বলশেভিক পার্টির স্রষ্টা ও সোভিয়েত দেশের স্থাপক ভ্লাদিমির লেনিনের ২২শে এপ্রিল ১৪০ বছরের জন্ম জয়ন্তী পালিত হচ্ছে.

    ঐতিহ্য মেনে দেশের রাজধানীর রেড স্কোয়ারে সকাল বেলা ভ্লাদিমির লেনিনের মুসোলিয়ামে পুষ্প তবক অর্পণ করে রাশিয়ার কমিউনিস্ট পার্টির লোকেরা এই দিনটির শুরু করেন. বর্তমানে কমিউনিস্ট নেতাদের চির শয়নের জায়গা এশিয়াতে রয়েছে: চীনে, পিয়ং ইয়ং ও হ্যানয় শহরে. মস্কো – ইউরোপের একমাত্র শহর যেখানে এই ধরনের দেহ সংরক্ষিত রয়েছে.

    লেনিনের মৃত্যুর পর ১৯২৪ সালে তাঁর দেহ সোভিয়েত বিজ্ঞানী ভরোবিয়ভ ও জ্বারস্কির পদ্ধতিতে বালসাম – মলম লাগিয়ে সংরক্ষণ করা হয়েছিল. সেই বছরেই মস্কোর রেড স্কোয়ারে দ্রষ্টব্য স্থান হিসাবে মুসোলিয়াম তৈরী করা হয়েছিল, যা একই সঙ্গে সমাধি স্থল ও মঞ্চের কাজ করত. এই মুসোলিয়ামের উপরে একটি বারান্দায় দাঁড়িয়ে সোভিয়েত নেতারা আনুষ্ঠানিক প্যারেড পরিদর্শন করতেন.

    ১৯৮৫ – ১৯৯১ সালের সোভিয়েত দেশে পেরেস্ত্রোইকা শুরু হওয়ার প্রথম দিনগুলি থেকেই চালু হয়ে গিয়েছিল তর্ক বিতর্কের যে, লেনিনের মরদেহ মুসোলিয়ামে রাখার আর কোন দরকার আছে কি না. কিছু রাশিয়ার রাজনৈতিক নেতা ও সামাজিক দল পতিরা জোর দিয়েছিলেন যে, অর্থোডক্স মতে বলশেভিক পার্টির নেতারও কবর দেওয়া উচিত. এই মত সোভিয়েত দেশের প্রথম ও শেষ রাষ্ট্রপতি মিখাইল গরবাচভ রাখতেন. তাঁর অবস্থান রাশিয়ার কমিউনিস্ট দের ক্রোধের কারণ হয়েছিল, যারা মনে করতেন যে, লেনিনের ধারণা ও তার উদাহরণ ভবিষ্যত কালেও মানুষের ভাল জীবনের দিকে যাওয়ার পথের দিশারী হবে.

    রেডিও রাশিয়া চেষ্টা করেছে বার করতে যে, এই গণতান্ত্রিক পরিবর্তনের বছর গুলি পার হয়ে এসে এখন রাশিয়ার সমাজের মত পাল্টে গেছে কিনা.

    রাশিয়ার মানবাধিকার রক্ষা কর্মী ইয়ান রাচিনস্কি, যিনি আন্তর্জাতিক সংগঠন মেমোরিয়াল এর রাশিয়া বিভাগের প্রধান, তিনি মনে করেন যে, লেনিনের মরদেহ কবর দেওয়া অবশ্যই দরকার. তিনি বলেছেন:

    "অর্থোডক্স ধারণা ও রীতি লেনিনের সঙ্গে কোন সম্পর্কই রাখে না, যে শুধুমাত্র ভগবানে অবিশ্বাসই করত না, এমন কি ধর্মের বিরুদ্ধে যারা গিয়েছিল, তাদের মধ্যে অন্যতম লোক ছিল. আমি মনে করি ওকে সাধারন লোকের মতই কবর দেওয়া দরকার, যেমন আমাদের দেশে বেশীর ভাগ লোককেই কবর দেওয়া হয়ে থাকে".

    রাশিয়ার একজন ঐতিহাসিক আলেকজান্ডার দ্যুকভ অন্য রকম মত পোষণ করেন, তিনি বলেছেন: "লেনিন কে মুসোলিয়ামে রাখাই ঠিক হবে, তাঁর সম্বন্ধে বর্তমানে যে রকম ধারণা করাই হোক না কেন, আমাদের বোঝা দরকার যে আমাদের অতীত, যে রকমই স্ববিরোধী হোক না কেন, আসলে তাতে কোন কিছুই বাদ দেওয়া যায় না. সেখানে রাশিয়ার সাম্রাজ্য, সোভিয়েত দেশ, বর্তমানের রাশিয়া সবই আছে, আমি মনে করি এই ঘটনা শৃঙ্খল ছেদ করতে দেওয়া যায় না. আর আমি মনে করি কোন রকমের শর্ত ছাড়াই লেনিনের তার জায়গাতেই থাকা দরকার. ঠিক একই কারণে সোভিয়েত দেশের সময়ে তৈরী হওয়া কারখানা, রাস্তা তাদের তৈরীর সময়ে যে নাম দেওয়া হয়েছিল, সেই নামেই রাখা দরকার. এটা আমাদের অতীতের প্রতি সাধারন সম্মান বোধের পরিচয় মাত্র".

    বর্তমানের সামাজিক বিজ্ঞানের নিরিখে পর্যবেক্ষণের ফলে এই ১৪০ বছরের জন্ম জয়ন্তীর আগে দেখা গিয়েছে যে, দেশের একাংশ লোক ভাবে কিছু বছর পরে শুধু ঐতিহাসিকরাই বিশ্বের প্রলেতারিয়েত নেতার কথা মনে রাখবেন. মুসোলিয়ামের কপালে এই সব সামাজিক তর্ক বিতর্কে কোন ভাঁজই পড়ে নি, লাল গ্রানাইটের পাথরে তৈরী বাড়ীর ভিতরে স্ফটিকের কবরের ভিতরে চির শয়নে রয়েছে ভ্লাদিমির ইলিচ উলিয়ানভের বালসাম – মলমে রক্ষিত মরদেহ, যাকে লোকে লেনিন বলে জানত. ১৯৯১ সাল থেকে এই মুসোলিয়ামের রক্ষণাবেক্ষণের জন্য খরচ করা হয়ে থাকে দেশের বাজেটের বাইরের ফান্ড থেকে.