রাশিয়ার রাষ্ট্রপতির প্রশাসন বিভাগের অধ্যক্ষ ভ্লাদিমির কোঝিন জানিয়েছেন যে, ২৫ টি দেশের রাষ্ট্রপ্রধান তাঁদের ফ্যাসীবাদের বিরুদ্ধে বিজয়ের ৬৫তম জয়ন্তী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের কথা নিশ্চিত ভাবে জানিয়েছেন. তাঁদের মধ্যে রয়েছেন জার্মানী, ইতালি, ফ্রান্স, চেখ দেশের নেতারা. শেষ অবধি কত জন আসবেন তার তালিকা অবশ্য এখনও তৈরী হয় নি. শুধু নিশ্চিত করে জানা আছে যে, মস্কোতে বৈধ কারণেই মার্কিন রাষ্ট্রপতি বারাক ওবামা এবং গ্রেট ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী গর্ডন ব্রাউন আসতে পারছেন না.

    এই অনুষ্ঠানের মুখ্য বিষয় হবে রেড স্কোয়ারের বিজয় প্যারেড. ক্রেমলিনের সামনের পাথরের উপর দিয়ে শুধু রাশিয়ার সামরিক বাহিনীর সৈন্য এবং অফিসারেরাই যাবেন না, আরও যাবেন হিটলারের বিরুদ্ধে সোভিয়েত দেশের সঙ্গে জোট বদ্ধ দেশের সামরিক বাহিনীর প্রতিনিধিরাও. ব্রিটেনের প্রতিনিধিত্ব করবে ১৯৪০ সালে ফ্যাসিস্ট জার্মানীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা ওয়েলসের ব্যাটেলিয়নের সৈন্যরা, ফ্রান্সের পক্ষ থেকে নর্মান্ডি – নেমানের বিশ্ব বিখ্যাত পাইলট ও টেকনিশিয়ান দের প্রতিনিধিরা, যাঁরা সোভিয়েত বাহিনীর অংশ হিসাবে যুদ্ধ করেছিলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনীর পক্ষ থেকে ১৮ তম পদাতিক বাহিনীর দ্বিতীয় ব্যাটেলিয়নের প্রতিনিধিরা, যারা প্রথম নর্মান্ডি অঞ্চলে প্যারাশুট করে নেমেছিল. আমেরিকার ব্যাটেলিয়নের পর পোল্যান্ডের সামরিক বাহিনীর এক সম্মান গার্ড বাহিনী যাবে, যারা ফ্যাসীবাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে সবচেয়ে বেশী সময় এক জোট হয়ে লড়েছিল.

    ক্রেমলিনের পাথরের পথের উপর দিয়ে সংযুক্ত ব্যাটেলিয়নের মধ্যে প্যারেড করবে স্বাধীন রাষ্ট্র সমূহের সামরিক বাহিনীর প্রতিনিধিরা, যারা আসছেন – আজারবাইজান, আর্মেনিয়া, বেলোরাশিয়া ও ইউক্রেন থেকে. তুর্কমেনিয়ার অনুরোধ মেনে তাঁদের দেশের যে অফিসার পতাকা বহন করে বাহিনীর আগে যাবেন, তিনি থাকবেন ঘোড়ায় চড়ে. তাঁর জন্য বিশেষ বিমানে আশখাবাদ থেকে প্যারেডের ঘোড়া আনানো হয়েছে.

    প্যারেডে হিটলার বিরোধী জোটের দেশগুলির সামরিক বাহিনীর যোগদান – প্রমাণ করে দিয়েছে যে, বর্তমানেও এই দেশ গুলির সরকার মনে করে যে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ফল সর্বদা একই থাকবে এবং তা কখনোই আর পাল্টানো যাবে না. রাশিয়ার রাষ্ট্রপতির প্রশাসন অধ্যক্ষ ভ্লাদিমির কোঝিন বলেছেন:

    আমরা মনে করি যে, এই বিষয় টা সকলের জন্যই যারা এই যুদ্ধে জয় লাভ করেছেন, তাদের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনের সমান. কিন্তু এটা ভবিষ্যতের জন্যও একটি পদক্ষেপ, যা আমাদের ভুলতে সাহায্য করবে যে, কখনো ঠাণ্ডা যুদ্ধ হয়েছিল, নতুন প্রজন্মের বর্তমানের অফিসাররা একে অপরের দিকে আর কখনোই বন্দুকের নিশানা দিয়ে দেখবে না. আর একই সঙ্গে তৈরী থাকবে একবিংশ শতকের নতুন উদ্ভূত বিপদের মোকাবিলা করতে.

    এ ছাড়া পরিকল্পনা করা হয়েছে যে, রাশিয়া তে বিজয় দিবস উপলক্ষে হিটলার বিরোধী জোটের ভেটেরান সৈন্যরা আসবেন, তাদের মধ্যে আমেরিকার সৈন্যরাও থাকবেন. তা ছাড়া তাঁরা শুধুই মস্কো আসবেন না, ভ্লাদিভস্তক শহরেও আসবেন, যেখানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নৌ বাহিনীর জাহাজ এসে পৌঁছবে.

    ৯ই মের বিজয় দিবসের প্যারেড শুধু রেড স্কোয়ারে হবে না, সেনা বাহিনী ও সমরাস্ত্রের প্যারেড হবে দেশের ৭২টি শহরে এবং ইউক্রেনের সেভাস্তপোল বন্দর শহরে. ৬৫ বছরের বিজয় উপলক্ষে এই অনুষ্ঠানে যোগ দিচ্ছেন দশ হাজারেরও বেশী সেনা বাহিনীর লোক ও ভেটেরানেরা এবং হাজারেরও বেশী সামরিক অস্ত্র সম্ভার.