আইসল্যান্ডের থেকে হাওয়ায় বয়ে আসা আগ্নেয় গিরির ছাই ইউরোপের উপর ছেয়ে রয়েছে, তাই ২০ থেকে ২৫ শে এপ্রিল রাশিয়ার সাহিত্যিকেরা গ্রেট ব্রিটেনে রাশিয়ার সাহিত্য উত্সবে যোগ দিতে যেতে পারছেন না. তাই দুঃখের বিষয় হল, এই বছরে পাঠকদের সাথে তাদের সাক্ষাত্কার ও আলোচনা বিতর্ক হতে পারছে না. কিন্তু "রেডিও রাশিয়া" ঠিক করেছে পাঠকদের, যারা রাশিয়ার সাহিত্য নিয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেন, তাদের জন্য নিজের ইথার তরঙ্গে সেই সব লেখকদের যাঁরা এই উত্সবে আমন্ত্রিত ছিলেন, তাঁদের কিছু কথা বলার সুযোগ করে দিতে, অবশ্যই তাঁরা খুবই দুঃখিত, কারণ এবারে আর উত্সবে যোগ দেওয়া হল না.

লন্ডন বই মেলার অংশ হিসাবে এই উত্সবের সূচনা করা হয়েছিল আজ থেকে তিন বছর আগে, যখন ব্রিটেনের রাজধানীতে বিখ্যাত রাশিয়ার সাহিত্যিক দের আমন্ত্রণ করা হয়েছিল, সেই সময়ে লেখক ও পাঠকদের সাক্ষাত্কারে এত উত্সাহ দেখা গিয়েছিল যে, আয়োজকেরা এর একটা আনুষ্ঠানিক নামকরণ করেছিলেন – স্লোভা – কথা যা কাজ করে! এই ছরে যদিও প্রাকৃতিক বিপর্যয় এই ফোরামের পরিকল্পনাতে পরিবর্তন এনেছে, তবুও তা হবেই. পুরো না হলেও তা হবেই – জানিয়েছেন ওলগা স্লাভনিকভা, যিনি যুব সাহিত্যিকদের দল নেত্রী হয়ে লন্ডন যাচ্ছিলেন. তিনি বলেছেন, গ্রেট ব্রিটেনে বিমান চলাচল ব্যবস্থা বন্ধ হওয়ার আগে পর্যন্ত যে সমস্ত প্রকাশকেরা পৌঁছে গিয়েছেন, তাঁরা তাঁদের বই পত্র প্রদর্শনীতে দিয়েছেন. দুঃখের কথা হল এই সব বইয়ের কিছু মস্কোতেই রয়ে গিয়েছে. তিনি বলেছেন:

যে মুহূর্তে বিমান চলাচল ব্যবস্থা স্বাভাবিক হবে, আমরা এই সব বইয়ের কয়েক শ করে সংখ্যা যা আমরা এই প্রদর্শনীর জন্য তৈরী করেছিলাম, তা পাঠিয়ে দেবো, আর তা অবশ্যই লন্ডন পৌঁছবে. এর মধ্যে "রাশিয়ার ভাষায় বৃত্তের বর্গ ফল" নামে রচনা সমগ্র যা ইংরাজীতে অনুদিত. এই রচনা সমগ্র তে লেখা বাছাই করার সময়ে যে বাধ্য বাধকতা রাখা হয়েছিল, তা হল, লেখার মধ্যে কিছু তথ্য থাকতে হবে, যা বিদেশীদের কাছে আগ্রহের হবে, কিছু কথা থাকবে আমাদের প্রাত্যহিক জীবন নিয়ে, যুব সমাজের বুদ্ধি বিবেচনা নিয়ে, দেশ কাল পাত্রের বিশিষ্ট বাস্তব নিয়ে.

