১৯৪৫ সালের এলব নদীর তীরে সোভিয়েত ও আমেরিকার সৈন্যবাহিনীর কিংবদন্তী হয়ে যাওয়া সাক্ষাত্কারের সময়ের মানসিকতা একবিংশ শতাব্দীর বিপদের ফলপ্রসূ মোকাবিলা করতে সাহায্য করবে. এই রকম মনে করেছেন রাশিয়া ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতিরা দিমিত্রি মেদভেদেভ ও বারাক ওবামা, এই স্মরণীয় দিনের ৬৫ বছর উপলক্ষে প্রকাশিত এক বার্তায় তাঁরা সম্মিলিত ভাবে এই ঘোষণা করেছেন. এই বিষয়ে বিশদ করে লিখেছেন আমাদের সমীক্ষক ভিক্তর এনিকিয়েভ.

    রাষ্ট্রপতি মেদভেদেভ ও ওবামার এই ঘোষণা শুধুমাত্র সেই সাক্ষাত্কারের সময়ে যাঁরা ছিলেন, তাঁদের জন্যই নয়, বরং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সমস্ত ভেটেরানদের জন্যই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ. তা তাঁদের অভূতপূর্ব সামরিক ও নাগরিক বিজয়ের ঐতিহাসিক গুরুত্বকে আরও একবার মনে করিয়ে দিতে সাহায্য করেছে. কারণ এলব নদীর তীরের এই মিলনের মানসিকতা এমনকি ঠাণ্ডা যুদ্ধের সবচেয়ে কঠিন বছর গুলিতেও মস্কো এবং ওয়াশিংটনের মধ্যের সম্পর্ক কে উষ্ণ করেছিল.

    রাশিয়া ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নেতাদের এই ঘোষণা – যদি মনে করতে চান তাহলে মেনে নিতে পারেন যে, বর্তমানের যুব সমাজের জন্য এক অনুদেশ, শুধুমাত্র রাশিয়া বা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্যই নয়, যারা দোষ ঢাকার চেষ্টা না করে, সোজা সুজি বললে, বলা যায় যে, প্রায়ই মানবেতিহাসের এই ভয়াল তম যুদ্ধের সম্বন্ধে খুব অল্পই পরিস্কার ধারণা রাখে. বিভিন্ন সমীক্ষাতে দেখা গিয়েছে যে, এমনকি ইউরোপে, বিশেষত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অনেক যুবক যুবতী জানেন না যে হিটলারই দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ বাধিয়েছিল. প্রায়ই তাদের জ্ঞানের পরিধি তে থাকে না যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং সোভিয়েত দেশ এক জোট ছিল না কি একে অপরের বিরুদ্ধে লড়েছিল. আমরা মানতে বাধ্য যে, আজকের রাশিয়াতেও সকলে জানে না যে, এলব নদীর তীরে সোভিয়েত ও আমেরিকান জোট বাহিনীর সাক্ষাত্কারের ফলেই হিটলারের বাহিনীর সামরিক শক্তিকে দুই ভাগে ভাগ করে ফ্যাসীবাদের বিরুদ্ধে জয় কে আরও এগিয়ে আনা সম্ভব হয়েছিল.

    খুবই সময়মতো এবং সত্যই অত্যন্ত প্রয়োজনে দুই রাষ্ট্রপতি মেদভেদেভ ও ওবামার ঘোষণা করা হয়েছে. রাশিয়া ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের ক্ষেত্রে তাঁদের শুরু করা সেই "রিবুট" হওয়ার ভিত্তি মজবুত করতে আরও একটি পাথর জমা হল. কিন্তু সবচেয়ে মুখ্য প্রশ্ন হল কি হলে এই এলব নদী তীরের সখ্যতার স্মৃতি সম্মিলিত বিজয় উত্সব রজনী পার হলেই হাওয়াতে মিলিয়ে যাবে না, বরং চিরকাল দুই দেশের সম্পর্কের মধ্যে বজায় থাকবে. আমাদের দেশ গুলির ভূমিকার কথা মাথায় রেখে, উচিত্ হবে যে, সবসময়েই যেন পারস্পরিক বিশ্বাস ও শ্রদ্ধার সঙ্গে সম অধিকারে গঠনমূলক আলোচনা হতে পারে. এর ফলে শুধু রাশিয়া বা আমেরিকার লোকেরাই উপকৃত হবে না, বরং সারা বিশ্বই তার সুফল পাবে, কারণ সকলেই জানেন যে, মস্কো ও ওয়াশিংটনের অংশ গ্রহণে একবিংশ শতকের সমস্ত বিপদের মোকাবিলা করা সম্ভব. সমস্যা রয়েছে রকেট পারমানবিক নিরস্ত্রীকরণের, সামরিক পারমানবিক শক্তি প্রযুক্তির প্রসার রোধে, আঞ্চলিক বিরোধের মীমাংসাতে, সন্ত্রাসবাদ ও মাদক পাচারের মোকাবিলা করাতে, বিশ্বের আর্থ বিনিয়োগ সঙ্কটের মোকাবিলা করাতে, জ্বালানী শক্তি, পরিবেশ দূষণ ও অন্যান্য সমস্যার সমাধানে.

    এই বিষয়ে বলতে গিয়ে বুঝতে পারা যায় যে, নাত্সী জার্মানীর বিরুদ্ধে শুধু আমাদের দুই দেশেরই মানুষের নয়, বরং সারা বিশ্বের ফ্যাসীবাদ বিরোধী শক্তির জয়ের যে এলব নদীর তীরের মিলনের মানসিকতা রয়েছে, তা শুধুমাত্র রাশিয়া ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নেতাদের এই স্মরণীয় দিনে ঘোষণাতেই যেন আবদ্ধ না হয়ে থাকে. তা যেন প্রতি দিনই একবিংশ শতাব্দীর বিশ্বের সমস্ত সাধারন মানুষের জীবনের অংশ হয়, কারণ তাঁদের সামনেই শান্তি বহাল রাখার সমস্যা রয়েছে, রয়েছে বিশ্বের স্থিতিশীলতা ও উন্নতির প্রশ্ন.