বর্তমানের বিশ্বের যত রকমের ধর্ম বিশ্বাস, বিচার ধারার মধ্যে পার্থক্য থাকুক না কেন, তার মূল প্রয়োজন হল বিভিন্ন প্রজাতির মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি এবং দেশকে ঐক্যবদ্ধ করা, এই বিষয়ে দ্বিতীয় বিশ্ব ধর্ম মহা সম্মেলনের প্রতিনিধি হিসাবে আসা সমস্ত ধর্মের নেতৃত্বই একমত. এই বিশাল বিভিন্ন ধর্মের একসাথে আয়োজিত সম্মেলন ২৬ শে এপ্রিল সকালে আজারবাইজান দেশের রাজধানী বাকু শহরে শুরু হয়েছে, এখানে বিশ্বের চল্লিশটি দেশ থেকে প্রায় ৩০০ জন প্রতিনিধি জমা হয়েছেন.

    এই বিশাল শীর্ষ সম্মেলনের আগে প্রাক্তন সোভিয়েত দেশের অন্তর্ভুক্ত স্বাধীন রাষ্ট্র সমূহের আন্তর্ধর্মীয় মহাসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে ২৫শে এপ্রিল. – যাঁরা বিশ্বের সর্ব ধর্ম মহা সমাবেশের এর প্রধান উদ্যোক্তা এবং আয়োজক. এই স্বাধীন রাষ্ট্র সমূহের সমাবেশকে মনে করা যেতে পারে যে, বিশ্ব সম্মেলনের আগে প্রধান রিহার্সাল. কারণ রাশিয়া ও অন্যান্য স্বাধীন রাষ্ট্র গুলিতে বিভিন্ন ধর্ম মতের শান্তি প্রিয় ও সহমতে সহাবস্থান আজকের দিনে সারা বিশ্বের জন্যই এক অমূল্য উদাহরণ যে, কি করে বিভিন্ন মতের মানুষেরা একসাথে, সমস্ত জাতির মানুষের ও দেশের ভালর জন্য সহযোগী হিসাবে কাজ করতে পারে, এই বিষয়ে দৃঢ় বিশ্বাস নিয়ে আন্তর্ধর্মীয় পরিষদের সহ চেয়ারম্যান রাশিয়ার অর্থোডক্স খ্রীস্টান ধর্মের প্যাট্রিয়ার্ক কিরিল বলেছেন:

    "যখন কেউ বলে যে, ধর্ম মানুষকে ভাগ করে, তখন সে মিথ্যা কথা বলে. ধর্ম শুধু মাত্র তখনই একজন লোককে অন্য জনের থেকে আলাদা করে, যখন সেই লোক ভগবানের থেকে অনেক দূরে, সে প্রার্থনা করে না, ভগবানের সঙ্গে কথা বলে না, তাঁকে অনুভব করে না. তখন সেই মানুষ শুধু যে অন্য ধর্ম পালন করে তার থেকেই শুধু দূরের হয়ে যায় না, এমনকি যে তার সঙ্গে একই ধর্মের এবং তা পালন করে তার থেকেও দূরের হয়ে যায়. বিশ্বের সঠিক গঠন হয় তখনই যখন তার কেন্দ্রে থাকেন ভগবান, কি নামে তাকে ডাকা হচ্ছে সেটা মূল কথা নয়, আর যখন মানুষে ভগবানের দিকে যায়, তখনই তার জীবনের চারপাশে শান্তি, শ্রদ্ধা, ভালবাসা এবং শক্ত মানবিক ও দেশের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরী হয়ে যায়. আমি বিশ্বাস করি যদি আমরা এই নীতি মেনে এই সম্মেলনের ভিতরে কাজ করি, তবেই আমরা সেই সব প্রশ্নের উত্তর জানতে পারব যে, কি করে বর্তমানের বিশ্বকে আরও ভাল করা যায়. যাতে তার সমস্ত বিরোধ ও একে অপরকে বোঝার অসুবিধা দূর হয়ে যায়".

