শুধু মাত্র শক্তি প্রয়োগ করে সন্ত্রাসবাদকে জয় করা যায় না. সন্ত্রাসের ঘাঁটি ধ্বংস করে দিলেও আমরা সমস্যা ধ্বংস করতে পারব না. নানা দিক থেকে কাজ করা দরকার বলে বিশ্বাস করেন রাষ্ট্রপতি দিমিত্রি মেদভেদেভ. নিজের দৃষ্টিকোণ সম্বন্ধে তিনি ডাচ রেডিও সম্প্রচার কর্পোরেশনের সাংবাদিকের সঙ্গে বিশ্লেষণ করেছেন.

    সন্ত্রাসবাদ – এটা শুধুমাত্র বোমা সমেত এক দল লোক নয়. এটা বিশেষ ধরনের দৃষ্টিকোণের সমাহার. তাই শুধুমাত্র সামাজিক – অর্থনৈতিক সংশোধন বা শুধু শক্তি প্রয়োগ করে তা সমাধান করা সম্ভব নয়. অন্ততঃ চারটি দিক থেকে একই সঙ্গে কাজ করা দরকার বলে মনে করেন রাষ্ট্রপতি দিমিত্রি মেদভেদেভ.

    "প্রথমতঃ, উচিত হবে সবচেয়ে কুখ্যাত আণ্ডার গ্রাউন্ড সন্ত্রাসবাদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সমস্ত রকমের সম্ভাব্য মাধ্যম দিয়ে লড়াই করতে হবে. কিছু ক্ষেত্রে এটা একমাত্র সম্ভাবনা. দ্বিতীয়তঃ, আমরা আইন ব্যবস্থাকে তার সঠিক অর্থ অনুযায়ী সবচেয়ে বড় ভাবে প্রসারিত করতে বাধ্য. লোককে বোঝাতে হবে যে, একমাত্র আইন সঙ্গত ভাবেই সমাজে নিয়ম স্থাপন করা সম্ভব, দুর্নীতি বন্ধ করা যায়, স্বজন পোষণ বন্ধ করা যেতে পারে, যা দুঃখের হলেও ককেশাসে শত বছর ধরে মূল বিস্তার করে রয়েছে. তৃতীয়তঃ, এই ধরনের লড়াই ধর্ম বিশ্বাস ও মূল্যবোধ না থাকলে করা সম্ভব নয়. তার মধ্যেই আছে নৈতিকতা সম্বন্ধে পুরো বোধ, আর সেই সব নৈতিকতা বোধ, যা ধর্ম থেকে নির্গত হয় এবং ককেশাসে প্রচারিত ইসলাম ও খ্রীস্টান ধর্মের মধ্যে রয়েছে. ধর্মীয় মূল্যবোধের কাছে আবেদন করার দিকটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ, সেই সন্ত্রাসবাদীরা এর ব্যবহার না করতে পারে, যারা এমনিতেই ইসলাম ও খ্রীষ্ট ধর্মের পরিপন্থী সব কাজ করে থাকে. আর শেষ হল চতুর্থ পথ, অর্থনৈতিক অবস্থার পুনরুদ্ধার, কাজ করার উপযুক্ত জায়গার সৃষ্টি, ককেশাসের লোকেদের জীবন যাতে আরাম দায়ক হয়".

    সামাজিক সমীক্ষা করে যা দেখা গিয়েছে তা হল, রাশিয়ার লোকেরা দেশের সরকারের কাজকে, যা সন্ত্রাসবাদের মোকাবিলার জন্য করা হয়েছে সেই সমস্ত কিছুকে সমর্থন করেছে. শুধু বেশীর ভাগ লোক প্রায় দুই তৃতীয়াংশ যাদের প্রশ্ন করা হয়েছে, তারা বলেছে যে, সন্ত্রাসবাদীদের সঙ্গে কোন রকম আলোচনা বা বৈঠকের মধ্যে না গিয়ে তাদের ধ্বংস করে দেওয়া উচিত শক্তি প্রয়োগ করে. আর ধর্ম ও নৈতিকতা বোধের বা সামাজিক অর্থনৈতিক উন্নতিকে মনে করেছে রোগ প্রতিরোধক ব্যবস্থা হিসাবে বহাল রাখতে. যাতে সন্ত্রাসবাদীরা নিজেদের দলে নতুন লোক টানতে না পারে. অর্ধেক সমীক্ষায় অংশ নেওয়া রুশ লোকেরা মনে করেছে যে, আগামী কুড়ি বছরের মধ্যেই উত্তর ককেশাস আর বিপদ বা আশংকা করার কোন উত্স থাকবে না. সময় নিশ্চয়ই কম নয়, তবুও উত্তর ককেশাসের পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তন করার জন্য রুশ লোকেরা তাদের নিজেদের কিছু আইন সঙ্গত অধিকার ও স্বাধীনতা কম করতে রাজী আছে. অংশতঃ প্রায় সকলেই আঙ্গুলের ছাপ দিতে তৈরী এবং রাশিয়াতে চলাফেরার বিষয়ে কিছু বাধা মানতে তৈরী. (sound)