আন্তর্জাতিক নৃত্য দিবস, যা আজ সারা বিশ্বে পালিত হচ্ছে, তার অঙ্গ হিসাবে মস্কোতে আজ শুরু হবে সপ্তম বিশ্ব নৃত্য অলিম্পিক গেমস! সবাই নাচবে – শিশু থেকে বৃদ্ধ!বিশ্বের চল্লিশ টি দেশ থেকে প্রায় ১৭ হাজারেরও বেশী বাচ্চা ও বড়রা ১১ দিন ব্যাপী নৃত্য ম্যারাথনে অংশ নেবে. এ অলিম্পিক গেমসের একটি স্লোগান হল – "এতে যে কেউ অংশ নিতে পারে"! এই অলিম্পিক গেমসের ছত্র তলে নাচের প্রায় চল্লিশটি বিভাগে প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে! বলা যেতে পারে যারা নতুন কিছু আর দারুণ সুন্দর কিছু দেখতে ভালবাসে তাদের জন্য একটি "নৃত্যের বিশ্বকোষ"! এই বিশ্ব সম্মেলনের শুরু হবে "ফিরে আবার রাশিয়া" নামের রাস্তার নাচের অনুষ্ঠান দিয়ে, আর শেষ হবে "বিজয়ের ওয়ালটজ ২০১০" নাচের অনুষ্ঠান দিয়ে.রাস্তার নাচ বর্তমানে বাচ্চাদের আর অল্প বয়সীদের সকলেরই খুব আগ্রহের হবি. টেকটনিক, জাম্পের থেকে কিসে আলাদা, তা আজ সব ক্লাস ফাইভের বাচ্চাই জানে. অন্ততঃ দশ বছরের গিওর্গি তাই মনে করে, ও বলেছে:"টেকটনিক নাচ আমি গরম কালের বাচ্চাদের ক্যাম্পে শিখেছি" – শুরু করল সে একেবারে গুছিয়ে বলতে. "এটা কি রকম নাচ? এটা বেশী হল হাতের নাচ, কিন্তু তার ভঙ্গী খুবই বিভিন্ন রকমের, যখন ডিস্কো নাচের জায়গায় ইলেকট্রনিক বাজনা চালু হয়, সবাই হাত ঘুরিয়ে টেকটনিক নাচতে শুরু করে. আর যদি তাতে গতি বাড়িয়ে পা দিয়ে নাচ যোগ করা হয়, তাহলে আর একটা নতুন ঢঙ্গের নাচ শুরু হয়, তাকে বলে ইলেক্ট্রোড্যান্স. কিন্তু জাম্প নাচে শুধু পা দিয়ে, এটা একটা তালের নাচ, যেখানে গোড়ালি থেকে পায়ের আঙ্গুলে ক্রমাগত ভর পাল্টে নাচতে হয়".মস্কোতে রাস্তার নাচ ও আধুনিক নাচ শেখার অসংখ্য ক্লাব আছে, সেখানে টেকটনিক, জাম্প ছাড়াও অল্প বয়সী দের মধ্যে জনপ্রিয় নাচ হাতে পালকের বলের মত রঙীণ গোলা নিয়ে চিয়ারলিডিং নাচ বা খোলা গায়ে মেয়েদের গো গো নাচ শেখানো হয়ে থাকে. মেয়েদের মধ্যে খুবই জনপ্রিয় এই নাচ হল একটা খুঁটির গা জড়িয়ে রহস্যময় ভঙ্গীতে নাচ, এটা মোটেও স্ট্রিপ টীজ নাচ নয়, কিন্তু বেশ আবিষ্ট করে দেয়…বেশী বয়সের রাশিয়ার মহিলারা প্রাচ্যের নাচ পছন্দ করেন, সেগুলি সুন্দর বেশ ভিন দেশী আর খুবই নারী সুলভ. নাচের মধ্যে দিয়ে নিজের মনোভাব প্রকাশ করতে অনেকেই চাইছেন. এমনকি দিদিমারাও একটুও ক্লান্ত না হয়ে নাচতে পারেন.    এই সম্মেলনের শেষ তিন দিন দেওয়া হয়েছে বল ড্যান্স নাচের জন্য. খুবই গ্রাম্ভারী ওয়ালটজ, ফক্স ট্রট, উত্তেজক সাম্বা এবং চা চা চা নাচ – আজকাল এই  সব নাচের জনপ্রিয়তা দারুণ. যদিও এই সব নাচের একটা খুব বড় প্রতিদ্বন্দ্বী নাচ বেরিয়েছে, তার নাম হল হাস্সল, অথবা যাকে সামাজিক নাচ বলে নাম দেওয়া যেতে পারে. ট্র্যাডিশন মেনে বল নাচের বদলে এই নাচ অনেক গণতন্ত্রী, সেখানে নিজের ইচ্ছেমত নাচার বা স্বাধীন ভাবে নানা রকমের ভঙ্গিমায় নাচ করার উপায় আছে, তাই অনেক সময় ডিস্কো নাচের আসরে এই নাচ চলে. প্রত্যেকেই এখন বেছে নিতে পারে, তার যা ভাল লাগে. "অনেকেই স্বপ্ন দেখেন খুব সুন্দর করে নাচতে, আর নিজের জন্য যে কোন সময়েই তা শুরু করা যেতে পারে", এই রকম দৃঢ় বিশ্বাস নিয়ে বলেছেন ৩৮ বছরের সের্গেই, যে এই কয়েক দিন আগেই জীবনে প্রথম একটা নাচের ক্লাবে যোগ দিয়েছে. সে তার বউ এর সঙ্গে অবশ্য হাস্সল নাচের বদলে ওয়ালটজ আর ট্যাঙ্গো নাচকে বেশী প্রাধান্য দিয়েছে, কারণ তার কাছে "বাস্তবের সহজ" নাচের চেয়ে সত্যিকারের নাচতে শেখাটা বড় ব্যাপার.

সের্গেই বলেছে, "নাচ – এটা একটা অন্য বিশ্ব, আমাদের প্রতিদিনের উদ্বেগ তাতে কমে, আমাদের স্বাভাবিক করে, লোকজনের সঙ্গে মেলামেশা বাড়ায়, শরীরকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে, আর যারা সংসারী লোক তাদের পারস্পরিক সম্পর্কে আবার প্রেমের উদয় হয়". বোঝা গেল যে, নাচ সমস্ত সমস্যার সমাধান, তাই সবাই এবারে নাচতে যাওয়া যাক!

<sound>