চেরনোবিলের পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্রের দুর্ঘটনার দিন ২৬শে এপ্রিল ১৯৮৬ এর জয়ন্তী দিবসকে আন্তর্জাতিক পারমানবিক দুর্ঘটনা ও ধ্বংসের কারণে ক্ষতিগ্রস্থ দের স্মরণ দিবস বলে পালন করা হয়েছে. এই দিনে বিশ্বের সবচেয়ে বড় প্রযুক্তি জাত দুর্ঘটনা ঘটেছিল.

    পরপর দুটি বিস্ফোরণে, যা প্রায় একই সঙ্গে ঘটেছিল, চেরনোবিলের পারমানবিক বিদ্যত কেন্দ্রের চতুর্থ রিয়্যাক্টরের উপরের প্রায় এক হাজার টন ওজনের কংক্রীটের ঢাকনা সরে গিয়েছিল এবং ছাদ ভেঙে গিয়ে এক বিশাল গহ্বর দিয়ে বাইরের হাওয়া ঢুকে গ্রাফাইট স্তরের জ্বলন কে নিয়ন্ত্রণের উর্দ্ধে নিয়ে গিয়েছিল, ফলে পরিবেশে প্রায় ১ কিলোমিটার উঁচু অবধি ছড়িয়ে পড়েছিল পারমানবিক বিক্রিয়ায় তৈরী পদার্থ এবং প্রচুর সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম জ্বালানী. পারমানবিক ধুলো ৬ই মে পর্যন্ত, যতদিন না এই বিশাল ঢাকনা সারানো সম্ভব হয়েছিল পরিবেশে দূষণ ছড়িয়েছিল.

    রাশিয়ার বিজ্ঞান একাডেমী ও বিশ্ব আবহাওয়া এবং পরিবেশ সংক্রান্ত ইনস্টিটিউটের ডিরেক্টর একাডেমিক ইউরি ইজরায়েল চেরনোবিলের পারমানবিক কেন্দ্রের দুর্ঘটনার ফলের নির্মূল করণ সম্পর্কে বলতে গিয়ে উল্লেখ করেছেন:

   একেবারে প্রথম দিন থেকেই বেশ কয়েকটি দপ্তরের তরফ থেকে খুব বেশী করে পরিমাপ করা শুরু হয়েছিল, আমি, যেমন জল বায়ু দপ্তরের পক্ষ থেকে ছিলাম. আমাদের উপরে দায়িত্ব ছিল পরিবেশের উপরে জলে স্থলে আবহাওয়াতে পারমানবিক পদার্থের বিক্রিয়ায় কি হচ্ছে তা দেখা. একই সঙ্গে খুব সক্রিয় ভাবে কাজ করেছিলেন, কৃষি ও বন সম্পদ দপ্তরের বিশেষজ্ঞরা. চিকিত্সকেরা অবশ্যই শুরু থেকে ছিলেন, আমাদের সমস্ত পর্যবেক্ষণের ফলাফল দেশের লোকের উপর কি প্রভাব ফেলতে পারে তার গণনা করা হয়েছিল.

    ইউরি ইজরায়েল বলেছেন, যে সমস্ত জায়গায় সোভিয়েত স্বাস্থ্য দপ্তরের মতে পারমানবিক বিকীরণ ছিল সম্ভাব্য তেজস্ক্রিয়তার পরিমানের চেয়ে বেশী, সেখান থেকে দ্রুত লোকজন কে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল, তা প্রায় চার লক্ষ লোক. তেজস্ক্রিয় পদার্থের আস্তরণ পড়েছিল প্রায় ১৬০ হাজার বর্গ কিলোমিটার অঞ্চলে – এটা ইউক্রেনের উত্তরাঞ্চল, রাশিয়ার পশ্চিমাঞ্চল এবং বেলোরাশিয়া. পারমানবিক ভাবে সক্রিয় মেঘ এই দুর্ঘটনার ফলে উদ্ভূত হয়ে ইউক্রেন, বেলোরাশিয়া, রাশিয়া ও পূর্ব ইউরোপের উপর দিয়ে উড়ে গিয়ে স্ক্যান্ডিনেভিয়াতে, গ্রেট ব্রিটেনে এমন কি পূর্ব আমেরিকার উপরেও গিয়েছিল.

    দুর্ঘটনার পরে ভীষণ জটিল এক কাজ করা সম্ভব হয়েছিল, কংক্রীটের খোলসের মধ্যে দুর্ঘটনাতে ধ্বংস হয়ে যাওয়া চতুর্থ রিয়্যাক্টর কে ছয় মাসের মধ্যে সম্পূর্ণ ভাবে ঢেকে ফেলা সম্ভব হয়েছিল. সেই সব নিজের প্রাণের ও স্বাস্থ্যের মায়া না করে কাজ করা উদ্ধার ও ত্রাণের কাজ করা লোকেদের জন্যই পারমানবিক দূষণ থেকে পরিবেশকে সংরক্ষণ করা সম্ভব হয়েছিল.

    সরকারি তথ্যে প্রকাশ করা হয়েছিল যে, দুর্ঘটনার কারণে প্রায় পঞ্চাশ লক্ষ লোক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন এবং তাঁদের মধ্যে ছিল ছয় লক্ষ শিশু. যাঁদের জীবন এই কারণে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে এবং যাঁরা মারা গিয়েছেন, তাঁদের তালিকা আজও বেড়েই চলেছে, কারণ পারমানবিক বিষক্রিয়ার নিয়ম সম্পূর্ণ নিজস্ব.

    চেরনোবিল দুর্ঘটনার ২৪ বছরের স্মরণ উত্সবের আগে বেলোরাশিয়া ও রাশিয়ার চারটি অঞ্চলের পারমানবিক তেজস্ক্রিয়তার এক মানচিত্র প্রকাশ করা হয়েছে, এই মানচিত্র তৈরী করার কাজে দুই দেশের প্রায় কুড়িটি দল অংশ নিয়েছেন, এই প্রথম এই ধরনের মানচিত্রে বিভিন্ন ধরনের মাটির গঠনে পারমানবিক তেজস্ক্রিয়তার দূষণের মাত্রা সম্বন্ধে বেশ বড় করে লেখা হয়েছে, এই মানচিত্রে এই সব অঞ্চলের শুধু বর্তমানের পারমানবিক তেজস্ক্রিয়তা সম্বন্ধে বলা হয় নি, বরং আগামী ২০৫৬ সাল অবধি কি হতে পারে তাও উল্লেখ করা হয়েছে. এই মানচিত্রের সম্পাদক অ্যাকাডেমিক ইউরি ইজরায়েল বলেছেন যে এই মানচিত্রের একটি মানবিক মূল্যও রয়েছে, এটি মানব সমাজকে পরিবেশ ও পরবর্তী প্রজন্মের প্রতি দায়িত্বের কথা মনে করিয়ে দেবে.