মত তৈরী হয়েছে, এই বিষয়ে জানিয়েছেন রাশিয়ার বিজ্ঞান একাডেমীর বিশ্ব অর্থনীতি ও সম্পর্ক ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ ভ্লাদিমির এভসেয়েভ, তাঁর সাক্ষাত্কারে তিনি "রেডিও রাশিয়া" কে বলেছেন:

    "রাশিয়া শুধুমাত্র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে রণনৈতিক আক্রমণাত্মক অস্ত্রসজ্জা সংক্রান্ত চুক্তিই করে নি, বরং অনতি সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের একটি ভান্ডার বা ব্যাঙ্ক তৈরী করেছে, যা আন্তর্জাতিক পারমানবিক শক্তি নিয়ন্ত্রণ সংস্থার পরিকল্পনা অনুযায়ী ব্যবহার যোগ্য. এই ভাবে, বলা যেতে পারে রাশিয়া শক্তি সংক্রান্ত নিরাপত্তার জন্য তার পক্ষ থেকে কাজ করেছে, তা ছাড়া রাশিয়া পারমানবিক অস্ত্রের প্রসার রোধের জন্য নিজের পক্ষ থেকেও উদ্যোগ নিয়েছে. সম্ভবতঃ এই ধরনের ব্যবস্থা আন্তর্জাতিক পারমানবিক শক্তি নিয়ন্ত্রণ পরিষদের পক্ষ থেকে বিশ্বাস বৃদ্ধির জন্য কাজ করবে".

    বিভিন্ন দেশের পর্যবেক্ষকেরা বলেছেন যে, বর্তমানের কনফারেন্স কে সফল বলা যেতে পারে, যদি পারমানবিক নিরস্ত্রীকরণ চুক্তির তিনটি প্রধান ভিত্তি মূলক বিষয়ের ক্ষেত্রে একটি ভারসাম্য বজায় রাখা যায়, প্রথমতঃ, পারমানবিক অস্ত্রের প্রসার নিরোধ, দ্বিতীয়তঃ, পারমানবিক নিরস্ত্রীকরণ ও শেষ বা তৃতীয়তঃ, পারমানবিক শক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহারের প্রসার. বর্তমান পরিস্থিতিতে পারমানবিক সন্ত্রাসবাদের মোকাবিলা করা নিয়েও আলোচনা হবে, এই চুক্তি যারা স্বাক্ষর করেছে, সেই সমস্ত দেশের মধ্যে এখনও এই সমস্ত সমস্যার বিষয়ে কোন সার্বিক বোঝাপড়া হয় নি. তার মধ্যে একমাত্র সর্ব জন গ্রাহ্য উপায়ে হলেই পারমানবিক নিরস্ত্রীকরণ ও প্রসার রোধ চুক্তিকে বর্তমানে সারা বিশ্বের বিপদ ও আশঙ্কার মোকাবিলা করার ভিত্তি হিসাবে সমর্থন করা যেতে পারে.

<sound>