রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি দিমিত্রি মেদভেদেভ দেশের সামরিক বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন রাশিয়ার নাগরিকদের কিরগিজিয়াতে নিরাপত্তার ব্যবস্থা করতে ও সেখানে রাশিয়ার সম্পত্তি রক্ষার দায়িত্ব নিতে, কারণ সেখানে বর্তমানে জোর করে দখল করার লড়াই শুরু হয়েছে.

    রাশিয়ার জাতীয় সভার প্রতিনিধিরা একই ধরনের দাবী নিয়ে কিন্তু কিরগিজিয়ার প্রশাসনের কাছে গিয়েছেন. তাঁরা এই প্রজাতন্ত্রে বর্তমানের পরিস্থিতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন যে, গণ আইন অমান্য করার তরঙ্গে সেখানের রুশী ভাষায় কথা বলা লোকেরা ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন. অংশতঃ তাঁদের অনেকেই লুঠেরাদের শিকার হয়েছেন. লুম্পেন কিরগিজিয়ার লোকেদের নির্লজ্জ দল, যাদেরকে বিরোধীরা আগের সরকারের গদি উল্টে দেওয়ার জন্য ডেকে এনেছিল রাজধানীতে, তারা সরকার উল্টে যাওয়ার পর রাজনৈতিক ফায়দার কথা না ভেবে বেশ কয়েক হাজার লোক লাঠি সোটা রড এই সব নিয়ে রাস্তায় যাকেই পাচ্ছে তাদেরই হয়রানি করছে, মারধর করে সব কেড়ে নিচ্ছে. দোকান, বাজার, গাড়ী, ঘোড়া কিছুই তাদের হাত থেকে রেহাই পাচ্ছে না. বিশকেক শহরে উপকন্ঠে জমির দখল নিয়েও লড়াই বেঁধেছে. আর যেহেতু এই সব অঞ্চলে প্রচুর রুশী ভাষায় কথা বলা লোক রয়েছে, তাদের জন্যই বেশী করে সমস্যা হয়েছে.

    কিরগিজিয়াতে অবশ্য রুশ আতঙ্ক আছে তা বলা যায় না, দেশের এই সব বেহাল পরিস্থিতি রাশিয়ার বিরুদ্ধে বা কোন প্রজাতির বিরুদ্ধে তা বলা যায় না. তাদেরই লুঠ করা হচ্ছে, যারা ভাল রোজগার করেছে আগে, আর সবচেয়ে কম নিরাপদ. আর ঐতিহাসিক ভাবে তারা হলেন যারা জাতিতে কিরগিজ নন. ফলদায়ক রাজনীতি ফান্ডের জেনেরাল ডিরেক্টর কিরিল তানায়েভ বলেছেন:

    "কিরগিজিয়া – এটা এমন একটা দেশ, যেখানে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে বেশী করে অন্য জাতির লোকেরা রয়েছে. স্বাধীনতা পাওয়ার পরে দেশের প্রধান প্রজাতির লোকেরা বেশী করে সরকারি পদ দখলের জন্যই চেষ্টা করেছে, আর অন্য সব স্লাভনিক প্রজাতির লোকেরা এখানে কোন রকমে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের অর্জনেই জীবিকা নির্বাহ করেছেন. আর বলা যেতে পারে, বিশকেক শহরে বেশীর ভাগ দোকানই হয় রাশিয়ার লোকেদের নয়ত যারা রুশী ভাষায় কথা বলে তাদের. তাই, যখন এক দঙ্গল লোক তাদের পথে সব কিছু ভাঙতে ও লুঠ করতে চলে. তখন স্বাভাবিক ভাবেই দেখা যায়, বেশীর ভাগ লুঠ হওয়া জায়গাই রুশীদের".

    কিন্তু যদিও হিংস্র লুঠেরা লোকেরা আলাদা করে রুশীদের বিরুদ্ধে কিছু নাও বলে, তবুও তাদের তা থেকে কোন লাভ নেই. নিজেরা নিজেদের ও সম্পত্তি বাঁচাবার চেষ্টা করতে গিয়ে নিগৃহিত হচ্ছে, কয়েকজন গুরুতর ভাবে আহতও হয়েছে. খবর আছে যে দুই জন নাকি মারাও গিয়েছেন, কিন্তু এই খবরের সমর্থন মেলে নি. বোঝাও যাচ্ছে না যে তাঁরা রুশী কি না. অবশ্যই দেশের সমস্ত লোক এবং যাঁরা কিরগিজ নন তাঁদেরও দায়িত্ব নেওয়ার কথা প্রশাসনের, কিন্তু আপাততঃ প্রশাসন পরিস্থিতিকে নিজের আয়ত্বে আনতে পারে নি.

    কিরগিজিয়ার অস্থায়ী সরকারের প্রধান রোজা ওতুনবায়েভা রুশ ভাষী লোকেদের সুরক্ষার আবেদনের উত্তরে বলেছেন একটি সহ্য করতে, এর আগেও এখানে লুঠ, দখল হয়েছে, কিন্তু সময়ের সঙ্গে প্রশাসন এর নিয়ন্ত্রণ করতে সমর্থ হয়েছে. এই বারেও বেআইনি সময়ের মেয়াদ শেষ আর এবারে বিশেষত লুঠেরাদের শক্ত শাসন করা হচ্ছে. এই কথার সমর্থনে রোজা ওতুনবায়েভা দেশের আইন সংরক্ষণে রত বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন যে, লুঠেরাদের, যারা দেশের নাগরিকদের বা তাদের সম্পত্তির উপর জোর করবে, তাদের গুলি করতে.

<sound>