আজ ঊনত্রিশে এপ্রিল, মার্কিন সেনেটের আন্তর্জাতিক পরিষদে রাশিয়ার সঙ্গে রণনৈতিক আক্রমণাত্মক অস্ত্রসজ্জা সংক্রান্ত চুক্তি গ্রহণের জন্য প্রথম দফায় আলোচনা শুরু হচ্ছে. ওয়াশিংটন থেকে এই খবর দেওয়া হয়েছে. আমাদের রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক ভিক্তর এনিকিয়েভ বিষয়টি নিয়ে বিশদ করে বলেছেন.

    ঘটনা খুবই দ্রুত পট পরিবর্তন করছে, কিছু সন্দেহ বাদী লোক তার আশাই করতে পারেন নি. কারণ রাশিয়া ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পারমানবিক অস্ত্র একের তৃতীয়াংশ হ্রাসের চুক্তি দুই দেশের রাষ্ট্রপতি মেদভেদেভ ও ওবামার দ্বারা সবে আটই এপ্রিল প্রাগে স্বাক্ষরিত হয়েছিল. তাই অবশ্যই হোয়াইট হাউসের ও আমেরিকান আইন প্রণেতাদের কাজের গতির প্রশংসা করতেই হবে. প্রসঙ্গতঃ উল্লেখ করা উচিত্ যে মস্কো এবং ওয়াশিংটন কাজ করছে সহমতে এসেই.

    তবুও এখনই আকাশে টুপি ছুঁড়ে বিশাল উল্লাস করার সময় আসে নি. কারণ নতুন রণনৈতিক আক্রমণাত্মক অস্ত্রসজ্জা চুক্তিকে এখনও অনেক জটিল ও সময় সাপেক্ষ পথ অতিক্রম করতে হবে আমেরিকার কংগ্রেসের উচ্চ কক্ষে. এখানে বলা দরকার যে, এই চুক্তির অনেক প্রতিপক্ষ রয়েছেন রিপাব্লিকান দলের মধ্যে, এঁদের মধ্যে চল্লিশ জন সদস্য ইতিমধ্যেই মার্কিন রাষ্ট্রপতি ওবামাকে লিখিত ভাবে তাঁদের আপত্তি জানিয়ে চিঠি দিয়েছেন. তা ছাড়া মনে রাখতে হবে যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সেনেটে বহু কাল হল স্ট্র্যাটেজিক আক্রমণাত্মক সমর সম্ভার কম করা নিয়ে কোন চুক্তি আলোচিত হয় নি. এ রকম একটা সমস্যা উত্পত্তি হতেই পারে যে, মার্কিন সেনেটে এই বছরের শেষের আগে হয়ত রণনৈতিক আক্রমণাত্মক অস্ত্র সজ্জা নিয়ে আলোচনা সময়ের খামতির কারণে শেষ অবধি হয়ে উঠতেই পারবে না. সামনে আইন প্রণেতাদের গরমের ছুটি এবং হেমন্তে সেনেটে উপ নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে. তাই ওয়াশিংটন থেকে ইতিমধ্যেই নানা কন্ঠস্বর শোনা গিয়েছে যে, নতুন রণনৈতিক আক্রমণাত্মক অস্ত্রসজ্জা নিয়ে চুক্তি গ্রহণের বিষয় সম্পূর্ণ সেনেটের সদস্য সভার সামনে আগামী ২০১১ সালের আগে আনা সম্ভব হবে না.

    উল্লেখ করা যেতে পারে যে, এই রকম হলে তাকে সবচেয়ে ভাল প্রেক্ষাপট বলা যাবে না, এই বিষয়ে যে কোন রকমের ইচ্ছে করে দেরী করা বা সময় পেছিয়ে দেওয়া ফল পেতে পেছিয়ে দেবে. তার মধ্যেও বলা যেতে পারে যে রণনৈতিক আক্রমণাত্মক অস্ত্রসজ্জা সংক্রান্ত চুক্তি গ্রহণের প্রক্রিয়া আজ থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে শুরু হয়ে গেল. অবশ্যই কিছুটা ইতিবাচক মানসিকতা দেখা যাচ্ছে আমেরিকার সেনেটর দের মধ্যে যাঁরা রাশিয়ার রাষ্ট্রপতির প্রস্তাবে কান দিয়ে একই সময়ের মধ্যে এই চুক্তি গ্রহণের কথা মেনে নিয়েছেন. কিন্তু ওবামার প্রশাসনের এখনও অনেক কাজ বাকী আছে সেনেটর দের কাছে এই চুক্তি গ্রহণের ফলে আমেরিকার কি লাভ হবে এবং পারমানবিক অস্ত্র সজ্জা ও রকেট হ্রাসের ক্ষেত্রে কি সুবিধা হবে তা বোঝাতে গিয়ে. এই ক্ষেত্রে অবশ্যই জরুরী বলে নজর দিতে হচ্ছে আমেরিকায় এই চুক্তি কিভাবে গৃহীত হবে সেই প্রক্রিয়া বা কাজের ধারার উপর. কারণ রাশিয়াতে অবশ্যই এই কাজ হবে অনেক সহজে, যেহেতু দেশের পার্লামেন্টের উচ্চ ও নিম্ন কক্ষে একটিই দল ঐক্যবদ্ধ রাশিয়া কাজ নিয়ন্ত্রণ করছে. খুবই আদর্শ চিত্র হত যদি এই বছরের শেষের আগেই দুই দেশের পার্লামেন্ট এই চুক্তি গ্রহণ করত. প্রসঙ্গতঃ একই সঙ্গে পারস্পরিক চুক্তি গ্রহণের অভিজ্ঞতা এর মধ্যেই প্রথমবার হয়ে গিয়েছে, মস্কো ও কিয়েভ অল্প দিন আগেই একসঙ্গে ক্রিমিয়ার সেভাস্তপোল বন্দর শহরে রাশিয়ার সামরিক নৌবাহিনীর আগের চুক্তি শেষ হওয়ার পর পরবর্তী ২৫ বছরের জন্য চুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে.

<sound>