ইরাকের গোয়েন্দা দপ্তর আমেরিকার বিশেষ বাহিনীর সাহায্য নিয়ে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদী দল আল কায়দার ইরাকের দুই পাণ্ডাকে ধ্বংস করেছে. এই খবর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উপ রাষ্ট্রপতি জো বাইডেন এক বিশেষ সাংবাদিক সম্মেলন ডেকে তাতে সমর্থন করেছেন.

    আবু ওমার আল বাগদাদী এবং আবু আয়ুবা আল মাসরি কে তিকরিত শহরের কাছে ধাওয়া করে আকাশ থেকে নিয়ন্ত্রিত রকেট দিয়ে মারা হয়েছে. কবে এই অপারেশন করা হয়েছে, তা জানানো হয় নি, তবে এবারে সন্ত্রাসবাদী দলের নেতাদের হত্যার খবর ঘোষণা করার আগে তাদের ডি এন এ বিশ্লেষণ করে আমেরিকার বিশেষজ্ঞরা একমত হয়েছেন যে এরা তারাই. কারণ এর আগে বেশ কয়েকবার ইরাকের সরকার ঘোষণা করেছিল, নেতাদের ধ্বংস করার খবর, কিন্তু পরে প্রায়ই এই খবরের সমর্থন মেলে নি. বর্তমানে কোন সন্দেহ আর নেই – ইরাকের আল কায়দা দলের নেতা আল মাসরি এবং নিজেকে ইরাকের ঐসলামিক সরকারের মাথা বলে ঘোষণা কারী ও আল কায়দা দলের ঘনিষ্ঠ আল বাগদাদী নিহত হয়েছে ইরাক ও আমেরিকার বিশেষ বাহিনীর সম্মিলিত অপারেশনে.

    ইরাকের প্রশাসন ও তার সঙ্গে সুর মিলিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসনের প্রতিনিধিরা এই অপারেশনের খুবই উচ্চ মূল্যায়ণ করেছেন. তাঁদের মতে এই সন্ত্রাসবাদীদের ধ্বংস হওয়া যোদ্ধাদের সক্রিয়তা বৃদ্ধির পর থেকে এখন পর্যন্ত সময়ের মধ্যে আল কায়দার উপরে এক বড় আঘাত হয়েছে. এই ধরনের আত্ম প্রসাদের মানে বোঝা যায়, রাশিয়ার বিজ্ঞান একাডেমীর পূর্ব অনুসন্ধান ইনস্টিটিউটের উপ প্রধান ভিয়াচেস্লাভ বেলোক্রিনিতস্কি বলেছেন:

    "সম্ভবতঃ ওসামা বেন লাদেন ও তার সাঙ্গ পাঙ্গরা আফগান পাকিস্থান সীমান্তের কাছে পাহাড়ে কোথাও লুকিয়ে আছে, কিন্তু সবচেয়ে সক্রিয় কাজ তারা এখন ইরাকেই করছে, পাকিস্থান বা আফগানিস্থানে নয়, কারণ তারা চায় না যে, মার্কিন সৈন্যবাহিনী, যা এখন ইরাক থেকে সরিয়ে আফগানিস্থানে পাঠানো হচ্ছে তা খুব তাড়াতাড়ি হোক, আর জোট সহ আমেরিকার যে পরিকল্পনা ইরাক নিয়ে আছে, তা যেন বাস্তবায়িত না হতে পারে. তাই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এই সন্ত্রাসবাদী ধ্বংস করার ঘটনাকে এত গুরুত্ব দিয়েছে. আর যদি এই বিশেষ অপারেশনের ফলে সত্যই ইরাকের আল কায়দার বাস্তবিক নেতারা মরে থাকে, তাহলে তা অবশ্যই এক বড় মানে রাখে".

    এখন ইরাকে রক্তাক্ত সন্ত্রাসবাদী হানা কম হওয়ার আশা করা হয়েছে, যা শুধু এই গত মাসেই তিনশরও বেশী নিরপরাধ লোকের মৃত্যুর কারণ হয়েছে. প্রসঙ্গতঃ কিছু বিশেষজ্ঞ নিজেদের মূল্যায়ণে সতর্ক রয়েছেন. কারণ ২০০৬ সালে এই রকম ইরাকের আল কায়দার মাথা বলে পরিচিত আবু মুসাবী আজ-জারকাউই নিহত হওয়ার পর তখনকার মার্কিন রাষ্ট্রপতি জর্জ বুশ জুনিয়র বলেছিলেন যে, সন্ত্রাসবাদীদের পাঁজর ভেঙে দেওয়া হয়েছে. কিন্তু তার জায়গা নিয়ে আল মাসরি ইরাকের রাজধানীতে আরও বড় ধরনের সন্ত্রাস করা চালু করেছিল. এই বারে সন্ত্রাসবাদীরা কতটা দুর্বল হল তা সময়ই বলে দেবে.