আইসল্যান্ডের আগ্নেয় গিরি "এইয়াফিয়াতলাইকুদুল" যা অনেক দিন ধরেই কোন রকম উদ্গীরণ করছিল না তা আবার জেগে উঠেছে. আগ্নেয় গিরি থেকে ছাই উপরে উঠছে প্রায় ৩ থেকে সাড়ে ৪ হাজার মিটার পর্যন্ত, তবুও ইউরোপীয় সংঘের পরিবহন মন্ত্রীরা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ইউরোপের উপর বিমান চলাচল ব্যবস্থা আবার শুরু করার.

    এই সিদ্ধান্ত যদিও সব দেশ সমর্থন করে নি, ফিনল্যান্ড ও গ্রেট ব্রিটেন এখনও উড়ান বন্ধ রেখেছে. আর সুইজারল্যান্ড ও রাশিয়া নিজেদের আকাশ সীমা খোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে. শেষ পর্যন্ত পাওয়া খবর অনুযায়ী এরোফ্লোট ঠিক করেছে তাদের নিয়মিত উড়ান আবার মিলান, ভেনিস, নিত্স, ইজিপ্ট ও তুরস্কের বিমান বন্দর গুলি থেকে চালু করার. পশ্চিম ইউরোপের চেয়ে রাশিয়া এই আগ্নেয় গিরির ধুলো থেকে কম ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে, রাশিয়ার আবহাওয়া দপ্তর "রসগিদরোমেত" এর প্রধান রোমান ভিলফান্দ এই প্রসঙ্গে বলেছেন:

    "যদিও আগ্নেয় গিরি থেকে ছাই অনেক উপরেই উঠছে, তবুও তা ৫ কিলোমিটারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে, এক্ষেত্রে ঘনত্বই সব চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ. আইসল্যান্ডের আগ্নেয় গিরির সক্রিয়তার ঘনত্ব আমাদের দেশের উপরে পশ্চিম ইউরোপের তুলনায় খুব কমই হয়েছে".

    এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের কারণে শুধুমাত্র বিমান চলাচল ব্যবস্থারই ক্ষতি হয় নি, গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ঘটনা ও হতে পারে নি. অংশতঃ রাশিয়া ন্যাটো পরিষদে রাশিয়ার সামরিক ডকট্রিন নিয়ে আলোচনা করা হবে এই প্রথমবার ভিডিও কনফারেন্স হিসাবে, এটাকে অশরীরী পরিস্থিতিতে নিয়ে যাওয়ার কারণ হল রাশিয়ার নিরাপত্তা পরিষদের উপ মহা সচিব ইউরি বালুয়েভস্কি ব্রাসেলস শহরে উড়ে যেতে পারছেন না.

    "এইয়াফিয়াতলাইকুদুল" আগ্নেয় গিরি জেগে উঠে, গ্রেট ব্রিটেনের এক সদ্য বিবাহিত দম্পতিকে তাদের নিকটাত্মীয়দের সঙ্গে বিবাহের অনুষ্ঠানও করতে দেয় নি, তারা মধু চন্দ্রিমা যাপনে গিয়েছিলেন দুবাইতে, ফলে দেশে আর ফেরা হয় নি. আপাততঃ ইন্টারনেট কনফারেন্স করে তারা তাদের লন্ডনের অতিথিদের সাথে সম্ভাষণ বিনিময় করে পরিস্থিতি থেকে রেহাই পেয়েছেন. আইসল্যান্ডের আগ্নেয় গিরির উদ্গীরণে ইউরোপের অর্থনীতির প্রভূত ক্ষতি হয়েছে, বাধ্য হয়ে উড়তে না পারার ফলে ইউরোপের বিমান পরিবহন কোম্পানী গুলির ক্ষতির পরিমান প্রতি দিন একের চতুর্থাংশ বিলিয়ন ডলার হচ্ছে.

    ১৪ই এপ্রিল থেকে এই "এইয়াফিয়াতলাইকুদুল" নামের কঠিন উচ্চারণের আগ্নেয় গিরি, যা মনে হয়েছিল যে, বোধহয় আর জাগবে না, তা জেগে উঠে নানা রকমের আশ্চর্য কাণ্ড ঘটিয়ে চলেছে. আইসল্যান্ডের বিশ্ববিদ্যালয়ের আগ্নেয় গিরি বিশারদ নিলস্ ওস্কারসোন মনে করেন যে, এই আগ্নেয় গিরি জেগে ওঠায় তার পাশের আরও শক্তিশালী আগ্নেয় গিরি কাতলাও জেগে উঠতে পারে. সেই রকমই হয়েছিল ১৭শ ও ১৯শ শতকে. কাতলা জেগে উঠেছিল পাশের আগ্নেয় গিরির উদ্গীরণ থেমে যাওয়ার পর এবং তা ছিল ১০০ গুণ বেশী.