বিগত নয় মাস ধরে ভারত ও পাকিস্থানের মতো প্রতিবেশী দেশের প্রধানমন্ত্রীদের মধ্যে কোন দেখা শোনা হয় নি. একে অপরের থেকে দুরে থাকার উপযুক্ত কারণ অবশ্যই বাস্তবে কিছু কম ছিল না. তার মধ্যে আবার পাকিস্থানে ভারতের হাই কমিশনের মহিলা কর্মীর পাক গুপ্তচর সংস্থার হয়ে গুপ্তচর বৃত্তি নিয়ে এক জল ঘোলা ব্যাপার যোগ হয়েছে. তা স্বত্ত্বেও ভুটানের রাজধানী থিম্পুতে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলির আঞ্চলিক সহযোগিতা সংগঠন সার্ক শীর্ষ বৈঠকের সময়ে তাঁদের সাক্ষাত্কার সম্ভব হয়েছে.

    এবারে ভুটানে আয়োজিত সার্ক শীর্ষ বৈঠকে আগের মত কোন কিছুই হয় নি. বহু দিনের অঘোষিত বাধা ছিল যে, এই সম্মেলনে কোন রকমের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নিয়ে কথা হতে পারবে না, কিন্তু এবারে সম্মেলনের প্রতিনিধিরা বাধা না মেনে প্রশ্ন তুলেছেন ভারত পাকিস্থানের বিরোধ নিয়, যা তাঁদের মতে সংগঠনের কাজে প্রতিফলন ফেলেছে. মালদ্বীপের রাষ্ট্রপতি মোহাম্মেদ নাশিদ ঘোষণা করেছেন যে, ভারত ও পাকিস্থানের বিরোধের ফলে সার্ক সংগঠনে নেওয়া সিদ্ধান্ত গুলি বাস্তবে কার্যকর করা সম্ভব হয়ে উঠছে না.

    বিশেষজ্ঞদের মূল্যায়ণে সার্ক সংগঠনের আঞ্চলিক বাণিজ্যের মোট পরিমান সদস্য দেশ গুলির সংগঠনের বহির্ভূত অন্যান্য দেশ গুলির সঙ্গে বৈদেশিক বাণিজ্যের মাত্র পাঁচ শতাংশ. অথচ আসিয়ান সংস্থার ভিতরের দেশ গুলির নিজেদের মধ্যে বাণিজ্যের পরিমান শতকরা পঁচিশ শতাংশ. দক্ষিণ এশিয়ার দেশ গুলির মধ্যে ২০১২ সালের মধ্যে বিনা শুল্কে বাণিজ্য চুক্তিও খুবই কমই বাস্তবায়িত হয়েছে. অংশগ্রহণকারীদের মতে নতুন আর্থ বাণিজ্য বিষয়ে চুক্তি যা সার্ক দেশ গুলির মধ্যে সহযোগিতায় নতুন প্রাণের সঞ্চার করতে পারে, তা একমাত্র কার্যকর হতে পারে যদি ভারত ও পাকিস্থানের মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক হয়.

    সন্দেহবাদীদের মন্তব্যের পরিপন্থী হয়ে এই শীর্ষ বৈঠকে খুবই চাঞ্চল্যকর খবর হয়েছে ভারতের প্রধানমন্ত্রী ডঃ মনমোহন সিংহ ও পাকিস্থানের প্রধানমন্ত্রী ইউসুফ রাজা গিলানির মধ্যে সরাসরি কথাবার্তা. ভারত ও পাকিস্থানের প্রতিনিধি দলের কাছ থেকে এই ঘটনার বিবরণে প্রচুর অপ্রত্যাশিত উষ্ণ মনোভাবের প্রতিফলন শুনতে পাওয়া গিয়েছে, যথেষ্ট হতে পারত শুধু এই টুকুই যে, আলোচনা হয়েছে খুবই ইতিবাচক মন নিয়ে এবং সত্যিকারের ভালো পরিবেশে. ইতিবাচক বলে আরও ভাবা যেতে পারে যে, ভারতের প্রধানমন্ত্রীর আশংকা যে পাকিস্থানের জমিতে ভারত বিরোধী সন্ত্রাসবাদীরা পুষ্ট হচ্ছে, তার উত্তরে তিনি শুনতে পেয়েছেন যে, পাকিস্থানের প্রধানমন্ত্রী বলেছেন যে, তাঁর প্রশাসন সন্ত্রাসবাদী মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে. এ ছাড়া পাকিস্থানের প্রধানমন্ত্রী মুম্বাই হামলার আসামী দের শাস্তি দেওয়ার কথাও আশ্বাস দিয়েছেন.

    অদূর ভবিষ্যতে এর থেকে কি আসা করা যেতে পারে? এই বিষয়ে নিজের ভবিষ্যত বাণী করেছেন রাশিয়ার প্রাচ্য বিশেষজ্ঞ ভ্লাদিমির সোতনিকোভ.

    "ভারত ও পাকিস্থানের নেতাদের মধ্যে যে আলোচনা হয়েছে এই সার্ক সংগঠনের কাঠামোর মধ্যে, তা খুবই ভাল কারণ. হতে পারে যে, এই বছরের গরমের মধ্যেই দিল্লী ও ইসলামাবাদের পুরো দমে কথাবার্তা শুরু হয়ে যাবে, বলা যাক অর্থনীতি ও সংস্কৃতি বিষয়ে. সার্ক সংগঠনের দুটি বিরাট সদস্য দেশের পারস্পরিক সম্পর্কের ওঠা পড়ার উপর এই আঞ্চলিক সংগঠনের কাজের সরাসরি ক্ষতি বৃদ্ধিতে প্রভাব তো বিস্তার করেই".

    দক্ষিণ এশিয়ার সব দেশের জন্যই দুই প্রধানমন্ত্রীর আলোচনা এক সুখবর হয়েছে, আর শুধু তাই নয়, এই আলোচনা চলতেই থাকবে. পাকিস্থানের প্রধানমন্ত্রী ইউসুফ রাজা গিলানির কাছ থেকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী ডঃ মনমোহন সিংহ ইসলামাবাদে আসার আমন্ত্রণ সানন্দে গ্রহণ করেছেন.