৬৫ বছর আগে ৩০ শে এপ্রিল থেকে ১ লা মের ভোর রাতে বিজিত রেইখস্ট্যাগের চূড়ায় সোভিয়েত দেশের ফ্যাসিস্ট জার্মানীর উপর বিজয়ের লাল পতাকা রোপন করা হয়েছিল. এই ঘটনার আগে বার্লিনের জন্য এক ভয়ঙ্কর রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ হয়েছিল. দুই পক্ষ থেকেই এই যুদ্ধের জন্য অংশ নিয়েছিল প্রায় ৩৫ লক্ষ লোক. আজ এই যুদ্ধের ভেটেরানেরা স্মরণ করেছেন কেমন ছিল সেই দিন গুলি…

    ১৬ই এপ্রিল ভোর রাতে যুদ্ধের শুরু ঠিক করা হয়েছিল. শত্রুকে আচমকা আক্রমণের জন্য মার্শাল জুকভ এক খুবই চতুর পরিকল্পনা করেছিলেন, অন্ধকারে জার্মানদের হঠাত্ জোরালো প্রোজেক্টরের আলো দিয়ে বিহ্বল করে দিয়ে তাদের উপর চড়াও হতে. বার্লিন আক্রমণের এক অংশগ্রহণকারী গোয়েন্দা ইউরি কলোময়িত্স স্মরণ করে বলেছেন:

    "সবচেয়ে বড় স্মরণীয় ঘটনা হল, যখন আমরা জেলভ চড়াই দখল করার যুদ্ধে গিয়েছিলাম, তখনকার ঘটনা. যেমন সিনেমাতে দেখানো হয়েছে ঠিক তেমনই ভাবে ভাবে শুরু হওয়া কামানের গোলা বর্ষণের ৩০ মিনিট পরে, মূল আক্রমণের দিকে রাতের আকাশকে আলোময় করে তুলেছিল ১৪০ টি প্রোজেক্টরের আলো, যেগুলি প্রতি ২০০ মিটার তফাতে বসানো হয়েছিল. প্রতিদ্বন্দ্বী আলোর ঝলকানিতে অন্ধ হয়ে গিয়েছিল. এই আলোই ছিল পদাতিক বাহিনীর আক্রমণের সঙ্কেত. ফ্রন্টের প্রথম সারি থেকে হুররে বলে গর্জন করে বিশাল ট্যাঙ্ক বাহিনী সহ পদাতিক বাহিনী ঝাঁপিয়ে পড়েছিল শত্রুর উপর. সোভিয়েত বাহিনীর আক্রমণে কেঁপে উঠেছিল শত্রু. এই আক্রমণ সারা দিন রাত ধরে চলেছিল, দ্বিতীয় প্রতিরক্ষা বলয়ে যা ওডার নদীর উপত্যকায় জেলভ হাইটস এর উপর তৈরী করা হয়েছিল, সেখানে এক কঠিনতম যুদ্ধ হয়েছিল. সেখানে এক কঠিনতম যুদ্ধ হয়েছিল. খুব ভয়ঙ্কর যুদ্ধ হয়েছিল, আমরা এক দিনে চার কিলোমিটার মত এগোতে পেরেছিলাম, তারপর দাঁড়িয়ে পড়তে বাধ্য হয়েছিলাম. সুতরাং প্রতিরক্ষা বলয় খুব তাড়াতাড়ি ভাঙ্গা সম্ভব গয় নি, কিন্তু তারপর অবশ্যই আবার এগোতে পেরেছিলাম".

    ফ্রন্টে অংশ নেওয়া যোদ্ধার কথায় তাঁর কপাল ভাল যে বেঁচে ফিরতে পেরেছিলেন, সেই রকম মাংস কাটার লড়াইতে বেঁচে ফেরা অভাবনীয় ছিল. "মনে হয়েছিল ফ্যাসিস্ট বাহিনীর এগিয়ে আসা ইঁদুরের গায়ের রংয়ের ওভার কোট দিয়ে তৈরী ধূসর প্রাচীর কোন ভাবেই বুঝি থামানো যাবে না. কারও জন্যই এটা গোপনীয় কথা নয় যে, জার্মান বাহিনী খুবই ভাল প্রশিক্ষণ পেয়েছিল, কিন্তু আমাদের চেতনায় কাজ করেছিল শেষ অবধি একটিই কথা – শুধুমাত্র সামনে এগোতে হবে, শুধুমাত্র জয় পেতে হবে. তার জন্য যে কোন দাম দিতে হবে, এমনকি নিজের জীবন দিতে হলেও তা করতে হবেই. যদিও খুব ভয় করেছিল, খুব ভয়".

    "যখন কেউ বলে যে, যুদ্ধে গিয়ে তার অভ্যাস হয়ে গেছে, তার ভয় করে না – তখন তাকে বিশ্বাস করা যায় না". ভেটেরান বলেছেন, "খুবই ভয় করে, আমি নিজের কথা বলতে পারি, বলতে পারি আমার সহ যোদ্ধাদের কথা. একটা কোন যুদ্ধের কাজ শেষ করে মাটির উপর দিয়ে কোন রকমে হামাগুড়ি দিয়ে ধর ফিরছ, আর মনে হচ্ছে এক্ষুণি কেউ তোমার কলার ধরে আটকাবে… কিন্তু যখন যুদ্ধ আবার শুরু হচ্ছে, ভয় কোথায় পালিয়ে যায়. মাথায় শুধু একটাই চিন্তা – যুদ্ধের কাজ ঠিক শেষ করতে হবে, সামনে এগিয়ে যেতেই হবে আর গুলি করতেই হবে"!

    সেই যুদ্ধের শেষ ছিল খুবই কঠিন, জার্মানরা লড়েছিল মরনোন্মুখ নিরাশা নিয়ে, তাদের আর পিছিয়ে যাওয়ার কোন জায়গা ছিল না. বার্লিনের যুদ্ধ ছিল সবচেয়ে চাপের আর নৃশংস. জার্মান সামরিক নেতৃত্ব যে কোন দামের বিনিময়ে বার্লিনকে ধরে রাখতে চেয়েছিল, কারণ বার্লিনের পতন মানে হল ফ্যাসিস্ট প্রশাসনের পতন. কিন্তু এই যুদ্ধের শেষ ফল আগেই জানা ছিল.

    আজ ৮৪ বছর বয়সে ভেটেরান আশা করেন – দেশের সবচেয়ে বড় উত্সব – ৯ই মে বিজয় দিবসের দিন তিনি তাঁর একই বাহিনীতে লড়াই করা যোদ্ধা বন্ধুদের সাথে কাটাবেন. ইউরি কলোময়িত্স যখন লড়াই করতে গিয়েছিলেন, তখন তাঁর বয়স ছিল খুব কম – মাত্র ১৭, তিনি বলেছেন যে, তাঁর ডিভিশনে তিনি ছিলেন সবার চেয়ে কম বয়সী. আর তার সঙ্গে দুঃখের সঙ্গে যোগ করেন যে, আজ কয়েক বছর হল তাঁর ডিভিশনের কেউই বিজয় দিবসে দেখা করতে আর আসে না.