রাশিয়ার পার্লামেন্টের উচ্চ কক্ষ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সেনেটের আন্তর লোকসভা দলের ওয়াশিংটনের আলোচনার মুখ্য বিষয় হয়েছে নতুন রণনৈতিক পারমানবিক অস্ত্রসজ্জা সংক্রান্ত চুক্তি গ্রহণের সমস্যা. এই দলের সহ চেয়ারম্যান পদে রয়েছেন মার্কিন সেনেটের ও রাশিয়ার পার্লামেন্টের আন্তর্জাতিক পরিষদের দুই প্রধান বেন নেলসন এবং মিখাইল মার্গেলভ. এই বিষয়ে আমাদের রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক ভিক্তর এনিকিয়েভ মত প্রকাশ করেছেন.

     রণনৈতিক পারমানবিক অস্ত্রসজ্জা সংক্রান্ত চুক্তি এত অল্প সময়ে তৈরী করা হয়েছে যে তাকে ওয়াশিংটন ও মস্কোর রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সাফল্য বলা যেতে পারে. শুধুশুধুই তো আর একে অনেকেই ঐতিহাসিক বলছেন না. কিন্তু সত্যই তা সে রকম বলা যাবে যদি দুই দেশই এই চুক্তিকে গ্রহণ করে.

    রাশিয়াতে এই কাজ করবে পার্লামেন্টের উভয় কক্ষ. আর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেত্রে শুধু সেনেটের সদস্যরা. কিন্তু বর্তমানে মস্কোতে এই চুক্তি গ্রহণ করার কাজকে বেশী নির্মেঘ বলেই মনে হচ্ছে. প্রশাসনিক দল অর্থাত্ ঐক্যবদ্ধ রাশিয়া – দেশের দুই পার্লামেন্টেই অধিকাংশ আসনে রয়েছে. ওয়াশিংটনে পরিস্থিতি অনেক জটিল. এই চুক্তির জন্য যথেষ্ট সংখ্যক সদস্যের মধ্যে অধিকাংশের ভোটের প্রয়োজন, অর্থাত্ ৬৭ জন সেনেটের সদস্য. গণতান্ত্রিক দলের সেই পরিমানে সদস্য নেই, সুতরাং তাদের দলে অন্ততঃ ১০ থেকে ১৫ জন প্রজা তান্ত্রিক দলের সদস্যকে টানতে হবে. এই কাজ খুব সোজা নয়. যদিও রাষ্ট্রপতি বারাক ওবামা এর মধ্যেই ব্যাখ্যা করার কাজ শুরু করে দিয়েছেন. প্রসঙ্গতঃ তিনি আস্থা প্রকাশ করেছেন যে, তা সাফল্য মণ্ডিত হবেই. এ ক্ষেত্রে আশা ব্যঞ্জক হল প্রজা তান্ত্রিক দলের সেনেটে পররাষ্ট্র বিষয়ে পরিষদের অত্যন্ত প্রভাব শালী সদস্য রিচার্ড লুগার প্রাগে স্বাক্ষরিত চুক্তিকে সমর্থন করেছেন. যদিও এখনও খুব একটা পরিষ্কার নয় যে, আমেরিকার আইন প্রণেতারা রাষ্ট্রপতি মেদভেদেভের একই সঙ্গে রাশিয়া ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এই দুই দেশের পার্লামেন্টে চুক্তি গ্রহণের সম্বন্ধে কি রকম প্রতিক্রিয়া দেখাবেন. রাশিয়ার নেতার সহকারী সের্গেই প্রিখোদকো ব্যাখ্যা করেছেন যে, এখানে বলা হয় নি যে একই দিনে করতেই হবে, কিন্তু নির্দিষ্ট সময়ের কাঠামোর মধ্যে তা করতেই হবে. গত সপ্তাহে বিখ্যাত রাজনৈতিক কেন্দ্র ব্রুকিংস ইনস্টিটিউটে বক্তৃতা দেওয়ার সময়েও দিমিত্রি মেদভেদেভ আমেরিকার সেনেটর দের এই চুক্তি সমর্থন করতে আহ্বান করেছেন.

    তাঁরা যে বুদ্ধির কাজ করবেন সেই বিষয়ে আস্থা রাখার মতো ভিত্তি আছে. কারণ দুই দেশের একের তৃতীয়াংশ পারমানবিক অস্ত্র কমলে তাতে অর্থনৈতিক ভাবে লাভই হবে, আর দুই দেশের মধ্যে ভরসা বৃদ্ধি হবে. আর তাছাড়া বিশ্বের নিরাপত্তা, স্থিতিশীলতা ও ঐক্য বৃদ্ধির জন্যও তার প্রভাব অনস্বীকার্য. সুতরাং আলোচনা যা দুই দেশের আইন প্রণেতারা করছেন, তার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য গুরুত্বপূর্ণ এবং ভাল. প্রধান হল, যেন দুই পক্ষ শুধুমাত্র একে অপরকে স্রেফ না শোনে, যেন বুঝতেও পারে.