প্রাচীন দাগেস্তানের শহর দেরবেন্তের পাথরের স্তুপ, শহরের রূপকথা ও সংকেত প্রবচন, সমুদ্র তীরে ভলিবল খেলা, রাশিয়ার ন্যাড়া মাথার দল, উদার পন্থী লোকজন, সন্ত্রাস বাদী যোদ্ধা – এই সব একেবারেই মেয়ে সুলভ নয় এমন আগ্রহের পৃথিবীর কথা লিখেছেন আলিসা গানিয়েভা. উরালের লেখিকা পলিনা ক্লিউকিনা গ্রামের দাদু ও দিদিমাদের কথা লিখেছেন, আর চিচনিয়ার আর্সলান হাসাবভ হঠাত্ দেখা হওয়া লোকেদের সঙ্গে কথোপকথনের মধ্য দিয়ে জীবনের মানে খোঁজার কথা লিখেছেন. সাহিত্য সমালোচক লেভ দানিলকিন বলেছেন: "গত পাঁচ বছর ধরে দেখা যাচ্ছে যে এক বিশাল সাহিত্যিক বিস্ফোরণ ঘটেছে, তাই এক পাহাড় প্রমাণ চিন্তার খোরাক জুটেছে".

"১৯৯০ সালে রাশিয়ার সমাজে একটা দিক ভ্রান্তি দেখা গিয়েছিল, কেউই ব্যক্তির আত্ম পরিচয়ের কোন পদ্ধতি খুঁজে পাচ্ছিলেন না. ফুটবলের জাতীয়তা বাদ, গ্রাহকের মনোবৃত্তি – এই সবই দুধের স্বাদ ঘোলে মেটানোর প্রচেষ্টা, মানুষের একটা অন্য কিছুর প্রয়োজন ছিল. আর বর্তমানের সাহিত্য এক রকম ভাবে মানুষকে নিজেকে আবিষ্কারের একটা ধরন খুঁজে দিয়েছে. এই সব লেখার শিল্প গত উত্কর্ষ যদিও দেশের অতি উচ্চ ঐতিহ্যের সঙ্গে না ও মেলে তবুও তা বর্তমানে সমাজ এখানে যে সব প্রশ্নের সামনে এসে দাঁড়িয়েছে, তার একটা উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করেছে".

অল্পবয়সীরা এই সব উত্তর খুঁজছে, বাস্তবের দিকে গভীর মনোযোগ দিয়ে দেখে, কেউ এর মধ্যে আবার ম্যাজিক বাস্তবের অংশ যোগ করে দিয়েছেন. এই ধরনের রচনা যাঁরা লিখেছেন, তাঁদের মধ্যে গোগোল, বুলগাকভ রয়েছেন. আর আমাদের বর্তমানের সবচেয়ে বিখ্যাত যাদুকরী লেখক বলে মনে করা হয়েছে সের্গেই লুকিয়ানেঙ্কো কে. তিনি কাল্পনিক উপন্যাস লেখায় খুবই নাম করেছেন, তাঁর রচিত "চৌ প্রহরা", বিশেষত তা সিনেমা হওয়ার পরে আরও বিখ্যাত হয়েছে. তিনি রেডিও রাশিয়ার সাংবাদিককে এ বারের উত্সবের সাহিত্যের বিশেষত্ব, যা এই উত্সবকে আলাদা এক স্বাদ দিয়েছে, তা নিয়ে তাঁর মত বলেছেন:

"একটা ধারণা আছে যে, কাল্পনিক উপন্যাস কোন সিরিয়াস সাহিত্যই নয়, স্রেফ মনোরঞ্জনের জন্য, ফালতু ব্যাপার, কিন্তু তা স্বত্ত্বেও রাশিয়ার সাহিত্যে এই ধরনের রটনা এক অনবদ্য অংশ নিয়ে রয়েছে, এই ধরনের দিকে অনেক ধ্রুপদী লেখকই তাঁদের মনোযোগ দিয়েছেন. আমি মনে করি এর মধ্যে দিয়ে ভবিষ্যতের দিকে জাতির লক্ষ্যকে ধরতে পারা যায়, মানুষের স্বপ্ন দেখার ক্ষমতা ও নিজের কাছে এক অন্য নতুন বিশ্বের ধারণা করতে পারা যায়. কাল্পনিক উপন্যাসের মধ্য দিয়ে দার্শনিকতা আনা যায়, অংশ থেকে দূরে যাওয়া যায় আর কিছু বিশ্বের সার্বজনিক সমস্যাকে বিচার করা যায়".

আর এটাই হল "কথা যখন কাজ করে".