সোমালির উপকূলে বিনা শাস্তিতে বিরাজ করা জলদস্যূদের খুব শীঘ্রই শেষ করা হবে. রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ মঙ্গলবার রাশিয়ার প্রস্তাবিত সামুদ্রিক জলদস্যূদের মোকাবিলা করার জন্য বাড়তি ব্যবস্থার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে. এই দলিলে বিবৃত করা হয়েছে যে, আন্তর্জাতিক আদালতে সামুদ্রিক লুঠেরাদের বিরুদ্ধে ফরিয়াদী মামলা দায়ের করা যাবে. এ ছাড়া নিরাপত্তা পরিষদ সমস্ত দেশকেই তাদের নিজস্ব জাতীয় আইন ব্যবস্থায় সামুদ্রিক জলদস্যূদের ফরিয়াদী আসামী বলে মেনে নিতে বলেছে.

    রাষ্ট্রসংঘের তথ্য অনুযায়ী শুধুমাত্র ২০০৯ সালে সোমালির জলদস্যূরা ২১৭টি জাহাজে হানা দিয়েছে এবং ৪৭ টি দখল করতে পেরে তার মুক্তি পণ হিসাবে ৮২ মিলিয়ন ডলার আদায় করে ছেড়েছে. আর ২০১০ সালের এপ্রিল মাসে তারা কম করে হলেও ৪টি বড় জাহাজ দখল করেছে. যদিও এই সামুদ্রিক জলদস্যূরা বিভিন্ন দেশের বাণিজ্য জাহাজ গুলিকে যথেষ্ট বড় রকমের ক্ষতি স্বীকার করতে বাধ্য করেছে, তাও এখনও অবধি তাদের উপযুক্ত জবাব দেওয়া সম্ভব হয়ে ওঠে নি. আফ্রিকার শৃঙ্গ অঞ্চলে সামরিক যুদ্ধ জাহাজের পাহারা অবশ্যই সাহায্য করেছে, কিন্তু প্রথমতঃ এই কাজ যথেষ্ট দামী আর দ্বিতীয়তঃ প্রত্যেক জাহাজের গায়ে একটা করে পাহারাদার জাহাজ দেওয়া সম্ভব নয়. জলদস্যূ নির্মূল করার বিষয়ে সবচেয়ে বড় সমস্যা হল বর্তমানে কোন জাহাজ আক্রমণ করছে এই অবস্থায় ধরা পড়া লোকেদের বিচার করার জন্য কোন আন্তর্জাতিক আইন সঙ্গত ব্যবস্থা ছিল না. প্রায়ই তাদের স্রেফ ছেড়ে দেওয়া হয়েছে, কারণ জানা ছিল না কোন আইনে তাদের কোথায় বিচার করা সম্ভব হবে.

    এই প্রসঙ্গে রাশিয়া আন্তর্জাতিক ফরিয়াদী আইনে জলদস্যূদের বিচার করার আইন তৈরী করার কথা প্রস্তাব করেছিল. এপ্রিল মাসে এই বিষয়ে সিদ্ধান্তের খসড়া রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদকে বিবেচনা করার জন্য পাঠানো হয়েছিল. বলতে হবে, নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যরা শুধু মাত্র এই সিদ্ধান্তকে স্বীকৃতিই দেয় নি, বরং তার সঙ্গে নিজেদের প্রস্তাব গুলিও যোগ করেছে, রাশিয়ার তরফ থেকে রাষ্ট্রসংঘের স্থায়ী প্রতিনিধি ভিতালি চুরকিন এই প্রসঙ্গে বলেছেন:

    রাশিয়া তার সহকর্মী দেশ গুলির প্রতি তাদের গঠন মূলক দৃষ্টি ভঙ্গীর জন্য এবং মূল্যবান ধারণার জন্য কৃতজ্ঞ, যার ফলে এই জলদস্যূ বিরোধী উদ্যোগে একটি গতি এসেছে. এই সিদ্ধান্ত গ্রহণের ফলে তার প্রভাব সোমালির উপকূলে ও ভারত মহাসাগরের আরও দূরের অঞ্চল গুলিতে পড়বে. নিরাপত্তা পরিষদ একটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত দিয়েছে যে, আন্তর্জাতিক সমাজ এখন খুব দৃঢ় ভাবে জলদস্যূদের মোকাবিলার বিষয়ে সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে এবং বাড়তি ব্যবস্থার খোঁজ করছে, যাতে যে সমস্ত লোক জলদস্যূ হানার পরিকল্পনা, আয়োজন ও কাজ করছে, তাদের প্রত্যেকের ফরিয়াদী মামলার আসামী হিসাবে উপযুক্ত শাস্তি পেতে হয়.

    রাষ্ট্রসংঘের মহাসচিব বান গী মুন আগামী তিন মাসের মধ্যে তাঁর রিপোর্ট তৈরী করতে বাধ্য এবং তাতে জলদস্যূদের শাস্তির বিষয়ে নির্দিষ্ট সিদ্ধান্তের কথা থাকবে. আশা করা হয়েছে যে এই কাজের জন্য একটি বিশেষ সভার ব্যবস্থা করা হবে প্রত্যেক দেশের আদালতে এবং সেখানে এই জাতের মামলা বিচার করা হবে, আর একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক ন্যায়াধীকরণ (ট্রিব্যুনাল) তৈরী করে জলদস্যূদের ধরা হবে. বিশেষজ্ঞরা মনে করেছেন যে, এই ধরনের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত করতে হলে বেশী সময় লাগবে না, বাস্তবে কাজ শেষ হতে পারে মাত্র কয়েক মাসেই. এখানে বিতর্কের বিষয় হতে পারে শুধু জলদস্যূদের জেলে রাখার বিষয় নিয়ে, কিন্তু এটা যতটা না আইনের তার থেকেও বেশী অর্থনৈতিক প্রশ্ন. অনির্দিষ্ট কালের জন্য কিছু বাড়তি মুখের জন্য খাবার যোগাতে এহ বাহ্য যে কেউই খুব একটা রাজী হতে চাইবে না.

<sound>