২৬শে এপ্রিল বিশ্ব জ্ঞান স্বত্ত্ব (কপি রাইট) রক্ষণ দিবস. মস্কোতে ২৩ ২৪ শে এপ্রিল অনুষ্ঠিত হওয়া তৃতীয় সারা রাশিয়া একবিংশ শতকের জ্ঞান স্বত্ত্ব বিষয়ে ফোরামে কপি রাইট রক্ষার প্রশ্নটি প্রধান আলোচ্য বিষয় হয়েছিল.

    রাশিয়ার জাতীয় কপি রাইট সংরক্ষণ ইনস্টিটিউটের রেক্টর ইভান ব্লিজনেত্স বলেছেন যে, আজকের দিনে রাশিয়াতে আইন সঙ্গত ভিত্তি তৈরী হয়েছে কপি রাইট হোল্ডার ও আইন সঙ্গত অধিকার যাদের আছে তাদের স্বার্থ সংরক্ষণের জন্য.

    "অবশ্যই আইনে ক্রমাগত রদ বদল ও সংযোজন আনতে হতে পারে, কিন্তু বর্তমানে সামাজিক প্রশাসনিক আইনে কপি রাইট সংরক্ষণের বিষয়ে এর ধারণা ও উন্নতির বিষয়ে সমস্ত রকমের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে. আমি বিশেষ করে উল্লেখ করতে চাই যে, বর্তমানের আইনে যথেষ্ট পরিমানে কপি রাইট সংক্রান্ত বিষয়ের নির্মাণ, ব্যবহার ও সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে, যাতে সমস্যা সমাধান করা যায়".

    আইনজীবি দের জন্য তখনই সমস্যার সৃষ্টি হয়, যখন আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে রাশিয়ার আইনের কোন অমিল হয়.

    যেমন, রাশিয়ার বইয়ের বাজার, আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী চলতে গিয়ে সমস্যার সম্মুখীন হয়েছে. প্রাক্তন সোভিয়েত দেশে বিশাল পরিমানে বর্তমানের পশ্চিমের লেখকদের ও লেখা বই প্রকাশ করা হয়েছে, যাদের কপি রাইট কেউই সংরক্ষণ করে নি এবং তাঁরাও একটি সেন্টও পান নি. এই রকমই চলেছিল ততদিন পর্যন্ত যতদিন না সোভিয়েত দেশে ১৯৭৩ সালের পর বিদেশীদের প্রকাশিত রচনার কপি রাইট সংরক্ষণের দায়িত্ব নেওয়া হয়. এর আগে পর্যন্ত যা কিছুই প্রকাশিত হয়ে থাক না কেন, তা সমাজের সম্পত্তি বলে ঘোষণা করা হয়, অর্থাত্ জনপ্রিয় বিদেশী লেখক ও কবিদের রচনা সোভিয়েত প্রকাশনা বিনা স্বত্ত্ব প্রয়োগে ছাপাতে পেরেছিল.

    ১৯৯৫ সালে সোভিয়েত দেশের আইন সঙ্গত উত্তরাধিকারী সদস্য দেশ হিসাবে রাশিয়া বার্ন কনভেনশন, যা বিশ্বের প্রধান কপি রাইট সংরক্ষণ সংগঠন, তাতে যোগ দান করে, অবশ্য তা অনেক দেরী করে, যা ২০০৪ সালে হারিয়েও ফেলে. এই সময়ের মধ্যে রাশিয়ার প্রকাশনার বাজারে এক বিরোধ সৃষ্টি হয়. তার প্রসঙ্গে রাশিয়ার প্রকাশক ও লেখক আলেকজান্ডার শাতালভ বলেছেন:

    "রাশিয়ার প্রকাশকেরা, যারা কপি রাইট বিষয়ে এই বদলের সুযোগ নিয়েছিলেন. তারা খুব কম দামে কনভেনশনে যোগ দেওয়ার আগে প্রকাশিত বইয়ের স্বত্ত্ব কিনে নিয়েছিলেন, তারপর শুরু করেছে এগুলি বাকি বাজারের প্রকাশকদের কাছে দেখানো. যেমন "আ এস তে" নামে রাশিয়ার এক বিরাট প্রকাশনা কিছু পশ্চিমের লেখকদের কপি রাইট এই ভাবে কিনে রেখেছিল, তারপর প্রকাশনা সংস্থা "টেরা" কে তার জন্য ক্ষতিপূরণ দিতে বলেছে, কারণ "টেরা" এই সব লেখক দের বই প্রকাশ করেছে বলে. এই মামলার সমাধান থেকে বোঝা যাবে আমাদের দেশে বইয়ের ব্যবসা কেমন হবে এর পর".

    সবচেয়ে বেশী সমস্যা তৈরী হয়েছে ইন্টারনেটে কপি রাইট সংরক্ষণের বিষয় নিয়ে, অন্ততঃ তা মনে করেন রাশিয়ার জাতীয় কপি রাইট সংরক্ষণ ইনস্টিটিউটের রেক্টর ইভান ব্লিজনেত্স, তিনি বলেছেন:

    অবশ্যই ইন্টারনেট প্রকাশনায় যারা জড়িত, তারা মনে করেন যে কপি রাইট আইন তাদের জন্য খারাপ, কারণ তার ফলে ইন্টারনেটে সেই সব রচনা স্বাধীন ভাবে প্রকাশ করতে পারা যাচ্ছে না, যেগুলি তারা মনে করেন যে দরকার. বর্তমানে ইন্টারনেটে একমাত্র আইন সঙ্গত ব্যবস্থা না থাকায় গণ হারে কপি রাইট আইন ও স্বত্ত্ব লঙ্ঘিত হচ্ছে.

ভবিষ্যতের যারা কথা বলেন, তারা বলছেন ইন্টারনেটের জালের বিশ্বজোড়া প্রসারের ফলে আজকের দিনের ধারণা মতো কপি রাইট ব্যবস্থা ধ্বংস হয়ে যাবে. খুব অল্প কয়েক বছর পরেই যে কোন ধারণা, তা সে বই, সুর বা ছবি যাই হোক না কেন খুবই কম সময়ের মধ্যে বহু লক্ষের কাছে পৌঁছবে, কিন্তু আজও বিশ্বের সমাজ জানে না এই রকম অবস্থায় কি করে কপি রাইট ব্যবস্থা বজায় রাখা যাবে.