বিজয়ের ৬৫ বছর উপলক্ষে রাশিয়ার ইন্টারনেটে "বিজয়ের সৈন্যরা" http://soldvictory.ru/ নামে এক নতুন সাইট খোলা হচ্ছে. এটি একটি সামাজিক সাইট, যেখানে যারা এখানে ঢুকবেন, তারা ইচ্ছা করলে নিজেদের পাতা তৈরী করে, তাতে মহান পিতৃভূমি রক্ষার যুদ্ধের সময়ের ফোটো, দলিল, পরিচয় পত্র, নিজেদের আত্মীয়দের ইতিহাস এই সবই রাখতে পারবেন.

    "বিজয়ের সৈন্যরা" মোটেও ইন্টারনেটের প্রথম এই ধরনের সাইট নয়, যাতে সোভিয়েত সৈন্যদের বিজয়ের কাহিনী রয়েছে. কিন্তু অবশ্যই এই সাইটের নিজের গ্রাহক হবে, কারণ মহান পিতৃভূমি রক্ষার যুদ্ধ এই প্রাক্তন সোভিয়েত দেশের প্রায় সমস্ত পরিবারকেই ছুঁয়েছিল. এই প্রকল্পের উদ্যোক্তা রাশিয়ার সংস্কৃতি সংরক্ষণ দপ্তরের উপ প্রধান ভিক্তর পেত্রাকভ জানিয়েছেন যে, এই সাইটের মূল উদ্দেশ্য হল যুদ্ধের প্রান্তরে নিহত নাম না জানা সৈন্যদের স্মৃতি রক্ষা. ইন্টারনেটের সুবাদে এটা খুব সুবিধার হয়েছে, অন্ততঃ তাই মনে করেন রাশিয়ার ইতিহাস ইনস্টিটিউটের সিনিয়র সায়েন্টিফিক অ্যাসিস্ট্যান্ট এলেনা রুদায়া.

    "নিজেদের ইতিহাসের প্রতি যারা আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন নি, তাদের জন্যই যে কোন দেশ স্বাভাবিক ভাবে বেঁচে থাকতে পারে. আমাদের ইতিহাস যে, টুকরো টাকরা থেকে সংগ্রহ করে লিখতে হবে, তা আগেই বুঝতে পারা গিয়েছিল. আগে আমি যখন ছাত্রী ছিলাম, তখন যুদ্ধের ভেটেরানদের স্মৃতিকথা লিখে রেখেছিলাম, তারপর অনেক দিন কেটে গেছে, সেই সব লেখা কোথাও মহাফেজ খানায় ধুলো জমা করছে, পরে কখনো হয়ত সেগুলির পুনরুদ্ধার হবে, তার থেকে তথ্য বার করা হবে. আর এখন ইন্টারনেট থাকাতে এই কাজ করতে খুবই সুবিধা হবে".

    ঐতিহাসিক এলেনা রুদায়া মনে করেন যে তাঁর নিজের জন্য এই সাইট খুবই আগ্রহের কারণ সম্ভবতঃ এখানে তিনি তাঁর বাবার ইতিহাস লিখতে পারবেন, যিনি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ঠিক আগেই মস্কোর ট্যাঙ্ক বাহিনীর কলেজ শেষ করে পুরো সময় ধরেই যুদ্ধ করতে গিয়েছিলেন. এই সাইটের উদ্ভব হওয়ার গুরুত্ব সম্বন্ধে বলতে গিয়ে রুদায়া বলেছেন, মহান পিতৃভূমি রক্ষার যুদ্ধের স্মৃতি হল প্রতিটি রাশিয়ার পরিবারের ব্যক্তিগত স্মৃতি.

    রাশিয়ার ব্যবসায়ী ব্যবস্থা কর্পোরেশনের ইন্টারনেট প্রকল্প দপ্তরের প্রধান ইউরি মারেঙ্কো বলেছেন: "এই সাইট ব্যবহার করা সোজা, সাইটের মধ্য দিয়ে সহজে যেখানে চাওয়া যায়, সেখানেই যাওয়া যেতে পারে, কিন্তু সবচেয়ে বড় বিষয় হল এই সাইটের পিছনের উদ্দেশ্য. মোটেও মনে করা ঠিক হবে না যে, আমরা যারা যুদ্ধের পরবর্তী কালে বেঁচে আছি, তাদের জন্য পিতামহ, প্রপিতামহদের কোন দাম নেই, আমরা এতটা বিগড়ে যাই নি. আমার নিজের দাদু ১৯৪১ সালে মস্কো রক্ষার যুদ্ধে নিহত হয়েছিলেন, তাই আমার খুবই ইচ্ছা এই সাইটে নিজে রেজিস্টার করে দাদুর সম্বন্ধে তথ্য রাখব, কে জানে হয়ত দাদুর কোন সহযোদ্ধার খবর পাওয়া গেলেও যেতে পারে".

    ইউরি মারেঙ্কোর দাদু শুধু মহান পিতৃভূমি রক্ষার যুদ্ধেই যান নি, তিনি ফিনল্যান্ডের সঙ্গে যুদ্ধেও গিয়েছিলেন, তাই তিনি ফ্রন্টেও গিয়েছিলেন প্রথমে. কপালের দোষে ইউরির মা জন্মে ছিলেন ২২ শে জুন ১৯৪১, যখন প্রথম বোমা গুলি পড়েছিল সোভিয়েত দেশের উপরে. ইউরি বলেছেন তাঁর মা এই সাইটের খবরে খুবই আগ্রহ দেখিয়েছেন এবং নিশ্চয় তিনি এর উন্নতির জন্য কাজ করবেন.

    এই ধরনের সাইটের উদ্ভব দেখে আবারও বলা যেতে পারে যে, রাশিয়ার রাজনীতি মানুষকে এক জায়গায় করার জন্য মহান বিজয়ের প্রতীকের দিকেই ফিরে তাকিয়েছে. এর ফলে লোকের স্মৃতি ফেরানো সম্ভব হবে, আর যাঁরা মহান পিতৃভূমির যুদ্ধে গিয়েছিলেন, তাঁদের স্মৃতিও বিশেষজ্ঞ দের বিশ্বাস যে আগামী বহু বছর সংরক্ষিত থাকবে.