    এই সম্মেলনের ঘোষিত বিষয় হল – বর্তমানের বিশ্বের সমস্যা, বিশ্বায়ন এবং বর্তমানের ধর্ম গুলির ভূমিকা ঐতিহ্যময় মূল্যবোধের সংরক্ষণে. এই বিষয়ের ভিতরে সমস্ত বেদনা দায়ক প্রসঙ্গেই আলোচনা সম্ভব. সত্যই বিগত কিছু বছরে বিশ্বে ও প্রাক্তন সোভিয়েত দেশের অঞ্চলে অসংখ্য জটিল প্রশ্নের উদ্ভব হয়েছে. তাদের মধ্যে রয়েছে ইসলাম ধর্মের সঙ্গে পশ্চিমের সভ্যতার বিরোধ, আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদের বিপদ, বর্তমানের জীবন ধারা থেকে ধর্মীয় অনুশাসনকে বিতাড়নের প্রচেষ্টা, সমগ্র মানবিক মূল্যবোধ কে একটি বিশেষ ধরনে পরিনত করার প্রচেষ্টা, ঐতিহ্য মেনে চলা মূল্যবোধের পরিবর্তে উদার নীতির মূল্যবোধ স্থাপন করার চেষ্টা ও আরও অনেক কিছু.

    ভাবার কোন কারণ নেই যে, এই সব প্রশ্নের আলোচনা খুব মসৃণ হবে. বর্তমানের সম্মেলনে এসেছেন আগে যাঁদের মনে করা হত কখনও এক জায়গায় হতে পারে না এমন সব বিরোধী পক্ষ. ইরানের মুসলমান ও ইজরায়েলের ইহুদী, আর্মেনিয়ার অর্থোডক্স গির্জার প্রতিনিধি আর আজারবাইজানের ইসলামের প্রতিনিধিরা, জর্জ্জিয়ার ধর্মীয় নেতা এবং আবখাজিয়ার ধর্মীয় প্রতিনিধি. তাদের প্রত্যেকেরই বর্তমানের ইতিহাসে একে অপরের প্রতি বিভিন্ন সময়ে এতই যথেষ্ট অভিযোগ জমা হয়েছে যে সময় এসেছে এক গোল টেবিল বৈঠকে বসে একে অপরের সঙ্গে সামনা সামনি এই সকলের জন্য উত্তেজনার সৃষ্টি কারী বিষয় গুলিকে নিয়ে আলোচনা করার. তা স্বত্ত্বেও বর্তমানের বিশ্বায়নের গতিতে ধর্মের দিক নির্দেশ কারী ভূমিকার অবনয়ন বাধ্য করেছে সকলকে একে অপরের প্রতি সহ্য শক্তি বৃদ্ধি করায়. বিভিন্ন ধর্মের মধ্যে ও অঞ্চলের মধ্যে সহমতে আসার জন্য আজ আমরা সমস্ত অভিযোগ ও অভিমান ভুলে যেতে বাধ্য. কারণ আজ আমাদের সিদ্ধান্তের উপরেই নির্ভর করছে ভবিষ্যতের দেশ ও মানুষের জীবন, প্যাট্রিয়ার্ক কিরিল এই বিশ্বাস নিয়ে বলেছেন:

    "বর্তমানের সময়, পরিবর্তনের এবং সঙ্কটের, তার সঙ্গে অর্থনীতিতেও সঙ্কট, যখন সমাজে নানা রকমের প্রলোভনের সূচনা হয়, যাতে মানুষ একে অপরের থেকে আলাদা হয়ে যায়, সেই পরিপ্রেক্ষিতে আমাদের এই সম্মেলন এক প্রতীক ও বাস্তব চরিত্র বহন করছে. আর আমাদের বিভিন্ন ধর্মের, ঐতিহ্যের ও বিশ্বাসের লোককে একই গোল টেবিলের চারপাশে বসতে দেখলে লোকে বুঝতে পারবে যে, তাঁদের বিশ্বাসের নেতারা একে অপরের সঙ্গে কথা বলতে পারছেন, চুক্তিতে আসতে পারছেন এবং সহমত হতে পারছেন. আর বিভিন্ন ধর্মের নেতৃত্বের এই সদয় সহযোগিতাতে আসতে পারার উদাহরণ বর্তমানের বিশ্বে এক বিরাট মানে রাখে, বিশ্বকে বিভিন্ন ধর্মের মধ্যে ও প্রজাতির মধ্যে ঐক্যের ব্যবস্থা করে".

    ধর্মীয় নেতাদের শীর্ষ বৈঠক চলবে দুই দিন, তারপর বিভিন্ন ধর্মের নেতারা ও মতের নেতারা একত্রে এক সার্বজনিক বিবৃতিতে স্বাক্ষর করবেন, যা বিশ্বের রাজনৈতিক নেতাদের কাছে পাঠানো হবে. (sound)