রাশিয়া জলদস্যূ দের বিরুদ্ধে আদালতে লড়াই করতে আহ্বান করছে. রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ বর্তমানে রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি দিমিত্রি মেদভেদেভের প্রস্তাবিত এক সিদ্ধান্তের খসড়া নিয়ে আলোচনা করছে, যার ফলে জলদস্যূ দের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক বিশেষ আদালতে মামলা করা সম্ভব হয়.

    রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ আজ দেড় বছর হল সোমালির তীর অঞ্চলে জলদস্যূ সমস্যার বিরুদ্ধে কাজ করছে. কিন্তু প্রায় প্রতিদিনই কোন না কোন জাহাজ জবর দখলের খবর আসছে. আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক ব্যুরো ২০০৯ সালে ২১৭ টি জলদস্যূ হামলার খবর জানিয়েছে, আর জলদস্যূরা এখন আফ্রিকার তীর থেকে বহু দূরে চলে এসেছে, তারা মাল দ্বীপে ও ভারতের মধ্যের দ্বীপপূঞ্জের কাছে পৌঁছে গেছে. কয়েক দিন আগে সোমালির জলদস্যূরা তিনটি মাছ ধরার ট্রলার দখল করে ফেলেছে…

    জলদস্যূ দের দুষ্কর্ম অনেক দূর এগিয়েছে. তারা বর্তমানে এমনকি খাদ্য দ্রব্য পরিবহনের ব্যবস্থায় প্রভাব ফেলেছে, আর তা রাষ্ট্রসংঘের উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে. কিন্তু বর্তমানের হার্মাদ দের সঙ্গে কি করে লড়াই করা যায়? ইউরোপের দেশ গুলির, রাশিয়ার, ন্যাটোর জাহাজ গুলি এই অঞ্চলে পাহারা দিতে শুরু করায় অবশ্যই তাদের প্রবৃত্তি কিছুটা ঠাণ্ডা হয়েছে, দখল খানিকটা কমেছে, তবুও সামরিক জাহাজ তো আর সারা সমুদ্র পাহারা দিতে পারে না, আর বাণিজ্য তরণীকে সামরিক অস্ত্র দেওয়ার বিরুদ্ধে গাগ শহরের আন্তর্জাতিক কনভেনশনের নিয়ম এখনও বহাল রয়েছে, তাহলে কি প্রাচীন রোমের পথ ধরে জলদস্যূদের মাথা কাটাই ঠিক হবে?

    রাশিয়া মনে করে যে, এই বিষয়ে একটি সমস্যার কারণ হল জলদস্যূদের ফরিয়াদী আইনের আওতায় এনে মামলা করার জন্য সঠিক আইন ব্যবস্থা না থাকা. এখনও বহু দেশে কোন আইনই নেই জলদস্যূ কে অপরাধী বলে চিহ্নিত করার মতো, তাই সোমালির উপকূলে ধরা পড়া বহু জলদস্যূ শাস্তি পাচ্ছে না.

    এপ্রিল মাসের শুরুতে রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে রাশিয়া জলদস্যূ দের মোকাবিলা করার জন্য নতুন এক প্রস্তাব এনেছে. সেখানে প্রস্তাব করা হয়েছে জলদস্যূ মোকাবিলায় বিশেষ আদালতের বন্দোবস্ত করতে, যা জলদস্যূ দের আর শাস্তি এড়িয়ে যেতে দেবে না. এই প্রসঙ্গে রাষ্ট্রসংঘের আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক ট্রিব্যুনালের বিচারপতি এবং আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক আইন সভার প্রেসিডেন্ট আনাতোলি কলোদকিন বলেছেন:

    "আমরা তিনটি সম্ভাব্য উপায় নিয়ে কথা বলছি, প্রথমটি হল – জলদস্যূ মোকাবিলার জন্য বিশেষ আন্তর্জাতিক বিচার সভা তৈরী করা, দ্বিতীয়টি হল – আফ্রিকার শৃঙ্গ অঞ্চলে আঞ্চলিক আদালত গঠন এবং তৃতীয় উপায় হল প্রতিটি আলাদা জলদস্যূ বিষয়ক মামলার জন্য আলাদা করে বিচার করার ব্যবস্থা বা অ্যাড হক ব্যবস্থা. তা কোন দেশের জাতীয় আদালতের মধ্যেই হতে পারে, যেমন, কেনিয়ার আদালত, যেখানে ইংরেজ আইন পদ্ধতিতে বিচার করা হয়ে থাকে, বিচার ব্যবস্থা উন্নত আর সেখানে রাষ্ট্রসংঘের কয়েকটি সংস্থাও রয়েছে".

    আনাতোলি কলোদকিন বলেছেন যে, রাশিয়ার এই প্রস্তাবে উন্নত দেশ গুলি সায় দিয়েছে, আর ব্যাখ্যা করেছেন যে, এখন রাষ্ট্রসংঘের মহাসচিব এই প্রস্তাবটি বিবেচনা করবেন এবং সবচেয়ে সম্ভাবনাময় আইন ব্যবস্থা সংক্রান্ত উপায়টি নিরাপত্তা পরিষদের সবার কাছে প্রস্তাব হিসেবে গ্রহণের জন্য আনবেন. তিন মাস পরে কোন একটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে এবং বিশেষজ্ঞ আশা প্রকাশ করেছেন যে, জলদস্যূ বিরোধী আদালত তৈরী করা হবে.