মস্কোতে এখন কিছু দিন রাশিয়ার উচ্চ প্রযুক্তি উত্পাদিত নতুন জিনিস গুলি এবং শুধু সেগুলিই নয়, আরও অনেক কিছু দেখতে পাওয়া যাচ্ছে. ২০০০ এর বেশী দ্রষ্টব্য বিভিন্ন দেশের কুশলী ও নির্মাতাদের কাছ থেকে এনে "একবিংশ শতকের উচ্চ প্রযুক্তি" নামের ফোরামে রাখা হয়েছে.

    এই ফোরামের মুখ্য আয়োজক আনাস্তাসিয়া নাসোসনিকোভা বলেছেন:

    "উদ্ভাবনী প্রযুক্তি নির্মাতারা এই নিয়ে ১১ তম বার মস্কোতে জড় হয়েছেন, এটা বেশ বড় ফোরাম, যেখানে শুধুমাত্র উচ্চ প্রযুক্তিই নয় বরং বহু বিজ্ঞান সমন্বিত উদ্ভাবনী প্রকল্পও দেখানো হচ্ছে. এই সবই রাশিয়ার জাতীয় ও আঞ্চলিক মুখ্য প্রকল্পের সমস্যা সমাধানের জন্য ব্যবহার যোগ্য করার লক্ষ্যে তৈরী".

    মস্কো ফোরামে প্রদর্শনী করা প্রযুক্তি একটা ধারণা দিতে পারে যে, আগামী কালের মানুষের জীবন কি রকম হবে. বিশ্ব সঙ্কটের অর্থনৈতিক সমস্যার কথা উপেক্ষা করে, দেখা গেল যে, নতুন প্রযুক্তি ঠিকই এগিয়ে যাচ্ছে. উদ্ভাবকেরা যে কোন সময়েই তাঁদের কাজ করে যাচ্ছেন, আর যারা এই ফোরামের আয়োজক তাঁরাও তৈরী আছেন স্বীকৃতী দিতে, এই প্রসঙ্গে এই প্রকল্পের এক অন্যতম আয়োজক গালিনা লেঝাভা বলেছেন:

    "এই ফোরামের মধ্যেই খুব বড় প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে সমস্ত কারখানা তাদের দ্রষ্টব্যের স্থান দিয়েছে, আর বিশেষজ্ঞ দলের লোকেরা শুধু মাত্র সেই গুলিকেই উল্লেখ করেছেন, যেগুলির প্রতি আগ্রহ হয়েছে সবার থেকে বেশী. সেগুলিই এই ফোরামের তরফ থেকে পুরস্কৃত হয়েছে, তাদের পবিত্র জর্জের মূর্তি ও "একবিংশ শতকের উচ্চ প্রযুক্তি" মেডেল দেওয়া হয়েছে".

    মোটামুটি নিয়ম মত প্রায় ২০০ থেকে ৩০০ নতুন প্রযুক্তি প্রতিযোগিতার জন্য বিচার্য হয়েছিল, কিন্তু ফাইনালে পৌঁছতে পেরেছে শুধু সেই সব গুলিই, যা এর মধ্যেই সকলের ব্যবহারের জন্য তৈরী আছে. এই বছরে বিশেষজ্ঞরা ৭৬ টি কাজ কে পুরস্কারের জন্য উল্লেখ করবেন বলে ঠিক করেছেন. গালিনা লেঝাভা বলেছেন:

    "যেহেতু এই ফোরামে বিভিন্ন ধরনের শিল্পের উপযুক্ত প্রযুক্তি দেখানো হয়েছে, তাই পুরস্কারও বিভিন্ন দিকের জন্য দেওয়া হয়েছে. যেমন, রাশিয়ার গের্তসেন ক্যানসার ইনস্টিটিউটকে তাঁদের কাজের জন্য সোনার মূর্তি দেওয়া হচ্ছে, কারণ তাঁরা অস্টিওপ্লাস্টির জন্য ন্যানোস্ট্রাকচারড পদার্থ তৈরী করেছে, এই পদার্থ ক্যানসারের রোগী দের অস্ত্রোপচারের পরে খুবই কাজে লাগে, তাঁদের যে কোন বাদ দেওয়া প্রত্যঙ্গের পুনর্নির্মাণে দেশে তৈরী পদার্থ দিয়েই অস্টিওপ্লাস্টি করা যায়".

    প্রসঙ্গতঃ যারা খুব একটা ন্যানো টেকনলজি সম্বন্ধে ওয়াকিবহাল নন, তাদের জন্য চলমান এক ল্যাবরেটরীতে ন্যানো ট্র্যাকার রাখা হয়েছে, এই ল্যাবরেটরী স্কুলে পড়ুয়াদের জন্য তৈরী করা হয়েছিল, যাতে তারা হাতে কলমে পরীক্ষা করে দেখতে পারে. কিন্তু আজকের এই ফোরামের সব চেয়ে বেশী সুফল শুধু জ্ঞানের বিস্তার করাই নয়.

    যদিও প্রায় কয়েক হাজার কাজের মধ্যে থেকে মাত্র কয়েকটি বাছা হয়ে থাকে এবং তাদের মধ্যেও খুব কমই কাজে লাগে, তবুও এই ফোরামে শুধু দেখানোই হয়না, বরং দেখাও যায় কোন দিকে বিজ্ঞানের প্রসার হচ্ছে এবং আজকের দিনে কি জিনিসের প্রয়োজন রয়েছে. (sound)